রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক :
মেট্রোরেল লাইন-৬ প্রকল্পের মতিঝিল থেকে কমলাপুর পর্যন্ত বর্ধিত অংশের নির্মাণকাজ আবার শুরু হতে যাচ্ছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে পুরোনো বরাদ্দের তুলনায় প্রায় ৭০ শতাংশ বেশি দরে নতুন করে চুক্তি করেছে সরকার। চলতি বছরের ডিসেম্বরেই এই রুটে যাত্রী পরিবহন শুরুর কথা ছিল, তবে ঠিকাদার নিয়োগে জটিলতার কারণে তা পিছিয়ে যায়।
ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) সূত্রে জানা গেছে, ইলেকট্রোমেকানিক্যাল কাজের জন্য ২০২০-২১ অর্থবছরের সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবে বরাদ্দ ছিল ২৭৪ কোটি টাকা। কিন্তু নতুন করে চুক্তি হয়েছে ৪৬৫ কোটি টাকায়। যদিও ঠিকাদার প্রাথমিকভাবে প্রায় ৬০০ কোটি টাকা দাবি করেছিলেন, পরে আলোচনার মাধ্যমে প্রায় ২০০ কোটি টাকা কমানো হয়েছে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডলার উন্মুক্ত হওয়া, কাঁচামাল সরবরাহে জটিলতা, পরিবহন খরচ বৃদ্ধি এবং বিশ্ববাজারে পণ্যমূল্য বৃদ্ধির কারণে পুরোনো বাজেটে কাজ করতে রাজি হননি আগের ঠিকাদার। ফলে সময় বাঁচাতে এবং ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত অংশে যিনি কাজ করছেন, তাকেই বর্ধিত অংশের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
মেট্রোরেলের ইলেকট্রোমেকানিক্যাল কাজের আওতায় রয়েছে—বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা, লিফট, এক্সেলেটর, ট্রেনের স্বয়ংক্রিয় দরজা খোলার ব্যবস্থা, মনিটরিং সিস্টেম, সিসিটিভি, সিগন্যাল এবং টেলিকমিউনিকেশন স্থাপন। এসব কাজেই মূলত বড় অংশের ব্যয় বেড়েছে।
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেন, “জাইকার অর্থায়নে প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে বলে তাদের চুক্তির আওতায় থেকেই কাজ করতে হচ্ছে। ঠিকাদারের প্রস্তাবনার আলোকে আলোচনা করে ব্যয় যৌক্তিক পর্যায়ে আনা হয়েছে।”
ডিএমটিসিএল জানিয়েছে, নতুন করে দরপত্র আহ্বান করলে প্রকল্পে আরও বিলম্ব হতো। সেই সঙ্গে নতুন ঠিকাদার প্রযুক্তিগত মিল রাখতে পারতেন না বলেই পুরোনো প্রতিষ্ঠানকেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রকল্প পরিচালক মো. জাকারিয়া বলেন, “কাজ দেরি হলে সরকার বছরে প্রায় ১২৬ কোটি টাকা রাজস্ব হারাবে। বর্তমানে গড় যাত্রীপ্রতি ভাড়া ৪৬ টাকা। কমলাপুর পর্যন্ত চালু হলে যাত্রীসংখ্যা ও আয় উভয়ই বাড়বে।”
বিশ্লেষকরা বলছেন, উচ্চ ব্যয়ে হলেও সময়ের গুরুত্ব বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করায় দীর্ঘমেয়াদে রাষ্ট্রীয় রাজস্ব ও জনসেবায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
.
রিপোর্টার্স২৪/এস