| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

নদীতে বাঁশের বেড়া, নিষিদ্ধ জালে মাছ শিকার: হুমকির মুখে মৎস্য প্রজনন ও পরিবেশ

reporter
  • আপডেট টাইম: সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ ইং | ১৭:৩২:৪৩:অপরাহ্ন  |  ২৭৩ বার পঠিত
নদীতে বাঁশের বেড়া, নিষিদ্ধ জালে মাছ শিকার: হুমকির মুখে মৎস্য প্রজনন ও পরিবেশ

মোঃ আইনুর ইসলাম, বগুড়াঃ চায়না দুয়ারি জাল, সুতিজাল, কারেন্ট জালসহ বিভিন্ন নিষিদ্ধ উপকরণ ব্যবহার করে নদী থেকে প্রতিদিন মাছ শিকার করা হচ্ছে। হুমকির মুখে পড়েছে পরিবেশ ও দেশীয় মাছের প্রজনন। নদীতে বাঁশের বেড়ার কৃত্রিম বাঁধ দিয়ে জাল পাতানো হয়। এমন দৃশ্য চোখে পড়লেও কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি মৎস্য বিভাগ। 

বগুড়ার নদ-নদী, খাল-বিল ও জলাশয়ে মাছের মৃত্যুফাঁদ ‘নিষিদ্ধ’ জাল। মশারির মতো মিহি বুননের এসব উপকরণ নদীর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। আটকা পড়ছে রেনু পোনা থেকে শুরু করে ছোট-বড় প্রজাতির মাছ। প্রাকৃতিক মৎস্যসম্পদ ধ্বংস হওয়ার পাশাপাশি জলজ জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কম পরিশ্রমে বেশি মাছ পাওয়ায় নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার বেড়েছে।  

সরেজমিনে দেখা যায়, বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার কুন্দগ্রাম ও চাঁপাপুর ইউনিয়নের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া নাগর নদীর কয়েকটি স্থানে প্রাণ-পরিবেশ অবরুদ্ধ। নদীতে বাঁশের বেড়া (কৃত্রিম বাঁধ) দিয়ে স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ আটকে রেখে মাছ শিকার করা হয়। পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় সঠিক গতিপথ নেই। পানিতে পাতানো জালে ধরা পড়ছে দেশীয় প্রজাতির মাছ। নিষিদ্ধ উপকরণ ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা। 

কয়েকজন জেলে জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে অসাধু ব্যবসায়ীরা হাট বাজারে চায়না জাল, কারেন্ট জাল বিক্রি করছে। এলাকাভিত্তিক শিকারি বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এ অবস্থায় কর্মহীন হচ্ছে স্থানীয় জেলেরা। নদী, খাল-বিল সবখানে অবাধে মাছ শিকার করা হচ্ছে। জলাশয়ে থাকা কোনো জলজ প্রাণিও রক্ষা পাচ্ছে না। ভয়ঙ্কর জালের ফাঁদে ধ্বংস হচ্ছে দেশীয় মাছের প্রজনন। 

নিষিদ্ধ উপকরণ ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার তাগিদ দিয়েছেন বগুড়া পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও নদী রক্ষা কমিটির সদস্য সৈয়দ ফজলে রাব্বী ডলার। তিনি জানান, নিষিদ্ধ জালের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে মানুষের মধ্যে এখনো যথেষ্ট ধারণা বা সচেতনতা তৈরি হয়নি। নদীতে বাঁশের বেড়া কৃত্রিম বাঁধ দিয়ে মাছ শিকার হচ্ছে। এসব নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে অভ্যন্তরীণ মৎস্যসম্পদ আরও ক্ষতির মুখে পড়বে। অর্থনৈতিক এবং পরিবেশগত ক্ষতি দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে। 

এ প্রসঙ্গে আদমদীঘি উপজেলা সিনিয়র মৎস্য অফিসার নাহিদ হোসেন বলেন, এলাকাভিত্তিক মাছ শিকারি বেড়েছে। তাদেরকে মৌখিকভাবে সতর্ক করছেন মৎস্য বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা। নদীর মুক্ত পানিপ্রবাহ বন্ধ রাখা ও নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করা বেআইনি। বাঁশের বেড়ার কৃত্রিম বাঁধসহ এসব জাল অপসারণ না করলে আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪