| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

বিলাতি গাব এখন আগের মতো দেখা যায় না

reporter
  • আপডেট টাইম: অগাস্ট ০৩, ২০২৬ ইং | ০০:১৭:৫৩:পূর্বাহ্ন  |  ৩৩১৮ বার পঠিত
বিলাতি গাব এখন আগের মতো দেখা যায় না

সনৎ চক্রবর্ত্তী, ফরিদপুর : ফরিদপুরে আগের মত বিলাতি গাব এখন আগের মতো সহজে দেখা যায় না, কারণ অপরিকল্পিতভাবে গাছ কেটে ফেলা, নতুন গাছ না লাগানো এবং আধুনিকতার ছোঁয়ায় গ্রামীণ পরিবেশ বদলে যাওয়া স্থানীয়ভাবে এর বেশ কদর রয়েছে। বিলাতি গাব দেখতে অনেকটা আপেলের মতো এবং এর ত্বক হালকা বাদামি ও লোমশ হয়ে থাকে। এর মাংসল অংশ হালকা ক্রিম রঙের হয়ে থাকে এবং  খেতে বেশ মিষ্টি ও সুস্বাদু। 

এই ফলটি সাধারণত জ্যৈষ্ঠ মাসে পাকে এবং গ্রামাঞ্চলে অযত্নে বেড়ে ওঠে।বাড়ির আশপাশের বনবাদাড়ে আপনাআপনিই জন্মায়। রাতে বাদুড় ফল খেয়ে বীজগুলো নিচে ছড়িয়ে দেয়। সে বীজ থেকে সহজেই চারা হয় এবং গাদাগাদি করে বেড়ে ওঠে। নানান বৈরী পরিস্থিতি মোকাবিলা করেও বেঁচে থাকতে পারে। বিলাতি গাব স্বাদে-গন্ধে অতুলনীয়। গ্রামে এ ফলের নানামুখী ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। কাঁচা অবস্থায় কেউ কেউ সবজি হিসেবে রান্না করে খায়। আবার কেউ কেউ নুন-মরিচ দিয়ে মাখিয়ে খেতেও পছন্দ করে। অপরিপকস্ফ অবস্থায় শিশুরা ভেতরের কোমল আঁটিগুলো বের করে খায়। পরিপকস্ফ ফলের রং বেশ মনোলোভা। আবার স্বাদে-গন্ধেও অতুলনীয়। দেশি গাব এবং বিলাতি গাবের মধ্যে বিস্তর তফাত লক্ষ্য করা যায়। 

বিলাতি গাবের ইংরেজি নাম Malobo। একে Korean mango বা Velvet apple নামেও ডাকা হয়। কারণ এটি দেখতে অনেকটা লাল আপেলের মতোই এবং এর গা মখমলের মতো মসৃণ ! বিলাতি গাবের বৈজ্ঞানিক নাম Diospyros balncoi এটি গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলের চিরসবুজ বৃক্ষ।

বিলাতি গাব গাছ আকারে মাঝারি, লম্বায় ১০-৩০ মিটার পর্যন্ত উঁচু হয়। ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসে গাছে ফুল ফোটে এবং জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ফল সংগ্রহ করা যায়। কাঁচা ফল হালকা সবুজ বা বাদামি হয়। ফল পাকলে উজ্জ্বল বাদামি বা গাঢ় লালবর্ণ ধারণ করে। পাকা ফলের ভেতরটা সাদা এবং মাখনের মতো নরম। পাকা ফল সুগন্ধী এবং বেশ লোভনীয়। বিলাতি গাব ফল হিসেবে খাবার পাশাপাশি এটা দিয়ে জুস, ডেজার্ট, ফ্রুটকেক, ক্রিম ইত্যাদিও তৈরি করা হয়।

এ ফলের পুষ্টিগুণ ও ব্যাপক। পাকা বিলাতি গাবের প্রতি ১০০ গ্রাম খাদ্যযোগ্য অংশে রয়েছে খাদ্যশক্তি- ৫০৪ কিলোক্যালরি জলীয় অংশ- ৮৩.০-৮৪.৩ গ্রাম আমিষ- ২.৮ গ্রাম চর্বি- ০.২ গ্রাম শর্করা- ১১.৮ গ্রাম খাদ্যআঁশ- ১.৮ গ্রাম চিনি- ১১.৪৭ গ্রাম ক্যালসিয়াম ৪৬ মিলিগ্রাম ভিটামিন এ- ৩৫ আইইউ ফসফরাস ১৮ মিলিগ্রাম আয়রন- ০.৬ মিলিগ্রাম থায়ামিন ০.০২ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি- ১৮ মিলিগ্রাম সোডিয়াম- ১১০ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম ৩০৩ মিলিগ্রাম।

ফরিদপুর জেলার  বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে কিছু   গাছে  শোভা পাচ্ছে গোলাপি রঙের  গাব।এটি বিলেতি গাব হিসেবে এটি পরিচিত।  আর তার অপরূপ দৃশ্যে মুগ্ধ করছে সবাইকে। 

ফরিদপুরে ফল পট্টির সামনে কথা হয়  গাব বিক্রেতা আবদুল মান্নান মোল্লার সাথে, তিনি বলেন এক সময় ফরিদপুর অঞ্চলে বিলাতি গাব পাওয়া যেত। কিন্তু সময়ের বিবর্তন এখন আর পাওয়া যায় না। আর যা দু একটি যা পাওয়া যায় তার দামও অনেক। নতুন প্রজন্ম বিলাতি গাবের সাথে তেমন পরিচিত নয়। আমাদের  বাড়িতে একটি গাছে বিলাতি গাব হয়েছে সেগুলো বিক্রি করতে এনেছি। প্রতিপিস ৫০ টাকা দরে বিক্রি করছি।

বোয়ালমারী উপজেলার ময়না সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কালিপদ চক্রবর্ত্তী বলেন, বিলাতি গাবে অনেক পুষ্টি রয়েছে। খেতেও সুস্বাদু।ফরিদপুরে এক সময়  প্রায় সব বাড়িতেই কমবেশি গাব গাছ পাওয়া যেত। এ গাছের গোড়ায় কোনো সার ওষুধের প্রয়োজন না হলেও রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে। তবে পরিচর্যা না থাকায় গাব গাছের  দিন দিন হারিয়ে যেতে বসেছে।

তিনি আরো বলেন  গাব গাছের ২ টা জাত রয়েছে। দেশি গাব আর বিলাতি গাব। এক জায়গায় একটা পার্থক্য পেয়েছি, ফলের পার্থক্য। একটি গাব সুস্বাদু ও মিষ্টি, একে বিলাতি গাব বলা হয়। অন্যটিকে দেশি গাব বলা হয়। এটি খেতে হালকা মিষ্টি ও কষ যুক্ত। কাঁচা ফল সবুজ এবং পাকলে হলুদ হয়ে যায়। 

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪