| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

আকস্মিক বন্যা : নেপাল-তিব্বতে নিখোঁজ বেড়ে ১ হাজার ৩৮৪

reporter
  • আপডেট টাইম: অগাস্ট ২৭, ২০২৬ ইং | ১৪:২৪:১৫:অপরাহ্ন  |  ৬৬৭ বার পঠিত
আকস্মিক বন্যা : নেপাল-তিব্বতে নিখোঁজ বেড়ে ১ হাজার ৩৮৪

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: ভোতি কোশি নদীর পানি হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় সৃষ্ট ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে নেপালের উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্তবর্তী জেলা রাসুয়া এবং সীমান্তের অপর পাশে চীনের তিব্বত অঞ্চল। প্রবল স্রোত, কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষের স্রোতে ভেসে গেছে ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট ও বিভিন্ন স্থাপনা। ভয়াবহ এই দুর্যোগে নেপাল ও তিব্বত মিলিয়ে নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা বেড়ে প্রায় ১ হাজার ৩৮৪ জনে দাঁড়িয়েছে। নিখোঁজদের মধ্যে প্রায় ৮০০ জন বিদেশি নাগরিক বলে জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) নেপাল ও তিব্বতের সরকারি কর্মকর্তাদের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। নেপালের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশটিতে নিখোঁজের সংখ্যা ৮২৬ জন। এর মধ্যে প্রায় ৫০০ জন বিদেশি নাগরিক বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির পর্যটন বিভাগ।

নেপালের পর্যটন বিভাগের কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে রয়েছেন ভারতের ১৭৭ জন, যুক্তরাষ্ট্রের ৬৩ জন, অস্ট্রেলিয়ার ৩৪ জন, যুক্তরাজ্যের ৩৩ জন এবং কানাডার ২৫ জন নাগরিক। এছাড়া আরও প্রায় দুই ডজন দেশের নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে।

ভয়াবহ বন্যার পর বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে জমে থাকা কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষের স্তূপ থেকে এখন পর্যন্ত ১৬৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে উদ্ধার অভিযান যত এগোবে, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে উদ্ধারকারী বাহিনী।

নেপালের পুলিশের মুখপাত্র অভি নারায়ণ কাফলে রয়টার্সকে বলেন, উদ্ধারকারী দল আবারও তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে। ফলে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে আরও মরদেহ উদ্ধারের আশঙ্কা রয়েছে।

তিনি বলেন, এই সংখ্যা বাড়বে, কারণ আমরা তল্লাশি পুনরায় শুরু করেছি এবং আরও মৃতদেহ উদ্ধার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। নেপালের পাশাপাশি চীনের তিব্বতেও ভয়াবহ আঘাত হেনেছে ভোতি কোশি নদীর আকস্মিক বন্যা। চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন চ্যানেল সিসিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বন্যায় তিব্বতে ৫৫৮ জন নিখোঁজ হয়েছেন।

নিখোঁজদের মধ্যে ২৬০ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। বন্যার পর সৃষ্ট কাদা, পাথর ও আবর্জনার ধ্বংসস্তূপ থেকে এখন পর্যন্ত তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে সিসিটিভি।

নিখোঁজদের সবাই তিব্বতের গিরং জেলার বাসিন্দা বা সেখানে অবস্থান করছিলেন বলে জানা গেছে। ভোতি কোশি নদীর হড়পা বানের মূল আঘাত এই জেলার ওপর দিয়েই গেছে।

বন্যার ভয়াবহতার চিত্র ফুটে উঠেছে যাচাই করা বিভিন্ন ভিডিওতে। এসব ভিডিওতে দেখা গেছে, গিরংয়ের একটি সীমান্ত ক্রসিংয়ে পানির প্রবল স্রোত ও ধ্বংসাবশেষের সঙ্গে কয়েক ডজন মানুষ ভেসে যাচ্ছে।

ভাটির দিকে প্রবল স্রোত নেমে আসার সময় নেপালের বিস্তীর্ণ এলাকায় ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট ও বিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত বা সম্পূর্ণভাবে ভেসে গেছে। আকস্মিক বন্যার কারণে বহু মানুষ মুহূর্তের মধ্যে নিজেদের ঘরবাড়ি ও স্বজনদের হারিয়েছেন।

বন্যার আকস্মিকতা এতটাই ভয়াবহ ছিল যে অনেক মানুষ নিরাপদ স্থানে যাওয়ার সুযোগও পাননি। মুহূর্তের মধ্যে কাদা, পাথর ও পানির প্রবল স্রোত জনবসতিতে ঢুকে পড়ে।

এই ভয়াবহ দুর্যোগ থেকে ভাগ্যক্রমে প্রাণে বেঁচে গেলেও নিজের স্ত্রীকে হারিয়েছেন নেপালের কেশব প্রসাদ বরাল। ৬৮ বছর বয়সী কেশব বর্তমানে একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

রয়টার্সকে নিজের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, আকস্মিকভাবে বিশাল কাদার স্রোত তাদের বাড়ির দিকে ধেয়ে আসে। স্রোত যত এগিয়ে আসছিল, ততই উঁচু হচ্ছিল।

কেশব বলেন, যখন দেখলেন কাদার স্রোত প্রায় বাড়ির ভেতরে ঢুকে পড়েছে, তখন তিনি স্ত্রীকে হাত ধরে ছাদে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু তার আগেই প্রবল কাদার স্রোতে ভেসে যান তার স্ত্রী।প্রায় চার ঘণ্টা পর একটি হেলিকপ্টার এসে বাড়ির ছাদ থেকে কেশবকে উদ্ধার করে।

নিজের স্ত্রীকে হারানোর বেদনায় কেশব বলেন, আমার স্ত্রী এখনও কাদার নিচে কোথাও আছে। আমি তাকে বাঁচাতে পারিনি।নেপাল ও তিব্বতে আকস্মিক বন্যার পর নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান চলছে। কাদা ও পাথরের বিশাল স্তূপের কারণে উদ্ধারকাজ কঠিন হয়ে পড়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও মানুষ আটকে থাকার আশঙ্কা করছেন উদ্ধারকারীরা।

নেপাল ও তিব্বত দুই অঞ্চলেই নিখোঁজদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বিদেশি নাগরিক থাকায় আন্তর্জাতিক পর্যায়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। উদ্ধার অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে এবং নিখোঁজদের সন্ধানে বিভিন্ন সংস্থা কাজ করছে।

ভোতি কোশি নদীর আকস্মিক বন্যায় নেপাল ও তিব্বতের সীমান্তবর্তী এলাকায় যে মাত্রায় ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে, তাতে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ চিত্র পেতে আরও সময় লাগবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। উদ্ধার অভিযান যত এগোবে, হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। সূত্র: রয়টার্স


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪