স্টাফ রিপোর্টার: বাংলাদেশের জ্বালানি, অবকাঠামো, প্রযুক্তি, শিক্ষা, পরিবেশ ও শিল্পখাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে মোট ৯ দশমিক ২১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে চীনের ১১টি শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান।
চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে গত ২৫ জুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এসব প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিনিয়োগ প্রস্তাব তুলে ধরেন। বৈঠকে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
শনিবার (২৭ জুন) সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে বিডা চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেন, নতুন নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে। এই বার্তা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে ইতিবাচকভাবে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়েছে, যার ফলে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি পেয়েছে।
তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো পাঁচ বছরের করনীতি-সংক্রান্ত পূর্বাভাস বা ‘ট্যাক্স আউটলুক’ প্রকাশ করেছে, যা বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণে সহায়ক হবে এবং অর্থনৈতিক নীতির ধারাবাহিকতার বার্তা দেবে।
বৈঠকে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর দেওয়া বিনিয়োগ প্রস্তাবের মধ্যে সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ প্রস্তাব এসেছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) প্রকল্পে। এ খাতে ৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের আগ্রহ দেখিয়েছে সিচুয়ান রোড অ্যান্ড ব্রিজ গ্রুপ কোম্পানি লিমিটেড।
এছাড়া পায়রা বন্দর শিল্পাঞ্চলে ই-বর্জ্য পুনর্ব্যবহার ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্পে ১ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে ঝংসিন এনভায়রনমেন্টাল প্রোটেকশন গ্রুপ।
ওয়েস্ট-টু-এনার্জি প্ল্যান্ট নির্মাণে ৮৯০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে সাংহাই এসইউএস এনভায়রনমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড। অন্যদিকে, মোংলা বন্দর অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়ন ও লজিস্টিকস হাব গড়ে তুলতে ৬৫০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন করপোরেশন (সিসিইসিসি)।
জ্বালানি খাতে চায়না ফিউচার এনার্জি গ্রুপ হোল্ডিং লিমিটেড বাংলাদেশের গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান ও উন্নয়নে ২৫০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে। একই পরিমাণ বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে শেনজেন কাইফা টেকনোলজি কোম্পানি, যারা দেশে স্মার্ট বৈদ্যুতিক মিটার উৎপাদন করতে চায়।
এছাড়া কোল্ড-চেইন লজিস্টিকস, পুনর্ব্যবহৃত তুলা ও সুতা উৎপাদন, লিথিয়াম ব্যাটারি উৎপাদন, রেলওয়ের যন্ত্রাংশ সংযোজন, আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয় ও কারিগরি শিক্ষা শিল্পপার্ক নির্মাণ এবং চীনা ভেষজ উদ্ভিদভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ প্রস্তাব এসেছে।
বিডার তথ্য অনুযায়ী, এসব বিনিয়োগ বাস্তবায়িত হলে দেশে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং শিল্পায়নের গতি আরও ত্বরান্বিত হবে। বিশেষ করে বন্দর, জ্বালানি, পরিবেশবান্ধব শিল্প ও অবকাঠামো খাতে এই বিনিয়োগ দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি