| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

বোয়িংয়ের সঙ্গে বড় বিনিয়োগ, পূর্ণাঙ্গ এভিয়েশন গ্রুপ হওয়ার পথে ইউএস-বাংলা

reporter
  • আপডেট টাইম: Jul ২৯, ২০২৬ ইং | ১৫:১৪:২২:অপরাহ্ন  |  ২৬৫ বার পঠিত
বোয়িংয়ের সঙ্গে বড় বিনিয়োগ, পূর্ণাঙ্গ এভিয়েশন গ্রুপ হওয়ার পথে ইউএস-বাংলা

রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: দেশের বেসরকারি বিমান পরিবহন খাতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে যাচ্ছে ইউ-এস বাংলা এয়ারলাইন্স। প্রায় ১.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিশাল বিনিয়োগে বহরে ২১টি নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছে সংস্থাটি, যা বাংলাদেশের বেসরকারি বিমান খাতে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় বহর সম্প্রসারণ উদ্যোগ। 

২৯ জুলাই (বুধবার) রাজধানীর শেরাটন ঢাকায় আয়োজিত ‘বিয়ন্ড উইথ বোয়িং’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপদেষ্টা জনাব হুমায়ুন কবির, সংসদের হুইপ মিয়া মো. নুরদ্দিন অপু, বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মি. ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন, বোয়িংয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট মি. পল রিগিহ, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কূটনীতিক, ভ্রমণ ও পর্যটন খাতের নেতৃবৃন্দ এবং গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা।

ঘোষণা অনুযায়ী, নতুন বহরে যুক্ত হবে ১৫টি অত্যাধুনিক বোয়িং ৭৩৭-৮ এবং ৬টি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ উড়োজাহাজ। ২০২৭ সালের মধ্যে ধাপে ধাপে এসব উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত হবে বলে জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে ইউএস-বাংলা গ্রুপ ও এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, দেশের আন্তর্জাতিক আকাশপথে এখনও প্রায় ৭০ শতাংশ যাত্রী বিদেশি এয়ারলাইন্স বহন করছে। নতুন উড়োজাহাজ সংযোজনের মাধ্যমে এই নির্ভরতা কমিয়ে আন্তর্জাতিক রুটে দেশীয় অংশীদারিত্ব বাড়ানো সম্ভব হবে। একই সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রার বড় অংশ দেশে রাখা যাবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য শুধু একটি সফল এয়ারলাইন্স পরিচালনা করা নয়; বরং ইউএস-বাংলাকে একটি পূর্ণাঙ্গ বৈশ্বিক এভিয়েশন গ্রুপে পরিণত করা। এ লক্ষ্য অর্জনে আন্তর্জাতিক রুট সম্প্রসারণের পাশাপাশি পণ্য পরিবহন, বিমান রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত ও ওভারহল (এমআরও), ফ্লাইটে খাবার সরবরাহ এবং এভিয়েশন প্রশিক্ষণসহ একটি সমন্বিত এভিয়েশন কাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি।

নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত হওয়ার পর দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, পূর্ব এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের বিদ্যমান রুটে ফ্লাইট সংখ্যা বাড়ানো হবে। পাশাপাশি ব্যাঙ্গালুরু, হায়দ্রাবাদ, কলম্বো, কাঠমান্ডু, জোহর বাহরু, পেনাং, কুনমিং, শেনজেন, বেইজিং, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, কুয়েত, বাহরাইন, মদিনা, দাম্মাম ও সালালাসহ একাধিক নতুন গন্তব্যে ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

চট্টগ্রাম ও সিলেটকে আন্তর্জাতিক আঞ্চলিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার কথাও জানানো হয়। এ লক্ষ্যে নতুন উড়োজাহাজ স্থায়ীভাবে মোতায়েন করে এসব অঞ্চল থেকে মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন গন্তব্যে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এভিয়েশন খাতের টেকসই উন্নয়নে নীতিগত সহায়তার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন ইউএস-বাংলার এমডি। তিনি বলেন, আধুনিক বিমানবন্দর, প্রতিযোগিতামূলক নীতিমালা, দক্ষ জনবল এবং আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ ও বিমান রক্ষণাবেক্ষণ সুবিধা গড়ে তোলা জরুরি।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ইউএস-বাংলা ইতোমধ্যে নিজস্ব অর্থায়নে পাইলট ও উড়োজাহাজ প্রকৌশলী তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। পূর্বাচলে আন্তর্জাতিক মানের একটি এভিয়েশন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং দেশে আধুনিক ফ্লাইটে খাবার সরবরাহ কেন্দ্র স্থাপনের কাজও এগিয়ে চলছে।

সংস্থাটির মতে, এই বহর সম্প্রসারণ শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের প্রবৃদ্ধি নয়; বরং দেশের পর্যটন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, কর্মসংস্থান এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। ভবিষ্যতে ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়াসহ দূরপাল্লার রুটে ফ্লাইট পরিচালনার লক্ষ্যে নতুন প্রজন্মের প্রশস্ত দেহের উড়োজাহাজ সংযোজনের পরিকল্পনাও রয়েছে।


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪