সাজ্জাতুল ইসলাম সিয়াম,জবি: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ক্যাম্পাসে বোরকা পরে নারীর ছদ্মবেশে প্রবেশের অভিযোগে এক যুবককে আটক করেছেন শিক্ষার্থীরা। পরে তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির কাছে হস্তান্তর করা হয়। ঘটনাটি ঘিরে ক্যাম্পাসে নানা আলোচনা ও কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ফটক দিয়ে ক্যাম্পাসে ঢোকার সময় শিক্ষার্থীরা তাকে আটক করেন। এ সময় তার কাছে একটি আবাসিক হোটেলের কার্ড পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদে ক্যাম্পাসে প্রবেশের কারণ সম্পর্কে ওই যুবক একাধিক বক্তব্য দেন বলে জানা গেছে। বোরকা পরার কারণ জানতে চাইলে প্রথমে তিনি দাবি করেন, শিক্ষার্থীদের বিরক্তি এড়ানোর জন্যই এমন পোশাক পরেছেন। পরে তিনি জানান, ভিক্টোরিয়া পার্ক এলাকায় নারীদের উত্ত্যক্তকারীদের শনাক্ত করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়ার উদ্দেশ্যে ছদ্মবেশ নিয়েছেন।
জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে তার যোগাযোগ রয়েছে বলেও দাবি করেন ওই যুবক। তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তরের প্রসঙ্গ উঠলে তিনি যাত্রাবাড়ী থানার একজন ওসির সঙ্গে ফোনে কথা বলিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করেন। পাশাপাশি নিজেকে একজন নেতার লোক বলেও পরিচয় দেন। তবে তার এসব দাবি বা পরিচয়ের সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ঘটনাটি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাদের মতে, একজন যুবকের নারীর ছদ্মবেশে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশের বিষয়টি স্বাভাবিক নয়। তার প্রকৃত উদ্দেশ্য কী ছিল, কেন তিনি বোরকা পরেছিলেন এবং তার কাছে থাকা আবাসিক হোটেলের কার্ডের সঙ্গে ঘটনার কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।
জানতে চাইলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মো. আজম খান বলেন, তারা ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত হয়েছেন। ওই ব্যক্তি কী উদ্দেশ্যে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেছিলেন, তা যাচাই করা হচ্ছে। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে। তার উদ্দেশ্য ক্ষতিকর হলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম