| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ইসরায়েলি বসতি স্থাপন পরিকল্পনার তীব্র নিন্দা জানাল ফ্রান্স-জার্মানি-যুক্তরাজ্য-কানাডা-ইতালি

reporter
  • আপডেট টাইম: অগাস্ট ২১, ২০২৬ ইং | ১৩:৩১:৩০:অপরাহ্ন  |  ৩১১৭ বার পঠিত
ইসরায়েলি বসতি স্থাপন পরিকল্পনার তীব্র নিন্দা জানাল ফ্রান্স-জার্মানি-যুক্তরাজ্য-কানাডা-ইতালি
ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক:  অধিকৃত পশ্চিম তীরের অত্যন্ত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ই-ওয়ান এলাকায় প্রায় ১২শ'টি নতুন বসতি নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বানের ইসরায়েলি সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় পশ্চিমা শক্তিগুলো। যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি এবং কানাডা এক যৌথ বিবৃতিতে তেল আবিবের এই পদক্ষেপকে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য হিসেবে আখ্যায়িত করে অবিলম্বে তা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে।

আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বসতি স্থাপন সম্পূর্ণ অবৈধ। বৈশ্বিক চাপের মুখে ইসরায়েল দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে জেরুজালেমের পূর্বে অবস্থিত এই স্পর্শকাতর ই-ওয়ান এলাকায় সব প্রকার নির্মাণকাজ স্থগিত রেখেছিল। ইসরায়েলের এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও ফিলিস্তিনিরা স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের সম্ভাব্য সমাধানের জন্য মারাত্মক আঘাত হিসেবে দেখছেন। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পুরো পশ্চিম তীর ভৌগোলিকভাবে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়বে এবং পূর্ব জেরুজালেম ফিলিস্তিনের অন্যান্য এলাকা থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে।

ইউরোপীয় মিত্রদেশসমূহ ও কানাডার পক্ষ থেকে প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, পশ্চিম তীরে যখন চরম অস্থিতিশীলতা বিরাজ করছে। বেসামরিক ফিলিস্তিনিদের ওপর চরমপন্থি ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা নজিরবিহীন মাত্রায় পৌঁছেছে, তখন ইসরায়েল সরকারের এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ওই বিবৃতিতে পরিষ্কার করে সতর্ক করে দিয়ে বলা হয়, এই ধরনের একতরফা পরিকল্পনা কেবল শান্তির পথকে সুদূর পরাহতই করবে না বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েলের নিজস্ব অবস্থান ও ভাবমূর্তিকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করবে।

এদিকে জাতিসংঘের মহাসচিব এই নির্মাণ পরিকল্পনাকে একটি অখণ্ড ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের অস্তিত্বের জন্য সরাসরি হুমকি বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। বেলজিয়ামের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও একই উদ্বেগ প্রকাশ করে ইসরায়েলি পদক্ষেপের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড ইসরায়েলের এই পরিকল্পনার কড়া নিন্দা জানালে তা সঙ্গে সঙ্গে এক বাক্যে প্রত্যাখ্যান করেছেন ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

আন্তর্জাতিক বিরোধিতা ও স্থানীয় বেদুইন ফিলিস্তিনি এবং ইসরায়েলি শান্তি কামীদের আইনি চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও ইসরায়েলের আবাসন মন্ত্রণালয় গত বছরের আগস্টে অনুমোদিত ৩ হাজার ৪০১টি বসতি ইউনিটের মধ্যে ১২৩৪টির দরপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে আহ্বান করে। পূর্ব জেরুজালেম ও মালে আদুমিম বসতির মধ্যবর্তী প্রায় ১২ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে এই বিশাল নির্মাণ পরিকল্পনা বিস্তৃত। পরিকল্পনা উন্মোচনের সময় ইসরায়েলের অতি-জাতীয়তাবাদী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ প্রকাশ্যেই মন্তব্য করেছিলেন, এর মাধ্যমে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের ধারণা চিরতরে মুছে ফেলা হচ্ছে।

ঘোষিত দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৯ অক্টোবর, যা ইসরায়েলের আগামী ২৭ অক্টোবরের সাধারণ নির্বাচনের ঠিক কয়েক দিন আগে। এর ফলে নির্বাচনের পর নতুন কোনো সরকার ক্ষমতায় আসলেও এ দরপত্র বাতিল করা তাদের জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়বে। ১৯৬৭ সালের মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের পর থেকে ইসরায়েল পশ্চিম তীর এবং পূর্ব জেরুজালেম দখল করে প্রায় ১৬০টি অবৈধ বসতি তৈরি করেছে, যেখানে বর্তমানে প্রায় ৭ লাখ ইসরায়েলি বসবাস করছেন। একই অঞ্চলে বাস করেন প্রায় ৩৩ লাখ ফিলিস্তিনি, যারা গাজা ও পশ্চিম তীর নিয়ে তাদের ভবিষ্যৎ স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখছেন।

তীব্র আন্তর্জাতিক আপত্তি ও আঞ্চলিক সংকট সত্ত্বেও ইসরায়েলের একের পর এক সরকার বসতি সম্প্রসারণ অব্যাহত রেখেছে। বিশেষ করে ২০২২ সালের শেষের দিকে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থি ও বসতি স্থাপনকারী-বান্ধব জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর এবং পরবর্তীতে গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এই অবৈধ বসতি সম্প্রসারণের গতি আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ই-ওয়ান প্রকল্পের বিরোধীরা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে পশ্চিম তীরের উত্তরাঞ্চল দক্ষিণাঞ্চল থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে, যা রামাল্লাহ, পূর্ব জেরুজালেম এবং বেথলেহেমকে কেন্দ্র করে একটি অখণ্ড ফিলিস্তিনি নগর অঞ্চল গড়ে তোলার পথ চিরতরে বন্ধ করে দেবে।

সূত্র: বিবিসি

রিপোর্টার্স২৪/এম এইচ

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪