| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

পশ্চিম এশিয়া সংকট আবহে দিল্লিতে মোদী-পেজেস্কিয়ান দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

reporter
  • আপডেট টাইম: সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ ইং | ২২:২০:৪৭:অপরাহ্ন  |  ২২০১৫ বার পঠিত
পশ্চিম এশিয়া সংকট আবহে দিল্লিতে মোদী-পেজেস্কিয়ান দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

আশিস গুপ্ত, নতুন দিল্লি: ইরান-আমেরিকা যুদ্ধ এবং ইজরায়েলি হামলার জেরে তৈরি হওয়া তীব্র কূটনৈতিক টানাফোড়েনের মধ্যেই শুক্রবার প্রথমবারের মতো ভারত সফরে এসেছেন ইরানের রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেস্কিয়ান। শনিবার থেকে শুরু হওয়া ব্রিকছ শীর্ষ সম্মেলনের ঠিক প্রাক্কালে নতুন দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হন তিনি। ইরানি রাষ্ট্রপতির পদ সামলানোর প্রায় দুই বছর পর ভারতের মাটিতে পেজেস্কিয়ানের এটিই প্রথম সফর। ২০১৮ সালে হাসান রুহানির পর আবার কোনো ইরানি রাষ্ট্রপতি ভারতে এলেন। দুই সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে মোদী ও পেজেস্কিয়ানের এটি দ্বিতীয় সাক্ষাৎ; এর আগে গত ৩১ আগস্ট সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সম্মেলনের ফাঁকেও তাঁদের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

দিল্লি বিমানবন্দরে পেজেস্কিয়ানকে স্বাগত জানান বন্দর, নৌপরিবহন ও জলপথ প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর। চাবাহার বন্দর প্রকল্পে ভারতের দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির বিষয়টি বিবেচনায় রেখে তাঁর উপস্থিতি কূটনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে ‘ইন্ডিয়া পোর্টস গ্লোবাল লিমিটেড’ শহিদ বেহেস্তি টার্মিনাল পরিচালনার জন্য ১০ বছরের চুক্তি করলেও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে বর্তমানে প্রকল্পটি অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। বৈঠকে মোদী ভারতের সুদৃঢ় বন্ধুত্বের বার্তা দিয়ে সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, “দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে একটি দীর্ঘমেয়াদী এবং পারস্পরিক লাভজনক কৌশলের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই আমাদের লক্ষ্য।” পশ্চিম এশিয়ার অস্থির পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন যে ভারত অঞ্চলে স্থায়ী শান্তির পক্ষে অবিচল।

দ্বিপাক্ষিক আলোচনার বাইরেও দুই নেতার সৌহার্দ্যের ছবি সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ে ‘ব্রিকছ বিজনেস ফোরাম’-এ। সেখানে প্রধানমন্ত্রী মোদীকে প্রকাশ্যেই পেজেস্কিয়ানের হাত ধরে হেঁটে যেতে দেখা যায়, যাঁর অন্য পাশে ছিলেন রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন এবং দক্ষিণ আফ্রিকার রাষ্ট্রপতি সিরিল রামাফোসা। শীর্ষ সম্মেলনের প্রাক্কালে এই দৃশ্যটি আন্তর্জাতিক স্তরে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিরোধী দল কংগ্রেস দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছিল যে ভারত সরকার ইরানে মার্কিন-ইজরায়েলি হামলার নিন্দা জানাতে ব্যর্থ হয়েছে এবং সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর তাৎক্ষণিক শোকবার্তা না জানিয়ে ভারত কূটনৈতিক দায়বদ্ধতা এড়িয়ে গেছে। ফলে মোদীর এই বাহ্যিক উষ্ণ অভ্যর্থনা ও আলোকচিত্রের রাজনীতিকে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ সামলানোর কৌশল হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

বৈঠকে পেজেস্কিয়ান ভারতের সঙ্গে সবকটি কৌশলগত চুক্তি অব্যাহত রাখার ওপর জোর দেন। মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও সাম্প্রতিক যুদ্ধের কারণে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য অনেকটাই হ্রাস পেলেও তিনি জানান, দুই দেশের প্রাচীন সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন ও যৌথ স্বার্থকে কাজে লাগিয়ে অর্থনৈতিক সম্পর্ককে পুনরায় জোরদার করা প্রয়োজন। দিল্লি সফরের বিভিন্ন কর্মসূচিতে পেজেস্কিয়ান আমেরিকা ও ইজরায়েলকে তীব্র আক্রমণ করে বলেন, “যারা আমাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে, আমরাও তাদের পাল্টা জবাব দেব।” বেসামরিক নাগরিক, স্কুল এবং হাসপাতালে হামলা চালিয়ে মানবাধিকারের কথা বলাকে তিনি চরম ভণ্ডামি বলে উল্লেখ করেন। পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক সংস্থাসগুলির একচ্ছত্র আধিপত্যের সমালোচনা করে তিনি ব্রিকছ ব্যাংক-এর মাধ্যমে নিজস্ব মুদ্রায় অর্থায়ন এবং ১,০০০ কোটি ডলারের একটি যৌথ পুনর্বিমা কোম্পানি গঠন করার প্রস্তাব দেন।

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪