| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

সংবাদকর্মীদের আর্থিক সুরক্ষা ও গণমাধ্যমের পেশাদারিত্ব

reporter
  • আপডেট টাইম: অগাস্ট ২৫, ২০২৬ ইং | ২৩:০৮:৩২:অপরাহ্ন  |  ৭৬ বার পঠিত
সংবাদকর্মীদের আর্থিক সুরক্ষা ও গণমাধ্যমের পেশাদারিত্ব

এস এম ফয়েজ:

একটি দেশের গণতন্ত্র, সুশাসন এবং জনমত গঠনে গণমাধ্যমের ভূমিকা অনস্বীকার্য। যেকোনো প্রতিকূল পরিস্থিতি, দিন-রাত কিংবা ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে সংবাদকর্মীরা খবরের পেছনে ছুটে চলেন। কিন্তু এই বিশাল কর্মযজ্ঞের পেছনে যে মূল চালিকাশক্তি কাজ করে, তা হলো কর্মীদের মানসিক প্রশান্তি এবং আর্থিক নিশ্চয়তা। 

মনে রাখতে হবে, তথ্য ও প্রযুক্তির এই  যুগে গণমাধ্যম কেবল একটি সেবা নয়, এটি তীব্র প্রতিযোগিতাপূর্ণ একটি শিল্প। আর এই শিল্পের প্রাণ হলেন মাঠপর্যায়ের সংবাদকর্মী ও ডেস্কে বসে রাত জাগা সাংবাদিকরা। কিন্তু প্রায়শই দেখা যায়, সবার অধিকার নিয়ে সোচ্চার এই মানুষগুলোর নিজস্ব আর্থিক অধিকারগুলো আড়ালে পড়ে থাকে। 

তবে বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় মাসের ১ বা ২ তারিখের মধ্যে গণমাধ্যম কর্মীদের বেতন পরিশোধ করা হলে তা পুরো মিডিয়া ইন্ডাস্ট্রিতে এক অভূতপূর্ব ইতিবাচক আলোড়ন সৃষ্টি করতে পারে।

সাধারণত মাসের শুরুতেই প্রতিটি মানুষের বাড়িভাড়া, ইউটিলিটি বিল, সন্তানের স্কুলের বেতন এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজার সদাইয়ের মতো বড় বড় খরচের মুখোমুখি হতে হয়। মাসের প্রথম দুই দিনের মধ্যে বেতন পেয়ে গেলে কর্মীরা কোনো আর্থিক দুশ্চিন্তা ছাড়াই মাস শুরু করতে পারেন। এই অর্থনৈতিক স্বস্তি সরাসরি তাদের কাজের ওপর প্রভাব ফেলে।

একজন সাংবাদিক  যখন মাসের শুরুতেই তার শ্রমের পারিশ্রমিক বুঝে পান, তখন তার ভেতর এক ধরণের মনস্তাত্ত্বিক স্বস্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক মালিকানাবোধ তৈরি হয়। আর্থিক অনিশ্চয়তা দূর হলে ডেস্কে বা মাঠে তার মনোযোগের গভীরতা বাড়ে। চিন্তা ও কলমে আসে নতুন ধার। কোনো প্রকার মানসিক চাপ ছাড়া ফ্রিমাইন্ডে কাজ করার ফলে সংবাদের গুণগত মান বহুগুণ বেড়ে যায়, যা মিডিয়া হাউসের কন্টেন্টকে অন্যদের চেয়ে আলাদা ও আকর্ষণীয় করে তোলে। ফলে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই প্রতিষ্ঠানের কাজের গতি ও পেশাদারিত্বের মান উন্নয়ন হয়।

মিডিয়া পাড়ায় এক অদ্ভুত কালচার আছে—এখানে খবরের চেয়েও দ্রুত ছড়ায় ভেতরের খবর। যখন কোনো প্রতিষ্ঠান তার কর্মীদের মাসের প্রথম দুই দিনের মধ্যে বেতন দেয়, তখন সেই কর্মীদের মুখে মুখে প্রতিষ্ঠানের প্রতি এক ধরণের গভীর কৃতজ্ঞতাবোধ ও সুনাম ছড়িয়ে পড়ে গোটা মিডিয়া পাড়ায়। এই পজিটিভ 'মাউথ পাবলিসিটি' বা মুখের কথা বাজারে প্রতিষ্ঠানের ব্র্যান্ড ভ্যালু আকাশচুম্বী করে তোলে। এর ফলে ইন্ডাস্ট্রির সবচেয়ে প্রতিভাবান এবং অভিজ্ঞ গণমাধ্যম কর্মীরা নিজে থেকেই সেই প্রতিষ্ঠানে যুক্ত হওয়ার জন্য মুখিয়ে থাকেন। যোগ্য লোকবলের এই সমাগম যেকোনো মিডিয়াকে শীর্ষ সারিতে নিয়ে যেতে পারে।

মাসের শুরুতেই বেতন দেওয়া কোনো দয়া বা বাড়তি সুবিধা নয়, এটি মূলত একটি প্রতিষ্ঠানের দূরদর্শী ব্যবসায়িক কৌশল এবং উচ্চমানের নৈতিকতার প্রমাণ। যে মিডিয়া হাউস এই সংস্কৃতি চর্চা করছে বা চর্চা করবে তারা কেবল সংবাদ পরিবেশনেই আলোড়ন সৃষ্টি করবে না, বরং কর্পোরেট সংস্কৃতির এক অনন্য রোল মডেল হিসেবে পুরো গণমাধ্যম জগতে পথ দেখাবে।

তাই গণমাধ্যমের সামগ্রিক বিকাশ ও কর্মীদের কাজের গতি বাড়াতে মাসের শুরুতেই বেতন পরিশোধের এই সংস্কৃতি প্রতিটি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানে ছড়িয়ে পড়া জরুরি।

লেখক: সিনিয়র সাংবাদিক

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪