| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আজ ইনুর মামলার রায়

reporter
  • আপডেট টাইম: জুন ৩০, ২০২৬ ইং | ০২:৩৪:০৬:পূর্বাহ্ন  |  ২৯৩ বার পঠিত
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আজ ইনুর মামলার রায়

স্টাফ রিপোর্টার: ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার রায় আজ ঘোষণা করা হবে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করবেন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং বিচারপতি নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

এর আগে গত ২২ জুন মামলাটির রায়ের জন্য দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল। তারও আগে গত ১৪ মে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের দীর্ঘ শুনানি শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখা হয়।

শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে অংশ নেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম এবং ফারুক আহাম্মদ। অন্যদিকে আসামিপক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী ও সিফাত মাহমুদ।

প্রসিকিউশনের দাবি, ইনুর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে এবং তার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হওয়া উচিত। অন্যদিকে আসামিপক্ষের দাবি, অভিযোগ প্রমাণে রাষ্ট্রপক্ষ ব্যর্থ হয়েছে এবং তারা ইনুর খালাস চেয়েছেন।

প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আন্দোলন দমনে উসকানি ও প্ররোচনা দিয়েছিলেন হাসানুল হক ইনু। তাদের দাবি, ইনুর প্ররোচনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সরকার বিভিন্ন ধ্বংসাত্মক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করে।

এছাড়া আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোটের অন্যতম শীর্ষ নেতা হিসেবে সংঘটিত অপরাধের জন্য ‘সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটি’ বা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দায়ও ইনুর ওপর বর্তায় বলে রাষ্ট্রপক্ষ যুক্তি উপস্থাপন করে।

শুনানির সময় প্রসিকিউশন শেখ হাসিনা ও ইনুর মধ্যকার একটি টেলিফোন কথোপকথনের রেকর্ড আদালতে উপস্থাপন করে। সেখানে জাসদ সভাপতিকে গণআন্দোলনকে ‘জঙ্গিবাদ’ আখ্যা দিয়ে তা দমনের পক্ষে অবস্থান নিতে দেখা যায় বলে রাষ্ট্রপক্ষ দাবি করে।

তবে আসামিপক্ষ বলেছে, ওই কথোপকথনে আন্দোলন দমনে গুলি চালানো, বোমাবর্ষণ, নির্যাতন কিংবা বলপ্রয়োগের কোনো নির্দেশ বা উসকানিমূলক বক্তব্য ছিল না। তাদের মতে, প্রসিকিউশনের উপস্থাপিত নথিপত্রেও ইনুর বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো নির্দেশ, ষড়যন্ত্র বা সহিংসতায় অংশগ্রহণের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

মামলাটিতে গত ১ ডিসেম্বর সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। এর আগে গত ২৫ সেপ্টেম্বর প্রসিকিউশন ট্রাইব্যুনালে ইনুর বিরুদ্ধে আটটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দাখিল করে। শুনানি শেষে ওইদিনই ট্রাইব্যুনাল অভিযোগগুলো আমলে নেন।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২৬ আগস্ট হাসানুল হক ইনু গ্রেফতার হন। পরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তথ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা ইনু দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী হিসেবে কুষ্টিয়ার নিজ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন।

এখন আলোচিত এই মামলার রায়ের দিকে রাজনৈতিক অঙ্গনসহ দেশজুড়ে ব্যাপক আগ্রহ নিয়ে তাকিয়ে আছে বিভিন্ন মহল।

রিপোর্টার্স২৪/বাবি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪