কুমিল্লা প্রতিনিধি: কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে চাঁদার টাকা না দেওয়ায় মো. সোহাগ নামে এক যুবককে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ারও অভিযোগ করা হয়েছে।
রোববার (১৬ আগস্ট) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার সরসপুর ইউনিয়নের পাঁচরুই গ্রামের চৌধুরী বাড়ির সামনে শামসুল আলমের চায়ের দোকানে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পাঁচরুই গ্রামের শাহ আলমের ছেলে সোহাগ চায়ের দোকানে অবস্থান করছিলেন। এ সময় একই গ্রামের মৃত জয়নাল মিয়ার ছেলে নোমান ও লোকমানের ছেলে জয়নাল সেখানে গিয়ে পূর্বনির্ধারিত ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা সোহাগের ওপর হামলা চালিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করেন।
একপর্যায়ে সোহাগের সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোন ও নগদ ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। সোহাগের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে সাব্বির হোসেন নামে আরও একজনের হাতে চাইনিজ কুড়াল দিয়ে কোপ দিয়ে নোমান ও জয়নাল পালিয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরে স্থানীয়রা আহত সোহাগকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে চিকিৎসক তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে পাঠান। বর্তমানে তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
সোহাগের পরিবারের দাবি, কয়েক দিন আগে নোমান ও লোকমান তাঁর কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেছিলেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা করা হয়।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেন, নোমান ও জয়নালের কথিত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ। তাঁদের ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পান না। তাঁদের অভিযোগ, প্রায় এক বছর আগে সোহাগের বাবা শাহ আলমের হাত ভেঙে দেওয়ার পাশাপাশি তাঁর দোকানের মালামাল লুটের ঘটনাতেও নোমান ও জয়নাল জড়িত ছিলেন।
এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত নোমান ও জয়নালের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব