| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

রং-তুলির আঁচড়ে প্রাণ ফিরে পাচ্ছে প্রতিমা

টাঙ্গাইলে ১,৩৫৭ মণ্ডপে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি

reporter
  • আপডেট টাইম: অক্টোবর ০৭, ২০২৬ ইং | ১৪:০২:৫২:অপরাহ্ন  |  ৬৭৭ বার পঠিত
টাঙ্গাইলে ১,৩৫৭ মণ্ডপে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি: শারদীয় দুর্গোৎসবকে ঘিরে টাঙ্গাইলে শুরু হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। জেলার ১২টি উপজেলায় ১ হাজার ৩৫৭টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিমা তৈরির কারিগরদের ব্যস্ততা এখন তুঙ্গে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বাঁশ, কাঠ, খড় ও মাটি দিয়ে প্রতিমা তৈরির পাশাপাশি চলছে রং-তুলির শেষ আঁচড়।

ইতোমধ্যে অধিকাংশ মণ্ডপে দেবী দুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক, গণেশ ও মহিষাসুরের প্রতিমার কাঠামো তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। কোথাও চলছে মাটির প্রলেপ ও কারুকাজ, আবার কোথাও প্রতিমায় রং দেওয়ার কাজ প্রায় শেষের দিকে। এরপর অলংকার ও সাজসজ্জায় সজ্জিত করে প্রতিমা মণ্ডপে স্থাপন করা হবে।

আগামী ১৫ অক্টোবর মহাপঞ্চমী এবং ১৬ অক্টোবর ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। ১৭ ও ১৮ অক্টোবর মহাসপ্তমী, ১৯ অক্টোবর মহাষ্টমী, ২০ অক্টোবর মহানবমী এবং ২১ অক্টোবর বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের শারদীয় দুর্গোৎসব।

জেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্ট সূত্রে জানা গেছে, এবার মধুপুরে ৬০টি, ধনবাড়ীতে ৩৬টি, ঘাটাইলে ৯৪টি, কালিহাতীতে ১৮২টি, গোপালপুরে ৫৭টি, ভূঞাপুরে ৩৪টি, টাঙ্গাইল সদরে ২৩৩টি, নাগরপুরে ১৩৮টি, দেলদুয়ারে ১২৮টি, মির্জাপুরে ২৭০টি, বাসাইলে ৮১টি এবং সখীপুরে ৪৪টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে।

সরেজমিনে টাঙ্গাইল শহরের শ্রী শ্রী কালীবাড়ি, আদালতপাড়া, থানাপাড়া, সাবালিয়া, রেজিস্ট্রিপাড়া, কলেজপাড়া ও প্যারাডাইসপাড়া পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখা যায়, প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে। শিল্পীরা নিখুঁতভাবে প্রতিমার চোখ, মুখমণ্ডল, পোশাক ও অলংকারের নকশা ফুটিয়ে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

প্রতিমা কারিগর নিশিকান্ত পাল বলেন, প্রতিবছর এ সময়টিতে তারা প্রতিমা তৈরির কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। এবারও মাটির কাজ প্রায় শেষ হয়েছে, এখন চলছে রঙের কাজ। তবে কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় আগের তুলনায় লাভ কমেছে। এ বছর তিনি পাঁচটি প্রতিমা তৈরি করছেন। কাজের ধরন ও আকার অনুযায়ী প্রতিমা তৈরিতে ১ লাখ থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত মজুরি নিচ্ছেন।

মির্জাপুর উপজেলার কুমুদিনী হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা দানবীর রণদা প্রসাদ সাহার নিজ বাড়ির পূজামণ্ডপটিও দুর্গাপূজার অন্যতম বড় আয়োজন। এ মণ্ডপের প্রতিমা তৈরির কাজ করছেন মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার নৌহাটা গ্রামের অচিন্ত পাল। তিনি জানান, মির্জাপুর সাহাপাড়া ও মধ্যপাড়া সার্বজনীন মণ্ডপে প্রতিমা তৈরি করছেন। এ কাজে তিনি এক লাখ টাকা পারিশ্রমিক নেবেন।

জেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সভাপতি অমল ব্যানার্জি বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গাপূজা উদযাপনের লক্ষ্যে প্রস্তুতি প্রায় শেষ। সার্বিক নিরাপত্তা ও প্রস্তুতি নিয়ে জেলা প্রশাসন ও পুলিশের সঙ্গে পূজা উদযাপন কমিটির বৈঠক হয়েছে। পুলিশ ও আনসার সদস্যদের পাশাপাশি প্রতিটি মণ্ডপে স্বেচ্ছাসেবকরাও দায়িত্ব পালন করবেন।

টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার বলেন, দুর্গাপূজা উপলক্ষে জেলায় বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পূজা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে সনাতন ধর্মাবলম্বী নেতৃবৃন্দের সঙ্গে পুলিশ প্রশাসনের নিয়মিত বৈঠক হচ্ছে। একই সঙ্গে দুর্গাপূজাকে ঘিরে গোয়েন্দা তৎপরতাও বাড়ানো হয়েছে।

রিপোর্টার্স২৪/রাফিদ

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪