| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

লালপুরে খেজুরের গুড়ে ৬৪ কোটি টাকার সম্ভাবনা

শীতের আগমনে ব্যস্ত আড়াই হাজার গাছি, লক্ষ্যমাত্রা ৩ হাজার টনের বেশি গুড় উৎপাদন

reporter
  • আপডেট টাইম: অক্টোবর ২৩, ২০২৬ ইং | ১৪:৫৪:১০:অপরাহ্ন  |  ৭৮৭ বার পঠিত
শীতের আগমনে ব্যস্ত আড়াই হাজার গাছি, লক্ষ্যমাত্রা ৩ হাজার টনের বেশি গুড় উৎপাদন

নাটোর প্রতিনিধি: শীতের আগমনী বার্তার সঙ্গে সঙ্গে খেজুরের রস সংগ্রহ ও গুড় তৈরির প্রস্তুতিতে ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন নাটোরের লালপুর উপজেলার প্রায় আড়াই হাজার গাছি। ভোরের হিমেল হাওয়া আর ঘাসের ডগায় জমে থাকা শিশির জানান দিচ্ছে শীতের আগমনের কথা। শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে খেজুরের রসের প্রবাহ বাড়বে। সেই রস জ্বাল দিয়ে তৈরি হবে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী খেজুরের গুড়। এ মৌসুমে খেজুরের রস ও গুড় ঘিরে উপজেলায় প্রায় ৬৪ কোটি টাকার বাণিজ্যের সম্ভাবনা দেখছে কৃষি বিভাগ।

কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, লালপুর উপজেলায় বর্তমানে প্রায় ১ লাখ ৩৩ হাজার ৩২৫টি খেজুরগাছ রয়েছে। এসব গাছ থেকে চলতি মৌসুমে ৩ হাজার ২১০ দশমিক ৫ টন গুড় উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। উৎপাদনের এ লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হলে গুড়ের সম্ভাব্য বাজারমূল্য দাঁড়াবে প্রায় ৬৪ কোটি ২১ লাখ টাকা।

উপজেলার কৃষ্ণরামপুর গ্রামের গাছি নজরুল ইসলাম (৪৪) গত ৩০ বছর ধরে খেজুরের রস সংগ্রহ করে আসছেন। চলতি মৌসুমে তিনি ১৫০টি গাছ প্রস্তুত করেছেন। তাঁর ভাষ্য, প্রতিটি গাছ প্রস্তুত করতে খরচ হয়েছে প্রায় ২৫০ টাকা। এক সপ্তাহের মধ্যেই রস সংগ্রহ শুরু করতে পারবেন বলে আশা করছেন তিনি। তবে পুরোদমে রস সংগ্রহ ও গুড় উৎপাদনের জন্য পৌষ মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রীতম কুমার হোড় মানবজমিনকে জানান, লালপুরের রেললাইনের পাশ, ফসলি জমির আইল ও পতিত জমিতে অসংখ্য খেজুরগাছ রয়েছে। শীত মৌসুমে এসব গাছ থেকে রস সংগ্রহ করে গুড় তৈরি করেন গাছিরা। সঠিক পদ্ধতিতে গাছ প্রস্তুত ও পরিচর্যা করা গেলে মৌসুমে একটি খেজুরগাছের রস থেকে প্রায় ২৫ কেজি পর্যন্ত গুড় পাওয়া সম্ভব। গাছিদের উৎপাদন বাড়াতে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছে উপজেলা কৃষি বিভাগ।

তবে খেজুরের রস সংগ্রহের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যসুরক্ষার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মুনজুর রহমান বলেন, বাদুড়ের মাধ্যমে খেজুরের কাঁচা রসে নিপাহ ভাইরাস ছড়ানোর ঝুঁকি রয়েছে। এ জন্য রস সংগ্রহের পাত্রের মুখ ঢেকে রাখা এবং বাদুড়ের সংস্পর্শ থেকে রস সুরক্ষিত রাখতে গাছিদের সচেতন থাকা প্রয়োজন।

এদিকে খেজুরের গুড়ের ঐতিহ্য ও সুনাম ধরে রাখতে উৎপাদন থেকে শুরু করে বাজারজাতকরণ পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ে ভেজাল প্রতিরোধের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাঁদের মতে, প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি ও নিরাপদ উৎপাদন নিশ্চিত করা গেলে লালপুরের খেজুরের গুড়ের সুনাম আরও বাড়বে। পাশাপাশি এ মৌসুমি শিল্প স্থানীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

রিপোর্টার্স২৪/রাফিদ

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪