| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

আবরার ফাহাদের মৃত্যুবার্ষিকী আজ, ৭ বছরেও শেষ হয়নি বিচারপ্রক্রিয়া

reporter
  • আপডেট টাইম: অক্টোবর ০৭, ২০২৬ ইং | ১৪:০৫:২০:অপরাহ্ন  |  ৬৫২ বার পঠিত
আবরার ফাহাদের মৃত্যুবার্ষিকী আজ, ৭ বছরেও শেষ হয়নি বিচারপ্রক্রিয়া

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০১৯ সালের ৭ অক্টোবর বুয়েটের শেরেবাংলা হলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নির্যাতনে নিহত হন তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের মেধাবী এই শিক্ষার্থী। সাত বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো চূড়ান্তভাবে শেষ হয়নি বিচারপ্রক্রিয়া। রায় কার্যকরের অপেক্ষায় দিন কাটছে আবরারের পরিবারের।

কুষ্টিয়া শহরের পিটিআই সড়কের পাশে আবরারদের বাড়িতে এখনো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, ল্যাপটপসহ নানা জিনিসপত্র। আগের মতোই রয়েছে তার বিছানা ও পড়ার টেবিল। শুধু নেই আবরার। ছেলের স্মৃতি আঁকড়ে ধরে কোনো রকমে দিন কাটাচ্ছেন মা রোকেয়া খাতুন ও বাবা বরকত উল্লাহ বুলু। সন্তানের নির্মম হত্যাকাণ্ডের কথা মনে পড়লে এখনো শিউরে ওঠেন তারা।

পরিবারের দাবি, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে তৎকালীন কয়েকটি চুক্তির সমালোচনা করে ফেসবুকে দেওয়া আবরারের একটি পোস্টকে কেন্দ্র করেই তাকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়। মামলার অভিযোগপত্র ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যেও এ বিষয়টি উঠে এসেছে।

সাত বছর পরও রায় কার্যকর না হওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ বুলু। তিনি বলেন, যে বৈষম্যহীন রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখে আবরার জীবন দিয়েছে, সেই বৈষম্যহীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি দ্রুত তার হত্যার রায় কার্যকর করতে হবে।

আবরারের হত্যার বিচারের রায় কার্যকরের অপেক্ষায় রয়েছেন তার ১০৫ বছর বয়সী দাদা আব্দুল গফুরও। জীবিত থাকতেই নাতি হত্যার চূড়ান্ত রায় ও সাজা কার্যকর দেখে যেতে চান তিনি।

আবরার হত্যা মামলার বিচার শুরু হয় ২০২০ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর। ২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ মামলার রায়ে ২০ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য মামলার ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে পাঠানো হয়। একই সঙ্গে দণ্ডিত আসামিরা আপিল ও জেল আপিল করেন।

দীর্ঘ শুনানি শেষে ২০২৫ সালের ১৬ মার্চ হাইকোর্ট বিচারিক আদালতের রায় বহাল রাখেন। ফলে ২০ আসামির মৃত্যুদণ্ড এবং পাঁচজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল থাকে।

হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে দণ্ডিত আসামিরা আপিল ও লিভ টু আপিল করেছেন। রাষ্ট্রপক্ষ নতুন করে আপিল করেনি। বর্তমানে মামলাটি আপিল বিভাগে বিচারাধীন। তবে এখনো মূল আপিলের শুনানি শুরু হয়নি এবং মামলাটি আপিল বিভাগের কার্যতালিকায়ও ওঠেনি।

আসামিপক্ষের আইনজীবীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মামলার প্রায় ১০ হাজার পৃষ্ঠার পেপারবুক প্রস্তুত হয়েছে। দণ্ডিত ২৫ আসামির মধ্যে ২২ জন কারাগারে রয়েছেন। বাকি তিনজন পলাতক। স্বজন ও স্থানীয়দের ধারণা, পলাতক তিনজন ভারতে চলে গেছেন।

দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়ার পরও চূড়ান্ত রায় ও সাজা কার্যকর না হওয়ায় আবরারের পরিবারে এখনো অনিশ্চয়তা ও হতাশা বিরাজ করছে। স্বজনদের একটাই প্রত্যাশা—জীবদ্দশায় তারা যেন আবরার হত্যার চূড়ান্ত বিচার ও রায় কার্যকর হতে দেখে যেতে পারেন।

রিপোর্টার্স২৪/রাফিদ

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪