ঝিনাইদহ প্রতিনিধি: রাজধানীর কাফরুল থানার এলাকায় যুবদল কর্মী ইউসুফ আলী হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে চারজন ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা। তাদের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে দাবি করা হচ্ছে, অভিযুক্তদের মধ্যে কয়েকজন অতীতে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং তাদের একজনকে পরবর্তীতে বিএনপির বিভিন্ন কর্মসূচিতেও দেখা গেছে। তবে এ বিষয়ে বিএনপির স্থানীয় নেতারা সাংগঠনিক সম্পৃক্ততার দাবি অস্বীকার করেছেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া বিভাগ জানিয়েছে, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তাররা হলেন নাহিদ হাসান (২১), শাফিন আহমেদ (২২), জিয়ারুল মোল্লা (৩৯), আলী হোসেন (৪৫), জিহাদ মোল্লা (৩০), মাসুম বিল্লাহ (২৮) ও আবির হাওলাদার (২৫)। এছাড়া হাসান নামে আরও এক আসামি পলাতক রয়েছেন।
গ্রেপ্তার ও পলাতকদের মধ্যে কালীগঞ্জ উপজেলার রাড়ীপাড়া গ্রামের চঞ্চল মোল্লা ও মাসুম বিল্লাহ, কৃষ্ণপুর গ্রামের জিহাদ মোল্লা এবং দামোদারপুর গ্রামের হাসান আলীর নাম রয়েছে।
স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, পলাতক হাসান আলী অতীতে কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং ঝিনাইদহ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম আনারের ঘনিষ্ঠ সমর্থক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। সাবেক এমপি আনোয়ারুল ইসলাম আনার হত্যাকাণ্ডের পর তার মেয়ে মুমতারিন ফেরদৌস ডরিনের বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতেও তাকে দেখা গেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এ সংক্রান্ত একটি ছবিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
অন্যদিকে, গ্রেপ্তার হওয়া মাসুম বিল্লাহকে হত্যাকাণ্ডে ‘শুটার’ হিসেবে কাজ করার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, তিনি আগে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলেও ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বিএনপির বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ছবি ও ভিডিওতে তাকে কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হামিদুল ইসলাম এবং উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব মাহাবুবুর রহমান মিলনের সঙ্গে দেখা গেছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
এ ছাড়া জিহাদ মোল্লা ও চঞ্চল মোল্লাও অতীতে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। তাদের বিরুদ্ধে অতীতে বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, চাঁদাবাজি এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হামিদুল ইসলাম বলেন, “মাসুম নামের ওই ব্যক্তিকে আমি চিনতে পারছি না। নির্বাচনী প্রচারণার সময় অনেক মানুষের সঙ্গে দেখা হয়, সবার পরিচয় মনে রাখা সম্ভব নয়। মাসুম বিল্লাহ বা অন্য কোনো অভিযুক্ত বিএনপির কোনো সাংগঠনিক কমিটির সদস্য নন।”
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ও রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার বিষয়ে জানতে কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জেল্লাল হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এদিকে কাফরুলে যুবদল কর্মী ইউসুফ আলী হত্যা মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম