| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা এবারো শেষ ষোলতে যেতে পারলনা

reporter
  • আপডেট টাইম: জুন ৩০, ২০২৬ ইং | ০৬:২৩:৪০:পূর্বাহ্ন  |  ৩৪৭ বার পঠিত
চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা এবারো শেষ ষোলতে যেতে পারলনা

স্পোর্টস ডেস্ক: বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম বড় অঘটনের জন্ম দিয়ে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে বিদায় করেছে প্যারাগুয়ে। সোমবার রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচে নির্ধারিত ৯০ মিনিট ও অতিরিক্ত ৩০ মিনিট শেষে ১-১ সমতা থাকায় খেলা গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে ৪-৩ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে দক্ষিণ আমেরিকার দলটি।

নির্ণায়ক পেনাল্টিতে গোল করেন হোসে কানালে। তার সফল শটে প্যারাগুয়ের খেলোয়াড় ও সমর্থকদের উচ্ছ্বাসে ভেসে যায় স্টেডিয়াম। শেষ ষোলোতে তাদের প্রতিপক্ষ হবে শিরোপাপ্রত্যাশী ফ্রান্স অথবা সুইডেন।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটি প্যারাগুয়ের অন্যতম স্মরণীয় জয়। ২০১০ সালে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার পর এবারই প্রথম তারা আবারও বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে নিজেদের শক্ত অবস্থান জানান দিল।

মাত্র ৩৮ বছর বয়সী জার্মান কোচ জুলিয়ান নাগেলসমান বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের গত ৪০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম বয়সী কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে তিনি আক্রমণাত্মক একাদশ সাজান এবং প্রথমবারের মতো শুরুর একাদশে সুযোগ দেন দলের টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা ডেনিজ উন্ডাভকে।

গ্রুপ পর্বে তিন গোল ও দুটি অ্যাসিস্ট করা উন্ডাভ ম্যাচের শুরুতেই গোলের চেষ্টা করেন। প্রত্যাশামতো বলের নিয়ন্ত্রণ ছিল জার্মানির কাছেই এবং অধিকাংশ সময় প্যারাগুয়েকে নিজেদের অর্ধেই আটকে রাখে ইউরোপের দলটি।

তবে বলের দখল কম থাকলেও রক্ষণে ছিল দুর্দান্ত শৃঙ্খলা। প্যারাগুয়ের ফুটবলাররা ধৈর্য ধরে জার্মান আক্রমণ সামাল দেন। প্রথমার্ধে জার্মানি প্রতিপক্ষের তুলনায় অনেক বেশি আক্রমণ সাজালেও গোলমুখে একটি শটও নিতে পারেনি।

ম্যাচের ৩৫ মিনিট পর্যন্ত জার্মানি ২৪৪টি পাস সম্পন্ন করে, যেখানে প্যারাগুয়ের পাস ছিল মাত্র ৩১টি। কিন্তু এত আধিপত্যের পরও গোলের দেখা পায়নি তারা।

উল্টো ম্যাচ পরিকল্পনা নিখুঁতভাবে বাস্তবায়ন করে এগিয়ে যায় প্যারাগুয়ে। নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ফেরা মিগুয়েল আলমিরনের আক্রমণভাগের দারুণ সমন্বয় থেকে ডান প্রান্ত দিয়ে তৈরি হওয়া আক্রমণে জুলিও এনসিসো শক্তিশালী হেডে জাল খুঁজে নেন। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এটি ছিল প্যারাগুয়ের ইতিহাসের প্রথম গোল।

স্টেডিয়ামে উপস্থিত অল্পসংখ্যক প্যারাগুয়ে সমর্থক উল্লাসে ফেটে পড়েন, আর সাদা জার্সিতে ভরা জার্মান সমর্থকদের গ্যালারিতে নেমে আসে নীরবতা।

জার্মানদের হতাশা আরও বাড়িয়ে দেয় একটি বিরল পরিসংখ্যান। বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথমার্ধে প্রতিপক্ষের চেয়ে ২৫৩টি বেশি পাস সম্পন্ন করেও পিছিয়ে থেকে বিরতিতে যাওয়ার নজির এর আগে ছিল না।

দ্বিতীয়ার্ধের নবম মিনিটে সমতায় ফেরে জার্মানি। ফ্লোরিয়ান উইর্টজের ভাসানো ক্রস থেকে কাই হাভার্টজ নিখুঁত হেডে গোল করে ম্যাচে ফেরান চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।

৭৮তম মিনিটেও প্রায় একই ধরনের আক্রমণ থেকে গোলের সুযোগ তৈরি হয়। তবে এবার হাভার্টজের হেড দুর্দান্ত দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিল।

অতিরিক্ত সময়ের ১০২তম মিনিটে জনাথন তাহের হেডে জার্মানি গোল পেলেও দীর্ঘ ভিএআর পর্যালোচনার পর গোলরক্ষকের ওপর ফাউলের অভিযোগে সেটি বাতিল করা হয়।

শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হয় টাইব্রেকারে। জার্মানির হয়ে কাই হাভার্টজ, নিক ভলটেমাডে ও জনাথন তাহ স্পট কিক থেকে ব্যর্থ হন। অন্যদিকে প্যারাগুয়েও দুটি শট মিস করলেও শেষ কিকে হোসে কানালে স্নায়ুচাপ সামলে জালের দেখা পান এবং নিশ্চিত করেন দলের ঐতিহাসিক জয়।

রিপোর্টার্স২৪/বাবি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪