স্পোর্টস ডেস্ক: বদলি খেলোয়াড় পাপে গুইয়ের জোড়া দুর্দান্ত গোলের সুবাদে ১০ জনের ইরাককে ৫-০ গোলে বিধ্বস্ত করেছে সেনেগাল। শুক্রবার ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘আই’-এর শেষ ম্যাচে বড় এই জয় তুলে নিয়ে সেরা তৃতীয় স্থানধারী দল হিসেবে শেষ ৩২-এ জায়গা পাওয়ার আশা জিইয়ে রাখল আফ্রিকার প্রতিনিধিরা।
গ্রুপ পর্ব শেষ করে সেনেগাল তৃতীয় স্থানে রয়েছে। তাদের গোল ব্যবধান এখন প্লাস-২, যা বর্তমানে তৃতীয় স্থানধারী দলগুলোর মধ্যে পঞ্চম সেরা। তবে তাদের নিচে থাকা চারটি দলের এখনো একটি করে ম্যাচ বাকি থাকায় শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে সাদিও মানেদের দলকে।
ম্যাচের চতুর্থ মিনিটেই সেনেগালকে এগিয়ে দেন হাবিব দিয়ারা। তখনও দুই দলই পূর্ণ শক্তিতে খেলছিল। তবে ১৩তম মিনিটে বড় ধাক্কা খায় ইরাক। গোলের স্পষ্ট সুযোগ নষ্ট করার দায়ে ইরাকের ডিফেন্ডার রেবিন সুলাকাকে লাল কার্ড দেখান ইংলিশ রেফারি অ্যান্থনি টেলর।
প্রথমে সুলাকাকে হলুদ কার্ড দেখানো হলেও ভিডিও সহকারী রেফারির (ভিএআর) পরামর্শে রিপ্লে দেখে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন টেলর। সাদিও মানেকে পেছন থেকে টেনে ফেলার ঘটনায় শেষ পর্যন্ত সরাসরি লাল কার্ড পান ইরাকি ডিফেন্ডার।
একজন বেশি খেলোয়াড় নিয়ে মাঠে থাকলেও প্রথমার্ধের বাকি সময়ে আর গোল করতে পারেনি সেনেগাল। তবে বিরতির পর পুরোপুরি বদলে যায় ম্যাচের চিত্র।
৫৬তম মিনিটে লামিন কামারার দারুণ প্রচেষ্টায় নিজের তৃতীয় বিশ্বকাপ গোল করেন ইসমাইলা সার। ইরাকের রক্ষণভাগে চাপ সৃষ্টি করে বল কেড়ে নেওয়ার পর কামারা বাইলাইন থেকে নিচু ক্রস দিলে সহজেই বল জালে পাঠান এই ফরোয়ার্ড।
এরপর বদলি হিসেবে মাঠে নেমেই ম্যাচে প্রভাব ফেলেন পাপে গুইয়ে। ৫৯তম মিনিটে সারের পাস থেকে বক্সের ডান প্রান্তে বল পেয়ে বাঁ পায়ের দুর্দান্ত বাঁকানো শটে বল জড়ান জালের ওপরের কোণে।
৭১তম মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোলটিও করেন গুইয়ে। ইলিমান এনদিয়ায়ের পাস ধরে বজ্রগতির হাফ-ভলিতে ইরাকের গোলরক্ষক আহমেদ বাসিলকে পরাস্ত করেন তিনি।
ম্যাচের ৮২তম মিনিটে দূরপাল্লার আরেকটি চমৎকার গোলে জয়ের ব্যবধান ৫-০ করেন ইলিমান এনদিয়ায়ে। এর মধ্য দিয়ে বড় জয় নিশ্চিত করে সেনেগাল।
এই পরাজয়ের ফলে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ খেলতে আসা ইরাকের আসর শেষ হয়ে গেল গ্রুপ পর্বেই। ১৯৮৬ সালের পর এটিই ছিল বিশ্বকাপের মূল পর্বে তাদের প্রথম অংশগ্রহণ।