| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে সাতক্ষীরার শহর ও নিম্নাঞ্চল

reporter
  • আপডেট টাইম: Jul ০৯, ২০২৫ ইং | ০৬:০২:১৮:পূর্বাহ্ন  |  ১৭৫২১১৬ বার পঠিত
বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে সাতক্ষীরার শহর ও নিম্নাঞ্চল
ছবির ক্যাপশন: টানা বর্ষণে সাতক্ষীরার পৌরসভা ও আশপাশের বেশিরভাগ এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। রাস্তাঘাট থেকে ঘরবাড়ি—সবখানেই পানি

📍 সাতক্ষীরা প্রতিনিধি | রিপোর্টার্স২৪

টানা বর্ষণে সাতক্ষীরার পৌরসভা ও আশপাশের বেশিরভাগ এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। রাস্তাঘাট থেকে ঘরবাড়ি—সবখানেই পানি। কোথাও কলাগাছের ভেলায়, কোথাও কক্সশিটে শিশু ও জিনিসপত্র নিয়ে পার হচ্ছেন স্থানীয়রা। এই জলাবদ্ধতায় চরম দুর্ভোগে পড়েছে হাজারো পরিবার। দেখা দিয়েছে সুপেয় পানি, রান্না ও স্যানিটেশন সংকট।

সাতক্ষীরা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, দুপুর ১২টা পর্যন্ত ২৭২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় হয়েছে ১০২ মিলিমিটার। অতিবৃষ্টিতে পৌরসভার প্রায় সব ওয়ার্ডেই ভয়াবহ জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে।


পানির নিচে কামালনগর, ইটাগাছা, পলাশপোলসহ বহু এলাকা

মধুমোল্লারডাঙি, মেহেদীবাগ, রসুলপুর, বদ্দিপুর কলোনি, রইচপুর, মধ্য কাটিয়া, রথখোলা, গদাইবিল, পার-মাছখোলা ও পুরাতন সাতক্ষীরা—এসব এলাকার অনেক বাড়ি-ঘরই এখন পানির নিচে। সবচেয়ে খারাপ অবস্থা পৌরসভার ৭ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডে।


স্লুইস গেট বন্ধ, পানি নিষ্কাশনে বাধা

ইটাগাছা বিলপাড়ার নাজমুল হাসান বলেন, “বিলে পানি আটকে রাখা হয়েছে, বাইপাসের স্লুইস গেটও বন্ধ। ফলে পানি আটকে আছে লোকালয়ে।”

বদ্দিপুর কলোনির শাহানারা বেগম জানান, “রান্নাঘরে পানি ঢুকে গেছে। পোকামাকড়ে ঘুমাতেও পারছি না। সন্তানদের নিয়ে আশ্রয় নিতে হয়েছে অন্যত্র।”


শিক্ষার্থীর পরীক্ষায় ভোগান্তি

এইচএসসি পরীক্ষার্থী আফসানা মিমি বলেন, “সময়মতো পরীক্ষা কেন্দ্রে যেতে পারছি না। টিউবওয়েল ডুবে গেছে, পানি কিনে ব্যবহার করতে হচ্ছে।”


অভিযোগের তীরে প্রভাবশালীরা ও পৌর কর্তৃপক্ষ

স্থানীয় ইকরামুল হাসান বলেন, “বিলের মুখ বন্ধ করে প্রভাবশালীরা মাছ চাষ করছে, ফলে জলাবদ্ধতা বেড়েছে।”

সমাজকর্মী সাজেদুল ইসলাম ও আইনজীবী ফাহিমুল হক কিসলু অভিযোগ করেন, খাল-নদী খননে অনিয়ম, পরিকল্পনার অভাব ও জনপ্রতিনিধিদের উদাসীনতাই এই দুর্ভোগের মূল কারণ।


প্রশাসনের আশ্বাস, বাস্তবতার অনুপস্থিতি

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শোয়াইব আহমাদ জানান, “৫০ কিমি খাল ও সেচনালা সংস্কার করা হয়েছে। স্লুইস গেট খুলে দেওয়া হবে এবং প্রাণসায়ের খালে পানি ফেলার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।”


তবে বাস্তবতা হলো—প্রতিবছর একই চিত্র, একই দুর্ভোগ। টেকসই ড্রেনেজ ব্যবস্থা ছাড়া এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয় বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা।



📎 রিপোর্টার্স২৪/এস

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪