| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

দেশে ফিরে নিজ দলেই তোপের মুখে নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী

reporter
  • আপডেট টাইম: অগাস্ট ১৪, ২০২৬ ইং | ১৪:৩৩:৩৪:অপরাহ্ন  |  ১৪৩ বার পঠিত
দেশে ফিরে নিজ দলেই তোপের মুখে নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: নেপালের প্রধান রাজনৈতিক দল নেপালি কংগ্রেসের নেতৃত্ব নিয়ে চলমান বিরোধ এবার নতুন মোড় নিয়েছে। প্রায় পাঁচ মাস বিদেশে থাকার পর দেশে ফিরেই দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধের মুখে পড়েছেন পাঁচবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও দলটির সাবেক সভাপতি শের বাহাদুর দেউবা।

দেউবার ঘনিষ্ঠ নেতারা তাকে আবারও দলের সভাপতি করে তার নেতৃত্বে ১৫তম সাধারণ সম্মেলন আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছেন। তবে দলের একটি শক্তিশালী অংশ এই প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের দাবি, বিশেষ সাধারণ সম্মেলনের মাধ্যমে যে নেতৃত্বকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, তাকে আবার সভাপতি করে নতুন সাধারণ সম্মেলন আয়োজন করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

সুপ্রিম কোর্ট গত ১৭ এপ্রিলের রায় পুনর্বিবেচনার অনুমতি দেওয়ার পরই দেউবা-সমর্থকরা নতুন করে এই প্রস্তাব সামনে আনেন। ওই রায়ে গগন থাপার নেতৃত্বাধীন কমিটিকে নেপালি কংগ্রেসের বৈধ নেতৃত্ব হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল।

দেউবার ঘনিষ্ঠ নেতা প্রকাশ শরণ মহাত বলেন, আদালতের চূড়ান্ত রায়ের জন্য অপেক্ষা করা অথবা ১৪তম সাধারণ সম্মেলনে নির্বাচিত দেউবার নেতৃত্বাধীন কমিটিকে স্বীকৃতি দিয়ে ১৫তম সাধারণ সম্মেলনের প্রস্তুতি নেওয়া দুটি পথই এখন খোলা রয়েছে। দলের অভ্যন্তরীণ ঐক্য ফিরিয়ে আনতে দেউবার নেতৃত্বেই সাধারণ সম্মেলন আয়োজন করা উচিত বলে মত দেন তিনি।

প্রায় পাঁচ মাস বিদেশে থাকার পর বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) নেপালে ফিরেছেন শের বাহাদুর দেউবা। দেশে ফেরার পর তিনি সরাসরি কাঠমান্ডুর চুন্ডেভিতে তার সমর্থকদের কার্যালয়ে যান। সেখানে নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী।

এ সময় তার বিরুদ্ধে ওঠা আর্থিক অনিয়মসহ বিভিন্ন অভিযোগ অস্বীকার করেন দেউবা। একই সঙ্গে দলীয় বিরোধ দ্রুত নিরসনের আহ্বান জানান তিনি।

এর আগে দেওয়া এক বিবৃতিতেও দেউবা নেপালি কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ সংকটের অবসান ঘটানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, দলের অভ্যন্তরীণ সংকট দেশের জাতীয় ঐক্যকে দুর্বল করে দিতে পারে।

দেউবা তরুণ নেতাদের সামনে আসার সুযোগ দেওয়ার কথা বললেও অভিজ্ঞ রাজনীতিকদের অযোগ্য হিসেবে উপস্থাপনের বিরোধিতা করেন। তার বক্তব্যে একদিকে নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বকে জায়গা দেওয়ার বার্তা থাকলেও অন্যদিকে অভিজ্ঞ নেতৃত্বের ভূমিকার পক্ষেও অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে।

দেউবাকে ফেরানোর প্রস্তাব সরাসরি নাকচ থাপা শিবিরের

তবে দেউবার দেশে ফেরার পরই তাকে আবার দলের সভাপতি করার প্রস্তাব নিয়ে প্রকাশ্যে বিরোধিতা শুরু হয়েছে। দলের সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ পৌডেল এই প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন।

তার বক্তব্য, বিশেষ সাধারণ সম্মেলনের মাধ্যমে যে নেতৃত্বকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, সেই নেতৃত্বকে আবার সভাপতি করে সাধারণ সম্মেলনে যাওয়া আইনগত, প্রক্রিয়াগত ও রাজনৈতিক কোনো দিক থেকেই গ্রহণযোগ্য নয়।

পৌডেল বলেন, দেউবা ইতোমধ্যে দুই মেয়াদে দলের সভাপতি ছিলেন। এখন তার উচিত দলীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঊর্ধ্বে উঠে দলের ঐক্যের জন্য অভিভাবকের ভূমিকা পালন করা।

এতে স্পষ্ট হয়েছে, দেউবাকে ঘিরে নেপালি কংগ্রেসে বিভাজন এখনো কাটেনি। বরং তার দেশে ফেরার পর নেতৃত্বের প্রশ্নটি আবারও সামনে চলে এসেছে।

অন্যদিকে, দেউবা দেশে ফেরায় তাকে স্বাগত জানিয়েছেন গগন থাপা। বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকের শুরুতে থাপা বলেন, চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়া দেউবা সুস্থ হয়ে দেশে ফিরেছেন এতে তিনি আন্তরিকভাবে খুশি।

তবে সৌজন্যপূর্ণ এই অবস্থানের পাশাপাশি নেতৃত্ব নিয়ে দুই পক্ষের রাজনৈতিক দূরত্ব এখনো স্পষ্ট। একদিকে দেউবার ঘনিষ্ঠরা তার নেতৃত্ব পুনর্বহালের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন, অন্যদিকে থাপা-সমর্থকরা সেই প্রস্তাবকে রাজনৈতিক ও আইনগতভাবে অগ্রহণযোগ্য বলে মনে করছেন।

নেপালি কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ নেতৃত্ব সংকটের পাশাপাশি দেউবার বিরুদ্ধে চলমান অর্থপাচার তদন্তও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

দেউবা বিদেশে থাকার সময় তার পরিবার-সংশ্লিষ্ট একটি বিষয়ে তদন্ত শুরু করে দেশটির অর্থপাচার তদন্ত বিভাগ। পরে দেউবা ও তার স্ত্রী, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরজু রানা দেউবার বিরুদ্ধে কাঠমান্ডু জেলা আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে।

তবে ২৫ মে সুপ্রিম কোর্ট তাদের গ্রেফতার না করার নির্দেশ দেন। আদালত ওই গ্রেফতারি পরোয়ানার আইনগত ভিত্তি যথেষ্ট নয় বলে জানায়।

এদিকে দেউবা দম্পতির বিরুদ্ধে ইন্টারপোলও রেড নোটিশ জারি করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তবে তাদের ঘিরে তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে।

জুলাইয়ে বিশেষ আদালতে জমা দেওয়া অভিযোগপত্রে দেউবার ছেলে জয়বীর দেউবার মালিকানাধীন কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ২ কোটি ৬০ লাখ নেপালি রুপির একটি লেনদেনের তথ্যও তুলে ধরা হয়েছে।

এই তদন্ত ও অভিযোগের বিষয়টি দেউবার রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও চাপের মধ্যে ফেলেছে। যদিও তিনি তার বিরুদ্ধে ওঠা আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

ফলে দেশে ফেরার পর শের বাহাদুর দেউবাকে একসঙ্গে দুটি বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে—একদিকে নেপালি কংগ্রেসের নেতৃত্ব নিয়ে তীব্র অভ্যন্তরীণ বিরোধ, অন্যদিকে তাকে ঘিরে চলমান আইনি ও অর্থপাচার তদন্ত।

দেউবার ঘনিষ্ঠরা তাকে সামনে রেখে ১৫তম সাধারণ সম্মেলনের মাধ্যমে দলকে ঐক্যবদ্ধ করার পথ দেখছেন। বিপরীতে গগন থাপা শিবির মনে করছে, পুরোনো নেতৃত্বকে পুনর্বহাল করে সেই পথ তৈরি করা যাবে না। ফলে নেপালি কংগ্রেসে নেতৃত্বের লড়াই সামনে আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪