| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

টাকা নয়, চাই আর কোনো মায়ের বুক খালি না হোক

reporter
  • আপডেট টাইম: Jul ২১, ২০২৬ ইং | ১১:৫৮:৩০:পূর্বাহ্ন  |  ৩১২৬ বার পঠিত
টাকা নয়, চাই আর কোনো মায়ের বুক খালি না হোক

স্টাফ রিপোর্টার: সরকার আমাদের ২০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা বলেছিল। কিন্তু আমরা এক টাকাও নিইনি। টাকা দিয়ে কী করবো? পৃথিবীর সব সম্পদ দিলেও কি আমার মেয়েকে ফিরিয়ে দেওয়া যাবে? আমি তো বলেছি, উল্টো টাকা দেব, শুধু এক সেকেন্ডের জন্য আমার মেয়েকে আমার বুকে ফিরিয়ে দিন।

মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় নিহত শিক্ষার্থী তাসনিম আফরোজ আয়মানের মা আয়েশা আক্তার এক বছর পরও এভাবেই স্মরণ করছেন তার হারিয়ে যাওয়া সন্তানকে। ৩৬ প্রাণহানির সেই মর্মান্তিক ঘটনার প্রথম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে রোববার (১৯ জুলাই) মোবাইল ফোনে কথা হয় তার সঙ্গে।

আয়েশা আক্তার বলেন, ক্ষতিপূরণ নয়, তাদের একমাত্র দাবি হলো দিয়াবাড়ির ওই স্কুলটি নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া। তার ভাষায়, এখনো স্কুলের ওপর দিয়ে বিমান উড়ে যায়। রানওয়ে আগে হয়েছে, স্কুল পরে। জায়গাটি এখনো ঝুঁকিপূর্ণ। আমার আয়মান তো আর ফিরবে না, কিন্তু ওর মতো শত শত শিশু এখনো সেখানে পড়ে। আমি চাই না আর কোনো মায়ের বুক এভাবে খালি হোক।

দুর্ঘটনার সময় ১০ বছর বয়সী তাসনিম আফরোজ আয়মান মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। বিমান বিধ্বস্তের পর গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চার দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে ২০২৫ সালের ২৫ জুলাই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

‘আম্মু, তুমি কাঁদবে না, বাবাকেও কাঁদতে দিও না'

হাসপাতালে কাটানো শেষ চার দিনের স্মৃতি তুলে ধরে আয়েশা আক্তার বলেন, আমার মেয়েটা খুব সাহসী ছিল। শরীরের গলা থেকে নিচ পর্যন্ত পুড়ে গিয়েছিল। সেই অবস্থাতেও আমাকে বলেছিল, আম্মু, আমার কিছু হয়নি। তুমি কাঁদবে না। বাবাকেও কাঁদতে দিও না।

তিনি জানান, নিজের যন্ত্রণা ভুলে আয়মান ছোট দুই বোনের খোঁজ নিয়েছিল। একই সঙ্গে আহত সহপাঠী ও শিক্ষকদের অবস্থাও জানতে চেয়েছিল। “চার দিন কষ্ট সহ্য করার পর শুক্রবার ভোরে ও আমাদের ছেড়ে চলে যায়,” বলেন তিনি।

স্মৃতি এড়াতে ছেড়েছেন বাসা

এক বছর পেরিয়ে গেলেও শোক কাটিয়ে উঠতে পারেনি পরিবারটি। দুর্ঘটনার পর উত্তরার বাসা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে তারা। আয়মানের মা বলেন, আমরা আর কখনো ওই বাসায় ফিরিনি। বাসাটি তালাবদ্ধ করে চলে এসেছি। ওর বাবা আজ পর্যন্ত সেই গলিতেও যাননি।

তিনি জানান, আয়মানের ব্যবহৃত খেলনা, ক্লে, পানির বোতল, খাতা-কলমসহ সবকিছু আগের মতোই পড়ে আছে। দুর্ঘটনার দিন সকালে স্কুলে যাওয়ার সময় যে পোশাক পরে বেরিয়েছিল, সেটিও এখনো ঘরে ঝুলছে। ওগুলো দেখার সাহস আমাদের হয় না, বলেন তিনি।

যে ট্র্যাজেডি নাড়া দিয়েছিল দেশকে

২০২৫ সালের ২১ জুলাই দুপুর সোয়া ১টার দিকে উত্তরার দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের হায়দার আলী ভবনের ওপর বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি এফ-৭ বিজিআই প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়। মুহূর্তেই আগুনে পুড়ে যায় ভবনের একটি অংশ।

এই দুর্ঘটনায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও পাইলট ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকির ইসলামসহ মোট ৩৬ জন নিহত হন এবং শতাধিক ব্যক্তি আহত হন। হতাহতদের অধিকাংশই ছিল শিশু শিক্ষার্থী। মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি দেশের অন্যতম ভয়াবহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান-সংক্রান্ত দুর্ঘটনা হিসেবে স্মরণীয় হয়ে আছে।

এক বছর পরও নিহতদের স্বজনদের দাবি, ক্ষতিপূরণ নয়—এ ধরনের দুর্ঘটনা যাতে আর কখনো না ঘটে, সে জন্য প্রয়োজন কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা।

রিপোর্টার্স২৪/বাবি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪