| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

শেরপুরে তীর্থযাত্রীর মিলনমেলায় আলোকিত হলো মা’ ফাতেমা রাণীর তীর্থোৎসবে

reporter
  • আপডেট টাইম: অক্টোবর ৩০, ২০২৬ ইং | ১২:০২:১৭:অপরাহ্ন  |  ২০৪৭৪ বার পঠিত
শেরপুরে তীর্থযাত্রীর মিলনমেলায়  আলোকিত হলো মা’ ফাতেমা রাণীর তীর্থোৎসবে

শেরপুর প্রতিনিধি: মোমবাতির আলোয় আলোকিত হয়ে ওঠে গারো পাহাড়ের বারোমারী তীর্থস্থান। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও প্রার্থনার মধ্য দিয়ে শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ফাতেমা রাণীর বার্ষিক তীর্থোৎসবের অন্যতম আকর্ষণীয় আয়োজন আলোর মিছিল।

 বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে শুরু হওয়া এ মিছিলে অংশ নেন প্রায় ৫০ হাজার তীর্থযাত্রী। দুই হাতে দুটি করে জ্বলন্ত মোমবাতি নিয়ে তাঁরা মিছিলে অংশগ্রহণ করেন।

বারোমারী সাধু লিওর খ্রিষ্টধর্মপল্লী থেকে শুরু হওয়া মিছিলটি প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চার থেকে পাঁচ কিলোমিটার এলাকা প্রদক্ষিণ করে। এ সময় মোমবাতির আলোয় আলোকিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। তীর্থযাত্রীদের কণ্ঠে প্রার্থনা আর ধর্মীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে সৃষ্টি হয় এক অপূর্ব আধ্যাত্মিক পরিবেশ।

এ বছর ‘মানবতার জননী ফাতেমা রাণী মা মারিয়া’ প্রতিপাদ্যে অনুষ্ঠিত হচ্ছে দুই দিনব্যাপী ২৯তম বার্ষিক ফাতেমা রাণীর তীর্থোৎসব। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবারের এ আয়োজনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সমবেত হয়েছেন খ্রিষ্টধর্মাবলম্বীরা।

তীর্থোৎসবের সমন্বয়কারী রেভারেন্ড ফাদার তরুণ বনোয়ারী জানান, ১৯৯৮ সালে পর্তুগালের ফাতেমা নগরের আদলে সাজানো হয় বারোমারী তীর্থস্থান। এরপর থেকে প্রতিবছর অক্টোবর মাসের শেষ বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার এখানে এ ধর্মীয় উৎসব অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। ধর্মীয় উপাসনা ও প্রার্থনার জন্য তীর্থস্থানে নির্মাণ করা হয়েছে ৪৮ ফুট উঁচু মা মারিয়ার মূর্তি। উৎসব উপলক্ষে পাপ স্বীকার, মহাখ্রিস্টযাগ, মোমবাতি জ্বালিয়ে আলোক শোভাযাত্রা, সাক্রামেন্তের আরাধনা, নিরাময়, নিশিজাগরণ ও জীবন্ত ক্রুশের পথসহ নানা ধর্মীয় আয়োজন রাখা হয়েছে।

এদিকে, তীর্থোৎসবকে কেন্দ্র করে তীর্থস্থানের আশপাশে বসেছে শতাধিক পণ্যের স্টল। এসব স্টলে নানা ধরনের পসরা সাজিয়ে বসেছেন ব্যবসায়ীরা। তীর্থযাত্রীদের উপস্থিতিতে জমে উঠেছে বেচাকেনা। বিক্রি ভালো হওয়ায় খুশি ক্রেতা ও বিক্রেতারা।

তীর্থোৎসব ঘিরে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন। পুলিশসহ বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যদের তৎপরতায় নির্বিঘ্নে উৎসবে অংশ নেন তীর্থযাত্রীরা।

এ বিষয়ে শেরপুরের পুলিশ সুপার এ কে এম জহিরুল ইসলাম বলেন, তীর্থোৎসবে আগত মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। উৎসবস্থল ও আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন, যাতে তীর্থযাত্রীরা নির্বিঘ্নে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নিতে পারেন।

ময়মনসিংহ ধর্মপ্রদেশের বিশপ পনেন পৌল কুবি বলেন, ফাতেমা রাণীর তীর্থোৎসব মানুষের মধ্যে প্রার্থনা, ভালোবাসা, শান্তি ও মানবতার বার্তা ছড়িয়ে দেয়। এ আয়োজনে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের সহযোগিতা ও অংশগ্রহণ বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির সুন্দর দৃষ্টান্ত। সবার মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা বজায় থাকুক, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

শুক্রবার ধর্মীয় উপাসনা, প্রার্থনা ও নানা আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে শেষ হবে দুই দিনব্যাপী এ তীর্থোৎসব। এর মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটবে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা হাজারো খ্রিষ্টভক্তের এ মহামিলনমেলার।


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪