| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ছাত্রদলের হাত ধরেই আমার রাজনৈতিক শিক্ষা: আমজনতার তারেক

reporter
  • আপডেট টাইম: অক্টোবর ২৭, ২০২৬ ইং | ১১:৫০:২২:পূর্বাহ্ন  |  ১৯১৭ বার পঠিত
ছাত্রদলের হাত ধরেই আমার রাজনৈতিক শিক্ষা: আমজনতার তারেক

রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: ছাত্রদলের হাত ধরেই নিজের রাজনৈতিক শিক্ষার শুরু বলে জানিয়েছেন আমজনতা দলের সদস্যসচিব মো. তারেক রহমান। ২০১১ সালে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক ছাত্রদলের মিছিলে সামনের সারিতে থাকা থেকে শুরু করে ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের উদ্যোগ নেওয়া, আন্দোলনে অংশগ্রহণ, আটক হওয়া এবং পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন গঠনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন তিনি। নিজের রাজনৈতিক জীবনের নানা বাঁক ও আন্দোলন-সংগ্রামের স্মৃতিচারণ করে তিনি জানিয়েছেন, জাতীয়তাবাদী রাজনীতির শিক্ষা ও আদর্শের শিকড় ছাত্রদলের মধ্যেই প্রোথিত।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে নিজের রাজনৈতিক পথচলার এসব অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন তারেক রহমান।

ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, শুভ ভাই সঠিক বলেছেন, প্রাণের সংগঠন ছাত্রদলের হাত ধরেই আমার রাজনৈতিক শিক্ষা। ২০১১ সালে ছাত্রদলের মিছিলের একেবারে সামনের লাইনেই ছিলাম। আমার মনে আছে রানীর দিঘির পাড়ে সন্ধ্যায় কুবি, ছাত্রলীগের শহর শাখা আমার গলায় অ্যান্টিকাটার ধরেছিল। ২০১৩-তে কোটা আন্দোলনে আমরা একটা টিম ঢাকায় এসে অংশ নিলে চারুকলার সামনে আক্রান্ত হই। ১৪-এর নির্বাচনকেন্দ্রিক হরতাল-অবরোধে খুব সক্রিয় ছিলাম আমি। এরপর থেকেই রাজনীতি থেকে সরিয়ে নিই নিজেকে, পড়াশোনার পাশাপাশি ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ি।

নিজের রাজনৈতিক জীবনের বিরতি এবং আবারও আন্দোলনে ফিরে আসার প্রসঙ্গে তিনি জানান, ২০১৩ সালের কোটা আন্দোলনের অভিজ্ঞতা থেকেই ২০১৭ সালে নতুন করে কোটা আন্দোলন গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে ঢাকায় আসেন। পরবর্তী সময়ে ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের উদ্যোগ নেওয়ার ক্ষেত্রেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন বলে নিজের পোস্টে উল্লেখ করেছেন।

তারেক রহমান লেখেন, ২০১৩-এর কোটা আন্দোলন থেকে শিক্ষা নিয়ে ২০১৭-তে ঢাকায় ঢুকি পুনরায় কোটা আন্দোলন করতে। ১৮-এর কোটা আন্দোলনের উদ্যোগটা আমিই নিই, অদ্ভুত সব কৌশল ছিল, মনে হলে মায়া লাগে।

২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্রস্তুতি পর্বের স্মৃতিও তুলে ধরেছেন তিনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আন্দোলন শুরুর আগে তিনি ঢাকার পাবলিক লাইব্রেরিতে পড়াশোনা করতেন। সেখান থেকেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে আন্দোলনের বার্তা ছড়িয়ে দিতে হাতে লেখা লিফলেট বিতরণ করতেন। একটি বড় আন্দোলনের জন্য শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করতে তাঁকে দীর্ঘ সময় পরিশ্রম করতে হয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে তারেক রহমান লেখেন, ‘১৮-এর কোটা আন্দোলন শুরুর আগে পাবলিক লাইব্রেরিতে পড়তাম, হাতে লেখা লিফলেট সবার টেবিলে টেবিলে রেখে দিতাম। অনেক কষ্টে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করেছিলাম একটা বড় আন্দোলনের জন্য। কনফিডেন্স, ওরাকল সার্বিকভাবে সাপোর্ট দিয়েছিল তাদের লাইব্রেরিগুলোতে যেন আমি কাজ করতে পারি। কনফিডেন্সে সানোয়ার স্যার একজন শিক্ষক হয়েও সবটা দিয়ে এই আন্দোলনে সহযোগিতা করেছেন।’

তিনি আরও জানান, ওই সময়ে তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত ছিলেন না। তবে কোটা সংস্কার আন্দোলনে ছাত্ররাজনীতির অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখার চেষ্টা করেছিলেন। আন্দোলনকে এগিয়ে নিতে বিভিন্ন পর্যায়ে সহযোদ্ধাদের সহযোগিতা পেয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

২০১৮ সালের ১৪ মার্চ আন্দোলনের সময় তাঁকেসহ ৫৪ জনকে আটক করা হয়েছিল বলে পোস্টে উল্লেখ করেন তারেক রহমান। ওই ঘটনার পর সহযোদ্ধাদের উদ্যোগে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধের কথাও জানান তিনি।

তারেক রহমান লেখেন, ‘তখন আমি আর কোনো দলীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলাম না। তবে ছাত্ররাজনীতির সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি কোটা আন্দোলনে। ২০১৮ সালের ১৪ মার্চ আমিসহ ৫৪ জন আটক হলে, আমার বন্ধু বর্তমানে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর মোশারফ হোসাইনকে ফোন করলে, ছাত্রদলের অপর সহযোদ্ধা কামরুল ভাইয়ের উদ্যোগে ঢাকা-চট্টগ্রাম হাইওয়ে অবরুদ্ধ করে। আমাদের মুক্তি পর্যন্ত সেই অবরোধ জারি ছিল। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই অবরোধ ছিল কোটা আন্দোলনের প্রথম রাজপথের প্রতিরোধ। কুবিতে তানভীর, হানিফ, তরিকুল অসাধারণ কাজ করেছে সে সময়।’

আন্দোলনের সেই দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক আন্দোলনের উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়টিও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, নানা প্রতিকূলতা ও ঝুঁকির মধ্যেও আন্দোলন সংগঠিত করার চেষ্টা করেছিলেন তিনি।

এ বিষয়ে তারেক রহমান লেখেন, ‘আমার গা শিউরে উঠে কুবিয়ান হয়ে, ঢাবিতে ছাত্রলীগের ডেরায় ঢুকে কীভাবে এই আন্দোলনের উদ্যোগ নিয়েছিলাম।’

কোটা সংস্কার আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ও একসঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেছেন আমজনতা দলের এই নেতা। তিনি জানান, আন্দোলনের একপর্যায়ে দীন মোহাম্মদ, ভিপি নুর, রাশেদ খান, মামুন, ফারুক হাসান ও সোহরাব হোসেনসহ অনেকে তাঁর সঙ্গে যুক্ত হন। তাঁদের সম্মিলিত অংশগ্রহণকে তিনি রাজনৈতিক জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে দেখছেন।

তিনি লেখেন, ‘দীন মোহাম্মদ ভাই, ভিপি নুর ভাই, রাশেদ খান ভাই, মামুন ভাই, ফারুক হাসান ভাই, সোহরাব হোসেন ভাইয়েরা এসে আমার সঙ্গে যুক্ত হলেন, সবাই মিলে অসাধারণ এক লড়াইয়ের অধ্যায় ছিল।’

রাজনৈতিক সংগঠন গঠনের ধারাবাহিকতা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনের অভিজ্ঞতার পর সময়ের প্রেক্ষাপটে ছাত্র অধিকার পরিষদ গঠিত হয়। পরবর্তী সময়ে যুব, গণ ও প্রবাসী অধিকার পরিষদসহ বিভিন্ন সংগঠন গড়ে ওঠে। তবে মতপার্থক্য, বিভেদ ও ভুল-বোঝাবুঝির কারণে একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে আলাদা হয়ে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়।

নিজের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান ও আমজনতা দলে যুক্ত হওয়ার প্রসঙ্গে তিনি লেখেন, ‘সময়ের প্রেক্ষাপটে ছাত্র অধিকার গঠন, সেখান থেকে যুব, গণ, প্রবাসী অধিকার পরিষদ গঠন। বিভেদ, ভুল-বোঝাবুঝি থেকে আলাদা হলাম। মিয়া মশিউজ্জামান স্যারের উদ্যোগে গঠিত আমজনতার দলের সাধারণ সম্পাদক আমি। রাজনীতির জটিল বিষয়গুলো স্যারের কাছ থেকেই আমি শিখেছি।’

নিজের রাজনৈতিক আদর্শের ভিত্তি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তারেক রহমান ছাত্রদলের ভূমিকার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, জাতীয়তাবাদী রাজনীতির শিক্ষা তিনি ছাত্রদলের কাছ থেকেই পেয়েছেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জাতীয়তাবাদী আদর্শকে নিজের রাজনৈতিক শিকড় হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

তারেক রহমান লেখেন, ‘তবে জাতীয়তাবাদের এই লড়াইয়ের শিক্ষা ছাত্রদল হতেই পেয়েছি। স্বাধীনতার ঘোষক, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তম, গণতন্ত্রের মা মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার জাতীয়তাবাদী আদর্শই আমার শিকড় ছিল। এমনকি, ভারতীয় আগ্রাসনবিরোধী পণ্য বর্জন আন্দোলন, এক দফার যুগপৎ আন্দোলন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে তাদের সুযোগ্য সন্তান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি তত্ত্বাবধানে, পরামর্শেই কাজ করেছি।’

এর আগে আমজনতা দলের সদস্যসচিব তারেক রহমান কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) অধ্যয়নকালে ছাত্রদলের সদস্য ছিলেন বলে জানান কুবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান শুভ। গত রোববার (২৫ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি তারেক রহমানের সঙ্গে ছাত্রদলের অতীত সম্পৃক্ততার বিষয়টি তুলে ধরেন।

ওই পোস্টে মোস্তাফিজুর রহমান শুভ লেখেন, ‘স্নেহের ছোট ভাই তারেক রহমান। একসময়কার কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সদস্য ছিল। তোমার জন্য শুভকামনা রইল। ২০১১-২০১৩ সালে আন্দোলনে কল দিলে বা মেসেজ দিলে সরব উপস্থিতি ছিল তোমার, একসঙ্গে বহুদিন হাসিনাবিরোধী হরতাল, অবরোধে সময় দিয়েছো। সেই থেকে এখন অবধি তোমার হাসিনাবিরোধী অবস্থান প্রশংসা পাবার মতো।’

শুভর ওই বক্তব্যের পর নিজের রাজনৈতিক পথচলার স্মৃতি তুলে ধরে তারেক রহমান জানান, ছাত্রদলের সঙ্গে সম্পৃক্ততার মধ্য দিয়েই তাঁর রাজনৈতিক শিক্ষার শুরু। ছাত্রদলের আন্দোলন-সংগ্রামে অংশগ্রহণ, কোটা সংস্কার আন্দোলন সংগঠিত করা এবং পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন গড়ে তোলার অভিজ্ঞতা তাঁর রাজনৈতিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে রয়েছে।


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪