| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

কাপাসিয়ায় অটোরিকশাচালক হত্যা ও মায়ের মৃত্যুর রহস্য উদঘাটন, গ্রেপ্তার ৩

reporter
  • আপডেট টাইম: অগাস্ট ২৩, ২০২৬ ইং | ১৯:০২:১৭:অপরাহ্ন  |  ৫৬৪ বার পঠিত
কাপাসিয়ায় অটোরিকশাচালক হত্যা ও মায়ের মৃত্যুর রহস্য উদঘাটন, গ্রেপ্তার ৩

কাপাসিয়া (গাজীপুর) প্রতিনিধি: গাজীপুরের কাপাসিয়ায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ছিনতাইয়ের সময় চালক মো. আতাউর রহমান আতা মিয়া (৬০) হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে ছিনতাই হওয়া অটোরিকশা, বিক্রির ২২ হাজার টাকা, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা হাতুড়ি, লোহার রড ও রশি।

রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরে পিবিআই গাজীপুর জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. রকিবুল আক্তার।

নিহত আতাউর রহমান কাপাসিয়া উপজেলার বারিষাব ইউনিয়নের নরোত্তমপুর দক্ষিণপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল কাদিরের ছেলে।

পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে সনমানিয়া ইউনিয়নের মির্জানগর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশের শিমুলতলী সড়কে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের সময় আতাউর রহমানকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়। পরে তার মরদেহ সড়কের পাশে পড়ে থাকতে দেখা যায়। ছেলের হত্যার খবর শুনে বাড়িতে থাকা বৃদ্ধ মা জহুরা খাতুন (৭৫) শোকে অসুস্থ হয়ে মারা যান।

পিবিআইয়ের তদন্তে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে কাপাসিয়ার ঘাগুটিয়া চালার বাজার এলাকার রাজ্জাক খানের ছেলে রাজিব খান (২৯), মির্জানগর গ্রামের নাসির উদ্দিনের ছেলে নকিবুল হাসান রাকিব (২৪) এবং নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার হাতিরদিয়া এলাকার রসুলপুর গ্রামের শামসুদ্দীনের ছেলে কিবরিয়াকে (৪২) গ্রেপ্তার করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গ্রেপ্তার রাজিব খান ও নকিবুল হাসান রাকিব আদালতে হত্যাকাণ্ডে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।

পিবিআই সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পরপরই পুলিশ ইন্সপেক্টর মো. মোস্তাফিজুর রহমান আনসারীর নেতৃত্বে একটি ক্রাইমসিন টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে ছায়া তদন্ত শুরু করে। পরে উন্নত তথ্যপ্রযুক্তি ও ডিজিটাল ফরেনসিক বিশ্লেষণ এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গাজীপুর ও নরসিংদীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ছিনতাই হওয়া অটোরিকশা, অটোরিকশা বিক্রির ২২ হাজার টাকা এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা হাতুড়ি, লোহার রড ও রশি উদ্ধার করা হয়।

নিহতের স্বজনরা জানান, প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার বিকেলে আতাউর রহমান যাত্রী পরিবহনের জন্য অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। এরপর পরিবারের সঙ্গে তার আর যোগাযোগ হয়নি। রাতে মির্জানগর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশে সড়কে একটি মরদেহ পড়ে থাকার খবর পেয়ে স্বজনরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে শনাক্ত করেন।

ছেলের নির্মম হত্যাকাণ্ডের খবর শুনে বৃদ্ধ মা জহুরা খাতুন ঘটনাস্থলেই অসুস্থ হয়ে মারা যান। শুক্রবার সকালে জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। পরে ময়নাতদন্ত শেষে আতাউর রহমানের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হলে একই দিন সন্ধ্যায় জানাজা শেষে মায়ের কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই গাজীপুরের পুলিশ ইন্সপেক্টর মো. মোস্তাফিজুর রহমান আনসারী বলেন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করতে তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে।

নিহতের ছেলে ও মামলার বাদী মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, আসামিদের গ্রেপ্তার করায় পিবিআইকে ধন্যবাদ জানাই। তিনি তার বাবার হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন।

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪