| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

বিয়ের জন্য চাপ দেওয়ায় প্রেমিকাকে খুন করে পালান তরুণ

reporter
  • আপডেট টাইম: Jul ২৪, ২০২৬ ইং | ০০:৫৫:১৮:পূর্বাহ্ন  |  ১১৫৯৯ বার পঠিত
বিয়ের জন্য চাপ দেওয়ায় প্রেমিকাকে খুন করে পালান তরুণ

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি: স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে একটি ভাড়াবাসায় ওঠেন তরুণ-তরুণী। একসঙ্গে থাকার ১২ দিনের মাথায় বিয়ের জন্য চাপ দেওয়ায় ওই বাড়িতেই প্রেমিকাকে খুন করে পালান তরুণ।

গত ১৩ জুলাই সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি বাতানপাড়া এলাকার ভাড়াবাসা থেকে সাদিয়া আক্তার নামে ২৩ বছর বয়সী ওই তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করে থানা পুলিশ।

এই ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলাটির তদন্তে নেমে দশদিনের মাথায় অভিযুক্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার ও হত্যার পেছনের কারণ উদঘাটনের তথ্য জানিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে সাইনবোর্ড এলাকায় পিবিআই’র জেলা কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সংস্থাটির পরিদর্শক মিন্টু কুমার।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে স্বামী পরিচয় দেওয়া আব্দুর রাজ্জাক ওরফে আরিয়ানকে। ২৫ বছর বয়সী আরিয়ান পটুয়াখালী জেলার বাউফল উপজেলার প্রয়াত আলতাফ হাওলাদারের ছেলে।

তাকে গত ২১ জুলাই বিকেলে কেরানীগঞ্জের জিঞ্জিরা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। পরদিন আদালতে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে ১৬৪ ধারায় হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দিও দেন বলে জানান পিবিআই পরিদর্শক মিন্টু কুমার।

এর আগে ১৬ জুলাই রাতে সাদিয়ার সদ্য প্রাক্তন স্বামী ঢাকার বিবি বাগিচা রোডের মহিউদ্দিনের ছেলে মো. ইব্রাহিমকে (২৭)

ভুক্তভোগী সাদিয়া আক্তার পিরোজপুর জেলার ভান্ডারিয়া উপজেলার উত্তর শিয়ালকাঠি গ্রামের ইউসুফ মোল্লার কন্যা। তিনি সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজী ইপিজেডের একটি পোশাক কারখানার কর্মী ছিলেন বলে জানিয়েছে পিবিআই।

মামলার এজাহার ও তদন্তের পাওয়া তথ্যের বরাতে মিন্টু কুমার বলেন, নিহত তরুণী তিন বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের পর ইব্রাহিমকে বিয়ে করেন। কিন্তু ইব্রাহিম আগেও একটি বিয়ে করেছেন এবং ওই সংসারে সন্তানও রয়েছে বলে জানতে পারলে সাদিয়ার সঙ্গে তার সম্পর্কের অবনতি ঘটে। সাদিয়া নিজেও আগে একটি বিয়ে করেছিলেন। পরে আরিয়ানের সঙ্গে পরকিয়া প্রেমের সম্পর্কে জড়ালে সম্প্রতি ইব্রাহিমকে তালাক দিয়ে আলাদাভাবে থাকতে শুরু করেন।

পিবিআই এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করেছে, গত ১ জুলাই স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে সিদ্ধিরগঞ্জে একটি বাসা ভাড়া করেন সাদিয়া ও আরিয়ান। এ বাড়িতে নিয়মিত যাতায়াতও ছিল আরিয়ানের। গত ১২ জুলাই রাতে সাদিয়া তাকে বিয়ের জন্য চাপ দিলে ঝগড়া শুরু হয়। এক পর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে আরিয়ান গলাটিপে শ্বাসরোধ করে সাদিয়াকে হত্যা করে তার ব্যবহৃত মুঠোফোন ও স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে পালিয়ে যায়।

মরদেহ উদ্ধারের পর ১৫ জুলাই সাদিয়ার সদ্য প্রাক্তন স্বামী ইব্রাহিমকে আসামি করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন তার বড়ভাই রিয়াজ মোল্লা। পরদিন মামলাটির তদন্তভার নেয় পিবিআই। তদন্তে নেমে শুরুতে ইব্রাহিমকে গ্রেপ্তার করে ২ দিনের রিমাণ্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। রিমাণ্ডের তার দেওয়া তথ্য ও প্রযুক্তির সহযোগিতায় পরে আব্দুর রাজ্জাক ওরফে আরিয়ানকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানান পিবিআই কর্মকর্তা মিন্টু কুমার।

তিনি বলেন, গ্রেপ্তারের সময় আরিয়ানের কাছ থেকে সাদিয়ার মুঠোফোনটি পাওয়া যায়। নিহতের ছয় বছর বয়সী কন্যাও জানায়, তাদের বাড়িতে আরিয়ানের নিয়মিত আসা-যাওয়া ছিল। ওই এলাকার সিসিটিভি ফুটেজেও আরিয়ানের যাতায়াতের প্রমাণ মিলেছে।

এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অন্য কারোর সম্পৃক্ততা আছে কিনা সে বিষয়েও তদন্ত চলছে বলে জানান ওই কর্মকর্তা।

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪