গাইবান্ধা প্রতিনিধি: গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার কাশিয়াবাড়ীতে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির নতুন কার্ড বিতরণে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট ডিলার ছানারুলের বিরুদ্ধে। কয়েকজন কার্ডধারীর অভিযোগ, নতুন কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে তাঁদের কাছ থেকে কার্ডপ্রতি ১০০ টাকা করে নেওয়া হয়েছে। তবে ১০০ টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে ডিলার ৩০ টাকা করে নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) কাশিয়াবাড়ী এলাকায় সরেজমিনে কার্ডধারী ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা যায়। কার্ডধারীদের কয়েকজনের বক্তব্য এবং ডিলারের বক্তব্য প্রতিবেদকের কাছে ভিডিও ও রেকর্ড আকারে সংরক্ষিত রয়েছে।
কার্ডধারীদের ভাষ্য, নতুন কার্ড পাওয়ার জন্য তাঁদের কাছ থেকে ১০০ টাকা করে নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে কয়েকজন কার্ডধারী তাঁদের বক্তব্যে অর্থ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ডিলার ছানারুল বলেন, কার্ডধারীদের কাছ থেকে ১০০ টাকা নেওয়া হয়নি। ৩০ টাকা করে নেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, কার্ডপ্রতি ২৫ টাকা করে অফিসে জমা দিয়ে কার্ড বিতরণ করা হয়েছে।
ডিলারের এই বক্তব্যের বিষয়ে কার্ডপ্রতি ২৫ টাকা অফিসে জমা দেওয়ার কোনো রসিদ বা সংশ্লিষ্ট নথি রয়েছে কি না, তা সরেজমিনে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। একইভাবে কার্ড বিতরণের ক্ষেত্রে কার্ডধারীদের কাছ থেকে কোনো নির্ধারিত ফি নেওয়ার বিধান রয়েছে কি না, সেটিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এদিকে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ২০২৪ সালের নীতিমালা প্রকাশিত রয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়, গাইবান্ধার কারিগরি খাদ্য পরিদর্শক মোঃ আল-আউয়াল জানান, বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হবে।
স্থানীয়দের দাবি, অভিযোগটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে কার্ড বিতরণের রেজিস্টার, উপকারভোগীদের তালিকা, সংশ্লিষ্ট নথিপত্র এবং অর্থ গ্রহণের কোনো বিধান বা অনুমোদন রয়েছে কি না, তা যাচাই করা হোক। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
তদন্তের দাবি কার্ডধারীদের কাছ থেকে ১০০ টাকা নেওয়ার অভিযোগ এবং ডিলারের ৩০ টাকা নেওয়ার স্বীকারোক্তি—দুই বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। ফলে প্রকৃতপক্ষে কত টাকা নেওয়া হয়েছে, কেন নেওয়া হয়েছে এবং তা কোনো সরকারি বিধান বা অনুমোদনের আওতায় পড়ে কি না—এসব বিষয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নথি যাচাই ও সরেজমিন তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট করার দাবি উঠেছে।
কার্ডধারীদের বক্তব্য, ডিলারের বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার প্রতিক্রিয়া প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের ওপরই নির্ভর করছে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম