| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

সাঁতরে স্পেনে, সবাই আবার ফিরে গেলেন কেন?

reporter
  • আপডেট টাইম: অগাস্ট ০১, ২০২৬ ইং | ২৩:৩৪:৫৪:অপরাহ্ন  |  ৩০৩৬ বার পঠিত
সাঁতরে স্পেনে, সবাই আবার ফিরে গেলেন কেন?

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: মরক্কো সীমান্ত পেরিয়ে সাঁতরে স্পেনের উত্তর আফ্রিকান ছিটমহল সিউতায় প্রবেশের পর আবার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিপুলসংখ্যক অভিবাসীর মরক্কোতে ফিরে যাওয়ার ঘটনা ইউরোপজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) অল্প সময়ের মধ্যে হাজারো অভিবাসী সাঁতরে বা বিভিন্ন উপায়ে সিউতায় প্রবেশ করেন।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে জানা গেছে, এ সময় সাগরপথে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটে। পরে অধিকাংশ অভিবাসী স্বেচ্ছায় অথবা কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনায় মরক্কোতে ফিরে যান।

শনিবার (১ আগস্ট) স্পেন সরকার জানায়, অবৈধভাবে সিউতায় প্রবেশ করা প্রায় সব অভিবাসী এরই মধ্যে মরক্কোতে ফিরে গেছেন। কী কারণে এত বিপুলসংখ্যক মানুষ একযোগে সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা করেছিলেন, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইউরোপে সীমান্ত নিরাপত্তা ও অবৈধ অভিবাসন ইস্যু আবারও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। বিশেষ করে অভিবাসনবিরোধী ডানপন্থী রাজনৈতিক দলগুলো বিষয়টিকে নতুন রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে তুলে ধরছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন পর্যায়ে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার এবং ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি মোকাবিলার কৌশল নিয়ে আলোচনা চলছে।

ইউরোপীয় পার্লামেন্টে ইউরোপিয়ান পিপলস পার্টির (ইপিপি) নেতা মানফ্রেড ভেবার জার্মান সংবাদমাধ্যম জেডডিএফ-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, ইউরোপের বহিঃসীমান্ত আরও কার্যকরভাবে সুরক্ষিত করতে হবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

ইউরোপের কয়েকজন রাজনৈতিক বিশ্লেষকের দাবি, মরক্কো অভিবাসন ইস্যুকে কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টির একটি মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে মরক্কো সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

বিশ্লেষকদের মতে, কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যেও হঠাৎ বিপুলসংখ্যক মানুষের সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা স্বাভাবিক নয়। ফলে ঘটনাটির পেছনে রাজনৈতিক বার্তা ছিল কি না, তা নিয়েও আলোচনা চলছে।

এর আগেও পশ্চিম সাহারা ইস্যুকে কেন্দ্র করে মরক্কো-স্পেন সম্পর্কে উত্তেজনা দেখা দিয়েছিল। সেই প্রেক্ষাপটে সিউতায় অভিবাসীদের ঢল নতুন করে দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

পর্যবেক্ষকদের একটি অংশের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে স্পেনে অভিবাসন-সংক্রান্ত কিছু আইনি সিদ্ধান্তকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে অনেক অভিবাসীর মধ্যে এমন ধারণা তৈরি হতে পারে যে, সিউতায় প্রবেশ করলেই ইউরোপে বৈধভাবে বসবাসের সুযোগ মিলবে।

তবে বাস্তবে সিউতা বা মেলিয়ায় প্রবেশ করলেই স্পেনের মূল ভূখণ্ডে যাওয়ার সুযোগ পাওয়া যায় না। সেখানে প্রবেশের পরও অভিবাসীদের কঠোর প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, পর্যাপ্ত খাদ্য, আশ্রয় ও নিরাপত্তার অভাব এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া অবস্থানের কারণে অনেক অভিবাসী পরে স্বেচ্ছায় মরক্কোতে ফিরে যান।

ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সহসভাপতি ক্যাটারিনা বার্লি জার্মান গণমাধ্যম টাগেসশাউ-কে বলেন, কোনো রাষ্ট্র যদি রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবে অভিবাসনকে ব্যবহার করে, তবে ইউরোপীয় দেশগুলোর উচিত ঐক্যবদ্ধভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা।

স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বার্তায় বলেন, ইউরোপকে বিভক্ত নয়, বরং আরও ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তিনি সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সংহতি ও পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সিউতার ঘটনাকে কেন্দ্র করে কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ সীমান্ত নিরাপত্তা আরও কঠোর করার পদক্ষেপ নিয়েছে।

জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মেরৎস বলেন, অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বহিঃসীমান্ত কার্যকরভাবে সুরক্ষিত রাখা জরুরি। তিনি স্পেনকে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনার আহ্বান জানান এবং জার্মানির সীমান্ত নিরাপত্তা আরও জোরদারের কথাও জানান।

ফ্রান্সও স্পেন সীমান্তে নজরদারি বৃদ্ধি এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে অতিরিক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছে।

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪