| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ইউস্টাকিওর জাদুকরি ভলিতে শেষ ষোলোয় কানাডা

reporter
  • আপডেট টাইম: জুন ২৯, ২০২৬ ইং | ০৩:১৮:২৯:পূর্বাহ্ন  |  ১৫১৫ বার পঠিত
ইউস্টাকিওর জাদুকরি ভলিতে শেষ ষোলোয় কানাডা

স্পোর্টস ডেস্ক: বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে নাটকীয় এক জয় তুলে নিয়ে ইতিহাস গড়েছে কানাডা। নির্ধারিত সময়ের অতিরিক্ত দ্বিতীয় মিনিটে স্টিফেন ইউস্টাকিওর দুর্দান্ত ভলিতে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ১-০ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে উত্তর আমেরিকার দেশটি।

লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণে আধিপত্য বিস্তার করে কানাডা। যদিও প্রথমার্ধে একাধিক সুযোগ পেয়েও গোলের দেখা পায়নি তারা। ২২তম মিনিটে স্টিফেন ইউস্টাকিওর কর্নার থেকে পাওয়া সহজ সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন ডিফেন্ডার ডেরেক কর্নেলিয়াস। অরক্ষিত অবস্থায় হেড করলেও দক্ষিণ আফ্রিকার গোলরক্ষক রনওয়েন উইলিয়ামস সহজেই বলটি ধরে ফেলেন।

এরপর ৪৪তম মিনিটে নিশ্চিত গোল থেকে বঞ্চিত হয় কানাডা। ইউস্টাকিওর কর্নার থেকে মোইসে বোম্বিতোর শক্তিশালী হেড প্রায় জালে জড়িয়েই যাচ্ছিল, কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকার ডিফেন্ডার অউব্রি মোদিবা গোললাইন থেকে অসাধারণ দক্ষতায় বল ফিরিয়ে দেন। ফিরতি বলে তাজন বুকানানের শটও বুক দিয়ে প্রতিহত করেন উইলিয়ামস।

প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে পেনাল্টির জোরালো দাবি তোলে কানাডা। রিচি লারেয়া বক্সের ভেতরে খুলিসো মুদাউয়ের চ্যালেঞ্জে পড়ে গেলেও রেফারি জোয়াও পিনহেইরো খেলা চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। এমনকি ভিএআর থেকেও তাকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য মনিটরে ডাকা হয়নি, যা নিয়ে কানাডা শিবিরে অসন্তোষ দেখা দেয়।

দ্বিতীয়ার্ধেও দক্ষিণ আফ্রিকার রক্ষণভাগে চাপ ধরে রাখে কানাডা। অন্যদিকে টেবোহো মোকোয়েনা, প্যাট্রিক মাসেকো ও ওসউইন আপোলিসদের নেতৃত্বে দক্ষিণ আফ্রিকা কয়েকটি পাল্টা আক্রমণ গড়ে তুললেও সেগুলো তেমন বিপজ্জনক হয়ে ওঠেনি।

ম্যাচ যখন অতিরিক্ত সময়ের দিকে এগোচ্ছিল এবং সবাই অতিরিক্ত ৩০ মিনিটের প্রস্তুতি নিচ্ছিল, ঠিক তখনই আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। নির্ধারিত সময়ের অতিরিক্ত দ্বিতীয় মিনিটে ডান দিক থেকে আলিস্টেয়ার জনস্টনের পাঠানো বল দক্ষিণ আফ্রিকার ডিফেন্ডাররা বক্সের বাইরে ক্লিয়ার করলেও সেটি গিয়ে পড়ে ইউস্টাকিওর সামনে। বক্সের ঠিক বাইরে থেকে বুক দিয়ে বল নিয়ন্ত্রণ করে এক বাউন্সে দুর্দান্ত ভলিতে বল জড়িয়ে দেন জালের নিচের বাঁ কোণে। অসাধারণ এই শটে কোনো সুযোগই পাননি গোলরক্ষক উইলিয়ামস।

গোলের পর উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে কানাডার খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ এবং গ্যালারিতে উপস্থিত সমর্থকেরা। ইউস্টাকিওর সেই গোলই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়।

গোল হজমের পর শেষ মুহূর্তে সমতায় ফেরার মরিয়া চেষ্টা চালায় দক্ষিণ আফ্রিকা। অতিরিক্ত সময়ের শেষ মিনিটগুলোতে একের পর এক আক্রমণ চালালেও কানাডার রক্ষণভাগ দৃঢ়তার সঙ্গে সব প্রচেষ্টা প্রতিহত করে। শেষ মুহূর্তে গোলরক্ষক ম্যাক্সিম ক্রেপো একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্রস তালুবন্দি করলে নিশ্চিত হয়ে যায় কানাডার ঐতিহাসিক জয়।

এই জয়ের মাধ্যমে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে জায়গা করে নিল কানাডা। পরবর্তী পর্বে তাদের প্রতিপক্ষ হবে মরক্কো অথবা নেদারল্যান্ডস।

ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, এটি কানাডার ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় অর্জন এবং বিশ্বমঞ্চে দেশটির উত্থানের এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

রিপোর্টার্স২৪/বাবি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪