ফরিদপুর প্রতিনিধি: ফরিদপুরে মধুমতি নদীতে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে শৌখিন খান নামে এক মৎস্যজীবী নিখোঁজ রয়েছেন। অভিযোগ, প্রতিপক্ষ মৎস্যজীবী জব্বার মোল্লার বৈঠার আঘাতে তিনি নদীতে পড়ে যান।
বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) দুপুর ২টা পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান চালালেও তার খোঁজ মেলেনি।
ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে ফরিদপুরের বোয়ালমারী ও মধুখালী উপজেলার সীমান্তবর্তী মাঝিপাড়া ঘাট এলাকায়, যা মাগুরা জেলার মহম্মদপুর উপজেলার সীমানার কাছাকাছি।
নিখোঁজ শৌখিন খান মাগুরা জেলার মহম্মদপুর উপজেলার দীঘা ইউনিয়নের পাল্লা চরপাড়া গ্রামের মৃত ছাত্তার খানের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, শৌখিন খান ও হুমায়ুন শেখ নামে দুই মৎস্যজীবী বুধবার রাত ১০টার দিকে নৌকা নিয়ে মধুমতি নদীতে মাছ ধরতে যান। একই সময়ে নওপাড়া গ্রামের জব্বার মোল্লা, রবিউল মোল্লা ও সানি শেখ একই স্থানে মাছ ধরছিলেন। রাত আনুমানিক পৌনে ৩টার দিকে শৌখিনদের নৌকা প্রতিপক্ষের পাতা জালের উপর দিয়ে চলে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। এর একপর্যায়ে জব্বার মোল্লা বৈঠা দিয়ে শৌখিনের মাথায় আঘাত করলে তিনি নদীতে পড়ে যান এবং নিখোঁজ হন।
ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত দুই দফায় উদ্ধার অভিযান চালায়।
ডুবুরি গনি আমিন জানান, “সকাল ৬টা থেকে ১০টা পর্যন্ত উদ্ধার কার্যক্রম চালাই, অক্সিজেন ফুরিয়ে যাওয়ায় কিছুক্ষণ বন্ধ রাখতে হয়। পরে আবার দুপুর ২টা থেকে অভিযান শুরু হয়, তবে এখনও নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধান মেলেনি।”
নিখোঁজ শৌখিন খানের স্বজন ও স্থানীয় লোকজন মাঝিপাড়া ঘাটে ভিড় করেন। সেখানে আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। শৌখিনের সহকর্মী হুমায়ুন শেখ জানান, “আমরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই বৈঠার আঘাতে শৌখিন নদীতে পড়ে যায়। সাথে সাথে আমরা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেই।”
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার বিষয়ে খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে এবং অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রিপোর্টার্স২৪/আরএইচ