| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

রাজধানীর ১২০ মোড়ে সেমি-অটোমেটিক ট্রাফিক সিগন্যাল

reporter
  • আপডেট টাইম: Jul ২১, ২০২৬ ইং | ১২:৩১:৫৭:অপরাহ্ন  |  ৩০৮৪ বার পঠিত
রাজধানীর ১২০ মোড়ে সেমি-অটোমেটিক ট্রাফিক সিগন্যাল

স্টাফ রিপোর্টার: রাজধানীর ১২০টি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে আগামী ছয় মাসের মধ্যে সেমি-অটোমেটিক ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। বর্তমানে ১২টি মোড়ে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে এবং আগামী এক মাসের মধ্যে এ সংখ্যা ৬০-এ উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। পাশাপাশি যানজট নিরসনে গত এক বছরে নগরীর ৭৫টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সড়ক ডাইভারশন ও প্রকৌশলগত পরিবর্তন আনা হয়েছে।

ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) আনিছুর রহমান সম্প্রতি রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, বর্তমানে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগে প্রায় ৪ হাজার ১০০ সদস্য কর্মরত থাকলেও ছুটি, প্রশিক্ষণ ও অসুস্থতার কারণে প্রতিদিন গড়ে ৩ হাজার ৬০০ থেকে ৩ হাজার ৭০০ সদস্য রাজধানীর ৬৬৮টি ট্রাফিক পয়েন্টে দায়িত্ব পালন করেন। এর মধ্যে প্রায় ২৫টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ২৪ ঘণ্টা তিন পালায় দায়িত্ব পালন করতে হয়।

৭৫ স্থানে সড়ক পরিবর্তনে ইতিবাচক ফল

আনিছুর রহমান জানান, সীমিত জনবল দিয়েই গত প্রায় এক বছরে রাজধানীর ৭৫টি পয়েন্টে ডাইভারশন, ইউ-টার্ন ব্যবস্থা ও সড়ক নকশায় বিভিন্ন পরিবর্তন আনা হয়েছে। এসব পরিবর্তনের ফলে কোথাও নতুন করে বড় ধরনের যানজট সৃষ্টি হয়নি; বরং যান চলাচলে ইতিবাচক উন্নতি দেখা গেছে।

তিনি উদাহরণ হিসেবে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের পশ্চিম প্রান্তে আসাদ গেটসংলগ্ন চার রাস্তার মোড়ের কথা উল্লেখ করেন। সেখানে সরাসরি চলাচল বন্ধ করে বাম দিকে ঘুরে ইউ-টার্নের ব্যবস্থা করায় যানবাহনের গতি স্বাভাবিক হয়েছে এবং ওই মোড়ে ট্রাফিক সদস্যের প্রয়োজনও কমে এসেছে।

একই ধরনের পরিবর্তন মোহাম্মদপুরের বসিলা, বনানীর কাকলী, মিরপুরের ইসিবি চত্বর ও কালশী ফ্লাইওভারের নিচেও বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

১২০ মোড়ে আধুনিক সিগন্যাল

ডিএমপির ট্রাফিক প্রধান বলেন, রাজধানীতে পর্যায়ক্রমে সেমি-অটোমেটিক ট্রাফিক সিগন্যাল চালু করা হচ্ছে। বর্তমানে ১২টি পয়েন্টে এ ব্যবস্থা রয়েছে। আগামী মাসের মধ্যে এটি ৬০টি এবং পরবর্তী ছয় মাসে ১২০টি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

তার ভাষ্য, বর্তমান সিস্টেমে প্রয়োজন অনুযায়ী সিগন্যালের সময় ম্যানুয়ালি পরিবর্তন করা যায়। ভবিষ্যতে উন্নত দেশের মতো অ্যালগরিদমভিত্তিক সমন্বিত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা চালুর লক্ষ্য রয়েছে, যেখানে যানবাহনের চাপ অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয়ভাবে সিগন্যালের সময় নির্ধারিত হবে এবং একাধিক মোড় পরস্পরের সঙ্গে সমন্বিতভাবে পরিচালিত হবে।

ভবিষ্যতে জিপিএসভিত্তিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা

আনিছুর রহমান জানান, দীর্ঘমেয়াদে জিপিএসভিত্তিক প্রযুক্তিনির্ভর ট্রাফিক নজরদারি ও ব্যবস্থাপনা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। তার মতে, শুধু জনবল বাড়িয়ে ঢাকার যানজট সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়; এর জন্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক ব্যবস্থাপনা অপরিহার্য।

বৃষ্টি ও সমন্বয়হীনতা বড় চ্যালেঞ্জ

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে নগরবাসী ট্রাফিক আইন মেনে চলায় যানজট কিছুটা কমেছে। তবে ভারী বৃষ্টিপাত, সড়ক অবরোধ, মিছিল-সমাবেশ এবং বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়হীন উন্নয়নকাজ এখনো যান চলাচলে বড় বাধা হয়ে রয়েছে।

তার অভিযোগ, অনেক সময় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো ট্রাফিক বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় না করেই রাস্তা কেটে উন্নয়নকাজ শুরু করে বা ট্রাফিক সিগন্যালের কেবল ক্ষতিগ্রস্ত করে, যার ফলে পুরো সিগন্যাল ব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে পড়ে।

ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বলেন, রাজধানীর যানজট নিরসনে শুধু ট্রাফিক পুলিশের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সব সরকারি সংস্থার কার্যকর সমন্বয় এবং সড়ক ব্যবহারকারীদের সচেতন অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি।

রিপোর্টার্স২৪/বাবি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪