| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

অপারেশন ‘শরতের তুফান’

হাসিনা-হারুনসহ ১০ জনের বিচার শুরুর আবেদনের শুনানি ১০ আগস্ট

reporter
  • আপডেট টাইম: অগাস্ট ০২, ২০২৬ ইং | ২১:৪২:৫৬:অপরাহ্ন  |  ১৯৩৯ বার পঠিত
হাসিনা-হারুনসহ ১০ জনের বিচার শুরুর আবেদনের শুনানি ১০ আগস্ট

স্টাফ রিপোর্টার:গাজীপুরের পাতারটেকে ‘অপরারেশন শরতের তুফান’ নামে ‘জঙ্গি নাটক’ সাজিয়ে সাতজনকে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১০ আসামির বিরুদ্ধে বিচার শুরুর পক্ষে শুনানি শেষ করেছে প্রসিকিউশন।

রোববার (২ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চে এ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। 

আদালত আসামিপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১০ আগস্ট দিন ধার্য করেছেন। শুনানিতে প্রসিকিউশনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। 

শুনানিতে প্রসিকিউটর তামিম বলেন, শেখ হাসিনার শাসনামলে রাজনৈতিক ভিন্নমত ও ইসলামী আদর্শ দমনে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের একটি ‘ভীতিকর সংস্কৃতি’ তৈরি করা হয়েছিল। এর অংশ হিসেবেই ২০১৬ সালের ৮ অক্টোবর গাজীপুরের পাতারটেকে কথিত ‘অপারেশন শরতের তুফান’ চালানো হয়।

আদালতকে প্রসিকিউশন জানায়, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সাতজনকে তুলে নিয়ে প্রথমে বগুড়ায় পুলিশের একটি গোপন বন্দিশালায় আটকে রাখা হয়। পরে গাজীপুরের নোয়াগাঁও পাতারটেক এলাকায় সোলায়মান সরকারের বাড়িতে নিয়ে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ও সোয়াট সদস্যরা তাদের গুলি করে হত্যা করে।

হত্যাকাণ্ডের শিকার সাতজনের মধ্যে চারজনের পরিচয় এখনো জানা যায়নি। বাকি তিনজন হলেন— মো. ইবরাহীম, ফরিদুল ইসলাম আকাশ ও সাইফুর রহমান। 

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ইবরাহীমের বাবা এই অভিযোগ দায়ের করেন।

প্রসিকিউটর তামিম আদালতে বলেন, সে সময় আওয়ামী লীগের মন্ত্রী-এমপিরা বিশ্বকে দেখাতে চাইতেন যে এ দেশ জঙ্গিতে ভরা। অথচ জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা এসব ঘটনাকে মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এমনকি মরদেহ নিতে এলে স্বজনদের হয়রানির ভয় দেখানো হতো।

শুনানি শেষে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা নথিপত্র পর্যালোচনা ও প্রস্তুতির জন্য সময়ের আবেদন করেন।

আইনজীবী সিফাত মাহমুদ শুভ আদালতকে বলেন, তারা প্রসিকিউশন থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেরিতে পেয়েছেন। প্রসিকিউশন এতে আপত্তি না জানালে আদালত ১০ আগস্ট পরবর্তী দিন ঠিক করেন।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন— সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইজিপি একেএম শহীদুল হক, এসবি’র সাবেক প্রধান জাবেদ পাটোয়ারী, ডিএমপির সাবেক কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়া, সিটিটিসি’র সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম, সাবেক পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান, মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ (ডিবি হারুন), অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফুর রহমান মণ্ডল এবং সিটিটিসির সাবেক এসি এসএম জাহাঙ্গীর হাছান।

আসামিদের মধ্যে সাবেক আইজিপি শহীদুল হক ও সাবেক ডিএমপি কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়া বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। রোববার তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। বাকি আসামিরা পলাতক রয়েছেন। 

তাদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। চলতি বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি এই ১০ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেছিল প্রসিকিউশন। 

২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে বলপূর্বক গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত করার অভিযোগ আনা হয়েছে এ মামলায়।

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪