| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

জুলাইয়ের চেতনায় বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গড়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

reporter
  • আপডেট টাইম: সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২৬ ইং | ১৭:৫৯:৩৫:অপরাহ্ন  |  ৩৮৪ বার পঠিত
জুলাইয়ের চেতনায় বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গড়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে একটি গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক, বৈষম্যহীন ও মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে একটি গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক, বৈষম্যহীন ও মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা আমাদের সবার দায়িত্ব।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাস যথাযথভাবে তুলে ধরতে এর স্মৃতি সংরক্ষণ এবং জাদুঘরের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জুলাইয়ের আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের ইতিহাস যেন ভবিষ্যৎ প্রজন্ম জানতে পারে, সে জন্য এসব স্মৃতি সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় রাজধানীর জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শনকালে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।

এর আগে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম, প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্র্যাটেজিবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের মহাপরিচালকসহ রাষ্ট্রপতির কার্যালয় ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা রাষ্ট্রপতিকে জাদুঘরে স্বাগত জানান। এ সময় রাষ্ট্রপতির সঙ্গে তাঁর সহধর্মিণী রাহাত আরা বেগমও উপস্থিত ছিলেন।

রাষ্ট্রপতি দর্শনার্থী টিকিট সংগ্রহ করে জাদুঘরে প্রবেশ করেন। পরে লংওয়াক টু ডেমোক্রেসি ওয়াকওয়ে দিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রার বিভিন্ন ধাপের ঐতিহাসিক চিত্র পরিদর্শন করেন। একই সঙ্গে দীর্ঘ ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনামলে শহীদদের স্মরণে নির্মিত মেমোরিয়াল এবং রেপ্লিকা আয়নাঘর ঘুরে দেখেন তিনি।

পরিদর্শনের একপর্যায়ে রাষ্ট্রপতি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ওপর নির্মিত একটি সংক্ষিপ্ত প্রামাণ্যচিত্রও দেখেন।

এ সময় রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘ফ্যাসিস্টদের হাত থেকে মুক্তি পেয়েছি। গণতন্ত্র ফেরত পেয়েছি, কিন্তু মূল্য দিয়েছি অনেক বেশি।’ তিনি বলেন, রাষ্ট্র কখনোই জুলাইয়ের শহীদ ও আহত যোদ্ধাদের ঋণ শোধ করতে পারবে না। এ দেশে যেন আর কোনো দিন এ ধরনের মর্মান্তিক ও নিষ্ঠুর হত্যাযজ্ঞ না ঘটে, সে বিষয়েও সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

জাদুঘর পরিদর্শনের সময় রাষ্ট্রপতি বিডিআর ম্যাসাকার, শাপলা ম্যাসাকার, নির্যাতনের বিভিন্ন সামগ্রী এবং জোরপূর্বক গুমের ঘটনাসংক্রান্ত সেকশনগুলো ঘুরে দেখেন। সেখানে শহীদদের চিঠি, স্মারক ও বিভিন্ন স্মৃতিচিহ্ন দেখে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

এ ছাড়া জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ঘটনা এবং ছাত্র-জনতার আন্দোলন ও সংগ্রামের নানা অংশ ঘুরে দেখেন রাষ্ট্রপতি। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি তাঁদের আত্মত্যাগকে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচারের সংগ্রামের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী এবং আত্মোৎসর্গকারী ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগ জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। তাঁদের আত্মত্যাগ দেশের গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানবিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথে প্রেরণা হয়ে থাকবে।

এ সময় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত সবার দ্রুত সুস্থতা ও কল্যাণ কামনা করেন রাষ্ট্রপতি। তাঁদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি জাদুঘর প্রাঙ্গণে একটি বৃক্ষরোপণ করেন।

পরিদর্শনকালে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের বিভিন্ন স্থাপনা, দলিলপত্র ও প্রদর্শনীর বিষয়ে রাষ্ট্রপতিকে ব্রিফ করেন জাদুঘরের গবেষণা দলের সদস্য জুবায়ের ইবনে কামাল ও ফারহান মাসুদ।

পরিদর্শন শেষে রাষ্ট্রপতি জাদুঘরের পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন।


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪