| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ড্রেজিং-এর দাবিতে উত্তাল বাউফল: তেতুলিয়ার নাব্যতা ফেরান, বাঁচান কালাইয়া বন্দর

reporter
  • আপডেট টাইম: অগাস্ট ০৩, ২০২৬ ইং | ০০:৪০:২৯:পূর্বাহ্ন  |  ২৬৩৫ বার পঠিত
ড্রেজিং-এর দাবিতে উত্তাল বাউফল: তেতুলিয়ার নাব্যতা ফেরান, বাঁচান কালাইয়া বন্দর

বাউফল প্রতিনিধি: একসময় দক্ষিণাঞ্চলের নৌ-যোগাযোগ, ব্যবসা-বাণিজ্য ও জনজীবনের প্রাণ ছিল তেতুলিয়া নদী। কিন্তু নাব্যতা সংকটের কারণে আজ সেই প্রাণপ্রবাহই থমকে গেছে। পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার ঐতিহ্যবাহী কালাইয়া বন্দর, কালাইয়া লঞ্চঘাট এবং ঢাকা-কালাইয়া ও কালাইয়া-লালমোহন নৌরুট এখন কার্যত হুমকির মুখে।

নদীর বিভিন্ন স্থানে চর জেগে ওঠায় নৌযান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে আঞ্চলিক অর্থনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য, মৎস্য খাত এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায়।

বাংলা সাহিত্যের প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ তাঁর "কাঁদো নদী কাঁদো" গ্রন্থে নদীকে মানুষের আশা, বেদনা ও জীবনসংগ্রামের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেছেন। তেতুলিয়া নদীর বর্তমান চিত্র যেন সেই সাহিত্যিক বাস্তবতারই প্রতিফলন।

ব্যবসা-বাণিজ্য ও যাত্রী ভোগান্তি চরমে

স্থানীয় ব্যবসায়ী, ট্রলার মালিক ও জেলেদের অভিযোগ, নদীর তলদেশে ডুবোচর সৃষ্টি হওয়ায় ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা পণ্যবাহী কার্গো ও ট্রলার নিরাপদে চলাচল করতে পারছে না। ডুবোচরে ধাক্কা লেগে নৌযান ও পণ্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় পরিবহন ব্যয় বেড়েছে, ব্যাহত হচ্ছে ব্যবসায়িক কার্যক্রম।

নাজিরপুর থেকে লালমোহনগামী ট্রলারগুলোকে বর্ষা মৌসুমেও ৭ থেকে ৮ কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে সময় ও জ্বালানি ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি বাড়ছে যাত্রী দুর্ভোগ।

ঢাকা-কালাইয়া রুটে চলাচলকারী লঞ্চ সংশ্লিষ্টরা জানান, নাব্যতা কমে যাওয়ায় নিরাপদ চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে নারী, শিশু, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী যাত্রীরা বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

নাব্যতা সংকটের কারণে গোলাচিপা, দশমিনা, কালাইয়া, নিমদী, নুরাইপুর ও কালিশুরীসহ দক্ষিণাঞ্চলের একাধিক নৌঘাটে দ্বিতল লঞ্চ চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে কালাইয়া থেকে ঢাকাগামী মাত্র একটি দ্বিতল লঞ্চ চলাচল করছে।

লঞ্চের প্রথম শ্রেণির মাস্টার মো. হানিফ বলেন, “একসময় ঢাকা থেকে দক্ষিণাঞ্চলের এই নৌরুটে অসংখ্য স্টেশন ছিল। এখন ৯০ শতাংশ স্টেশন বন্ধ হয়ে গেছে। এতে যাত্রীসংখ্যা কমেছে। কর্তৃপক্ষ পরিদর্শন করে আশ্বাস দিলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ- বিআইডব্লিউটিএ তেতুলিয়া নদীতে ড্রেজিং করলেও নাব্যতা সংকটের মূল জায়গাগুলোতে পর্যাপ্ত খন হচ্ছে না। বরং ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের আবেদনের ভিত্তিতে বাড়িঘর ও ভিটা ভরাটে বালু সরবরাহে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

অভিযোগ অস্বীকার করে বিআইডব্লিউটিএর হাইড্রো সলিউশনের প্রকৌশলী তানভীর মজুমদার বলেন, “সরকারি বিধি অনুসারে আবেদন যাচাই করেই বালু সরবরাহ করা হয়। এ জন্য কোনো অর্থ নেওয়া হয় না।”

বাউফলের সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প, সড়ক, সেতু ও আবাসন নির্মাণে ভিটি বালুর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে পর্যাপ্ত বালু সরবরাহ না থাকায় অনেক উন্নয়নকাজও ব্যাহত হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালেহ আহমেদ বলেন, “তেতুলিয়া নদীর নাব্যতা সংকটের কারণে কালাইয়া বন্দর ও যাত্রীবাহী নৌযান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে এবং সমাধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

স্থানীয় ব্যবসায়ী, ট্রলার মালিক, জেলে ও সচেতন নাগরিকদের দাবি, পরিবেশগত ও আইনগত বিধান মেনে জরুরি ভিত্তিতে তেতুলিয়া নদীর নাব্যতা পুনরুদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। তাদের মতে, এই নদীর প্রাণ ফিরে এলে শুধু নৌ-যোগাযোগ নয়, দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও জনজীবনও নতুন গতি পাবে।

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪