টাঙ্গাইল প্রতিনিধি: পানি বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলায় যমুনা নদীতে শুরু হয়েছে তীব্র ভাঙন। এক ঘণ্টার ব্যবধানে উপজেলার সলিমাবাদ ইউনিয়নের পশ্চিমপাড়া এলাকার প্রায় অর্ধশতাধিক বসতবাড়ি, একটি মসজিদ, বিস্তীর্ণ ফসলি জমি ও অসংখ্য গাছপালা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে পাকা সড়ক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় হাটবাজার।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সরেজমিনে ভাঙনকবলিত এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, যমুনার প্রবল স্রোতে মুহূর্তের মধ্যেই নদীতীরবর্তী এলাকা ধসে পড়ছে। ঘরবাড়ি ও শেষ সম্বল রক্ষায় নদীপাড়ের মানুষজন তাদের আসবাবপত্র ও গৃহস্থালি সামগ্রী নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।
বাস্তুভিটা হারিয়ে অনেক পরিবার আশ্রয় নিয়েছে আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে, আবার কেউ কেউ খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ভাঙন আতঙ্কে রয়েছেন নদীতীরবর্তী কয়েক হাজার মানুষ। স্থানীয়দের দাবি, গত কয়েক দিনের ধারাবাহিক ভাঙনে পশ্চিম সলিমাবাদ এলাকার শত শত বিঘা ফসলি জমি, বসতভিটা ও বাড়িঘর নদীগর্ভে চলে গেছে।
এ সময় কুয়েত সরকারের অর্থায়নে নির্মিত প্রায় ২২ বছর পুরোনো একটি মসজিদও যমুনার গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে এ এলাকায় ভাঙন দেখা দিলেও তা প্রতিরোধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয় না। ফলে বারবার বসতভিটা সরিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।
ভাঙনে সর্বস্ব হারানো স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল হক (৫০) জানান, তার ১৩ শতাংশ জমির ওপর নির্মিত একমাত্র বসতবাড়িটি নদীগর্ভে চলে গেছে। বর্তমানে তিনি খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছেন।
আরেক ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দা সুফিয়ান (৫২) বলেন, তার একমাত্র ছাপড়া ঘর ও আশপাশের গাছপালা যমুনার ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা শাহ জামাল জানান, মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে তার প্রায় ১০ বিঘা ফসলি জমি ও বসতভিটা নদীতে তলিয়ে গেছে। কিছুই রক্ষা করতে পারেননি তিনি। একই ধরনের ক্ষতির শিকার হয়েছেন কালাম, ছালাম, বাবুল, শাহ আলম, মতিন ও শাহিনসহ আরও অনেক পরিবার।
সলিমাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মনির হোসেন ভূঁইয়া বলেন, যমুনা নদীতে ভয়াবহ ভাঙন শুরু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ৩০ থেকে ৩৫টি পরিবার তাদের বসতভিটা হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা না হলে পশ্চিম সলিমাবাদ এলাকার বিস্তীর্ণ অংশ মানচিত্র থেকেই হারিয়ে যেতে পারে।
নাগরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. এরফান উদ্দিন জানান, সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী ভাঙন প্রতিরোধে পাঁচটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এসব প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন করা হবে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং তালিকা সম্পন্ন হলে তাদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব