| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

কানাডায় সম্পদের পাহাড় সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুরের

reporter
  • আপডেট টাইম: অক্টোবর ০২, ২০২৬ ইং | ১২:০৫:১৩:অপরাহ্ন  |  ৬৮৩ বার পঠিত
কানাডায় সম্পদের পাহাড় সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুরের

রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুর শেখ নুর ইসলাম ও তার পরিবারের কানাডায় ব্যবসা, সম্পদ এবং আর্থিক লেনদেনের বিস্তৃত তথ্য পেয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি) ও আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিট। প্রায় এক দশকের আর্থিক কর্মকাণ্ড বিশ্লেষণ করে কানাডায় পরিবারের একাধিক কোম্পানি, ব্যাংক হিসাব, ব্যবসায়িক সম্পৃক্ততা এবং বিভিন্ন ধরনের লেনদেনের তথ্য উঠে এসেছে এসব গোয়েন্দা নথিতে।

গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, ২০১২ সালের ২৬ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত শেখ নুর ইসলাম ও তার পরিবারের আর্থিক কর্মকাণ্ডের ওপর তৈরি ১৬৩টি প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এসব নথিতে সন্দেহজনক লেনদেন, সন্দেহজনক লেনদেনের চেষ্টা, বড় অঙ্কের নগদ লেনদেন, ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার এবং আন্তদেশীয় অর্থ লেনদেনের বিভিন্ন তথ্য সংরক্ষিত রয়েছে।

নথিগুলোতে ১৭টি সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্যের পাশাপাশি সন্দেহজনক লেনদেনের চেষ্টার দুটি ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া বড় অঙ্কের নগদ লেনদেনের ১১৮টি প্রতিবেদন, ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার নেটওয়ার্কের মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তরের ২৬টি নথি এবং আন্তদেশীয় লেনদেনের দুটি প্রতিবেদনের তথ্যও পাওয়া গেছে।

গোয়েন্দা নথিতে শেখ নুর ইসলাম, তার স্ত্রী শীলা ইসলাম এবং দুই মেয়ে দিশা ইসলাম ও তাসনিম ইসলামের নাম রয়েছে। এসব নথিতে পরিবারের সদস্যদের কানাডার নাগরিকত্ব এবং দেশটিতে একাধিক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততার তথ্যও উল্লেখ করা হয়েছে।

নথি অনুযায়ী, পরিবারের সদস্যরা ‘শেখ নুর ম্যানেজমেন্ট ইনকর্পোরেটেড’এর পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। শেখ নুর ইসলামকে ‘১৭৭১০৬৯ অন্টারিও ইনকর্পোরেটেড’-এর পরিচালক ও প্রেসিডেন্ট হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে।

নথিতে তার পেশা হিসেবে রিয়েল এস্টেট ব্যবস্থাপনার তথ্য রয়েছে। পাশাপাশি ‘জুম জুম পিৎজা’ ব্যবসার মালিকানার সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

শেখ নুর ইসলামের স্ত্রী শীলা ইসলামের ডমিনোজ পিৎজার ব্যবসা ও ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য রয়েছে। অন্যদিকে দিশা ইসলাম—যিনি সালমান মুক্তাদিরের স্ত্রী কানাডার সান লাইফে বিনিয়োগ পরামর্শক ও সেগ্রিগেটেড ফান্ড বিশ্লেষক হিসেবে কাজ করার তথ্য নথিতে রয়েছে। একই নথিতে তাকে ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে।

পরিবারের আরেক সদস্য তাসনিম ইসলামও কানাডার নাগরিক এবং ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে। গোয়েন্দা প্রতিবেদনে শেখ নুর ইসলাম ও তার পরিবারের সদস্যদের সম্মিলিত আর্থিক লেনদেনের পরিমাণ প্রায় ৫০ লাখ ৮৯ হাজার ৬২৯ কানাডিয়ান ডলার বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে শুধু কানাডিয়ান ডলারেই এসব লেনদেন সীমাবদ্ধ ছিল না। নথিতে ব্রিটিশ পাউন্ড, সিঙ্গাপুর ডলার, থাই বাথ এবং মার্কিন ডলারে লেনদেনের তথ্যও রয়েছে।

কানাডায় পরিবারের সদস্যদের ব্যক্তিগত ও যৌথ ব্যাংক হিসাবের পাশাপাশি বিভিন্ন কোম্পানির নামেও একাধিক ব্যাংক হিসাব থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। শীলা ইসলামের নামে একটি মর্টগেজ হিসাব থাকার তথ্যও নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

বাংলাদেশের কর নথিতেও শেখ নুর ইসলামের নামে একাধিক ব্যবসা ও প্রতিষ্ঠানের তথ্য রয়েছে। নথি অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ করবর্ষে তার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল প্রায় ১৪ কোটি টাকা। পরবর্তী করবর্ষে সেই সম্পদের পরিমাণ বেড়ে প্রায় ১০৪ কোটি টাকায় দাঁড়ায়।

কর নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এই সম্পদের মধ্যে প্রায় ৯৫ কোটি টাকা রেমিট্যান্স হিসেবে দেখানো হয়েছে।

বাংলাদেশের কর নথিতে বর্ষা মানি চেঞ্জিং সেন্টার, বর্ষা ডেইরি ফার্ম এবং বর্ষা ফিশারিজের মতো ব্যবসার তথ্য রয়েছে। একই সঙ্গে ডমিনোজ পিৎজা, ফুওয়াং বোলিং, ইস্টার্ন হোটেল অ্যান্ড বার, রেডিও মাসালা, স্পাইস টেলিভিশন, স্টারবাকস ক্যাফে এবং টিম হর্টনসসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পরিচালক হিসেবে শেখ নুর ইসলামের সম্পৃক্ততার তথ্যও উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে গোয়েন্দা প্রতিবেদনে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও উল্লেখ করা হয়েছে। বাংলাদেশের কর নথিতে কানাডার ‘শেখ নুর ম্যানেজমেন্ট ইনকর্পোরেটেড’ কিংবা ‘১৭৭১০৬৯ অন্টারিও ইনকর্পোরেটেড’-এর নাম পাওয়া যায়নি।

এছাড়া ঢাকার একটি ওয়্যারহাউজ ‘টস বন্ড’-এর নামও সংশ্লিষ্ট কর নথিতে পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একইভাবে কানাডার নাগরিকত্বের তথ্যও বাংলাদেশের কর নথিতে নেই বলে সংশ্লিষ্ট নথি থেকে জানা গেছে।

এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) গভীর রাতে শেখ নুর ইসলামের ছত্রছায়ায় পরিচালিত বলে অভিযোগ ওঠা একটি ‘অননুমোদিত’ ওয়্যারহাউসে শুল্কমুক্ত মদ রাখার অভিযোগে চারটি ওয়্যারহাউস সিলগালা করা হয়েছে।

ওই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপের পর শেখ নুর ইসলাম ও তার পরিবারের ব্যবসা এবং আর্থিক কর্মকাণ্ড নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

সম্প্রতি ঢাকার দক্ষিণ মানিকদীতে নিউ গিনি প্রপার্টিজের একটি আবাসন প্রকল্পে হামলার ঘটনায় সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর শেখ নুর ইসলাম ও তার পরিবারের আর্থিক কর্মকাণ্ডও নতুন করে আলোচনায় আসে।

তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কানাডায় শেখ নুর ইসলাম ও তার পরিবারের অর্থ লেনদেন এবং সম্পদের বিষয়ে যে তদন্ত চলছে, সেটি সাম্প্রতিক ওই হামলার ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়।

গোয়েন্দা সংস্থার নথিতে উঠে আসা এসব তথ্যের ভিত্তিতে কানাডা ও বাংলাদেশে পরিবারের ব্যবসা, সম্পদ, ব্যাংক হিসাব এবং আন্তদেশীয় আর্থিক লেনদেনের বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪