ঢাকা প্রতিনিধি: উত্তরা হাউস বিল্ডিং এলাকা থেকে দিয়াবাড়ি বা উত্তরা উত্তর মেট্রোরেল স্টেশন রুটে চলাচলকারী লেগুনাগুলো নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু অভিযোগ সামনে এসেছে।
কম বয়সী চালক ও ফিটনেসহীন গাড়ি: দেখা গেছে, উত্তরা হাউস বিল্ডিং রুটে। চলাচলকারী অনেক লেগুনার সুনির্দিষ্ট কোনো সরকারি ফিটনেস সার্টিফিকেট নেই। এমনকি অপ্রাপ্তবয়স্ক বা শিশু-কিশোরদের দিয়েও অনেক সময় এসব ঝুঁকিপূর্ণ লেগুনা চালানো হচ্ছে, যা যাত্রী সাধারণের নিরাপত্তাকে চরম হুমকির মুখে ফেলছে। তাদের কারোরই নেই কোন ড্রাইভিং লাইসেন্স।
হাউস বিল্ডিং মোড় এবং এর আশপাশের ব্যস্ত সড়কে লেগুনাগুলো যত্রতত্র থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। ট্রাফিক আইন অমান্য করে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানোর অভিযোগও রয়েছে চালকদের বিরুদ্ধে। উত্তরা উত্তর স্টেশনগামী যাত্রীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি রাখা বা খুচরা টাকা ফেরত না দেওয়ার মতো ঘটনা অহরহই ঘটছে। ২০ টাকার নোট দিলে চালক বা হেলপাররা অনেক সময় ৫ টাকা ফেরত না দিয়ে "ভাংতি নেই" বলে গাড়ি টান দেয় বলে যাত্রীরা নিয়মিত অভিযোগ করছেন।
ঢাকার বিভিন্ন লেগুনা স্ট্যান্ডের মতো উত্তরা এলাকার রুটগুলোতেও স্ট্যান্ড দখল ও নিয়মিত অবৈধ চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে প্রায়শই পরিবহন মালিক ও স্থানীয় প্রভাবশালী চক্রের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। কারা নিয়ন্ত্রণ করছেন এই লেগুনা স্ট্যান্ডগুলো এ নিয়ে বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। দলের নাম ভাঙ্গিয়ে ও স্থানীয় এমপির লোক বলে পরিচয় দিয়ে নিয়মিত প্রতিটি লেগুনা থেকে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা করে দৈনিক চাঁদা উঠায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
প্রকৃতপক্ষে স্থানীয় এমপি এ সকল চাঁদাবাজদের কাউকেই চেনেন না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেক লেগুনা ড্রাইভার জানান পতিত সরকারের কিছু লোক বর্তমান সরকার দলীয় কিছু পাতি নেতাদের সাথে যোগসাজোস রক্ষা করেই চালিয়ে যাচ্ছেন এই চাঁদাবাজি। তারা আরো বলেন এই টাকার ভাগ ট্রাফিক পুলিশ, থানা পুলিশ, স্থানীয় কিছু নেতা ও মুষ্টিমেয় সাংবাদিকের পকেটে যায়। অন্যদিকে ৮ নং সেক্টর আলাউল এভিনিউ রাস্তার ধারে অটোরিকশা, ভাসমান ভ্যানে তরকারির দোকান, ফলের দোকান, মাছের দোকান দিয়ে ঘিরে রেখেছে রাস্তার ধার। এই কারণেই রাস্তায় সবসময় যানজট লেগেই থাকে।
বিষয়গুলো নিয়ে উক্ত প্রতিবেদকের সাথে মুঠো ফোনে কথা হয় উত্তরা হাউজ বিল্ডিং ট্রাফিক পুলিশ বক্সের টি আই সুজা উদ্দিনের সাথে তিনি দাবি করেন লেগুনা গুলোর ফিটনেস বি আর টি কতৃক পদত্ত। আর কারা নিয়ন্ত্রণ করছেন এ বিষয়ে তিনি মন্তব্য করতে নারাজ। বি এইচ বিএফসি স্কুলের সামনে থেকে পোস্টাল স্টাফ কোয়াটার পর্যন্ত রাস্তার ধারের দোকানপাট উচ্ছেদের দায়িত্ব থানা পুলিশ ও ফাড়ির ইনচার্জের উপর ন্যাস্ত।
তাছাড়াও আমরা মাঝেমধ্যেই সিটি কর্পোরেশনের মাধ্যমে মোবাইল কোড পরিচালনা করে থাকি। এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে এসকল দোকান থেকে দৈনিক দোকানের ধরণ ভেদে ৫০ থেকে ১০০ টাকা করে চাঁদা তোলা হয়। কিন্তু দোকানদাররা বিষয়টি অস্বীকার করেন। কারণ হয়তোবা পরের দিন তাকে আর ওই জায়গায় দোকান খুলতে দেওয়া হবে না।
এলাকার সচেতন মহল মনে করেন সঠিক তদন্তের মাধ্যমে এই বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে জনসাধারণের কল্যাণে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম