| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

গাজা: ব্যবসায়িক স্বার্থে গোটা জাতিকেই উৎখাত করতে চাইছে ‘ট্রাম্প কোম্পানি’

reporter
  • আপডেট টাইম: মে ১০, ২০২৫ ইং | ০০:০০:০০:পূর্বাহ্ন  |  ১৭৭৯৮০৭ বার পঠিত
গাজা: ব্যবসায়িক স্বার্থে গোটা জাতিকেই উৎখাত করতে চাইছে ‘ট্রাম্প কোম্পানি’
ছবির ক্যাপশন: গাজা: ব্যবসায়িক স্বার্থে গোটা জাতিকেই উৎখাত করতে চাইছে ‘ট্রাম্প কোম্পানি’

আশিস গুপ্ত :

* ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪-এ হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কেনেডি স্কুল অফ গভর্নমেন্টের মিডল ইস্ট ইনিশিয়েটিভ -এর ফ্যাকাল্টি চেয়ার প্রফেসর তারেক মাসউদ  সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন জ্যারেড কোরি কুশনার-এর।জ্যারেড কোরি কুশনার হলেন একজন আমেরিকান ব্যবসায়ী এবং বিনিয়োগকারী। সম্পর্কের দিক থেকে তিনি  মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা। এবং ২০১৭ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত তিনি শ্বশুরের প্রথম প্রশাসনে একজন সিনিয়র উপদেষ্টা হিসাবে কাজ করেছেন। কুশনার তার সাক্ষাৎকারে বলেন গাজার "সমুদ্র তীরবর্তী অঞ্চল " "অত্যন্ত মূল্যবান" এবং সম্ভাবনাময়। তাঁর  পরামর্শ  ইসরায়েলের উচিৎ অঞ্চলটি "পরিষ্কার" করার সময় বেসামরিক জনগণকে সরিয়ে নেওয়া । এখানেই থেমে থাকেননি কুশনার। তিনি বলেছেন, "যদি আমি ইসরায়েলের দায়িত্বে থাকতাম, তবে আমার প্রথম অগ্রাধিকার হতো রাফাহ (প্যালেস্টাইন) শহর থেকে বেসামরিক লোকদের সরিয়ে নেওয়া। কূটনৈতিক উপায়ে সম্ভব হলে আমি তাদের মিশরে পাঠানোর চেষ্টা করতাম। এর পাশাপাশি, আমি নেগেভ মরুভূমিতে (দক্ষিণ ইসরায়েল) কিছু একটা নির্মাণ করতাম এবং মানুষকে সেখানে স্থানান্তরিত করতাম। আমি মনে করি এটি একটি ভালো বিকল্প, যাতে গাজা অঞ্চল পরিষ্কার করার কাজ সম্পন্ন করা যায়।" প্যালেস্টাইন স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে থাকা উচিত কিনা জানতে চাইলে কুশনার বলেন, এটি "একটি অত্যন্ত খারাপ ধারণা," যা "মূলত সন্ত্রাসকে পুরস্কৃত করার শামিল।"


* ৩ মে, ২০২৪-এ ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে অনলাইনে একটি নথি প্রকাশ করা হয়। সেই নথিতে গাজার অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করার পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছিল।পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে গাজাকে একেবারে আধুনিক শহর হিসেবে গড়ে তোলা  হবে। পাশাপাশি গাজাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পবন্দরের চেহারা দেওয়া হবে।  যা গাজার পণ্য রপ্তানির পাশাপাশি সৌদির তেল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য কাঁচামাল পরিবহনের জন্য ব্যবহার করা হবে।এছাড়া, গাজার উত্তরে নব-আবিষ্কৃত গ্যাসক্ষেত্রগুলির সদ্ব্যবহার করে নতুন শিল্প গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে।এছাড়া, গাজার উত্তরে নব-আবিষ্কৃত গ্যাসক্ষেত্রগুলোর সদ্ব্যবহার করে নতুন শিল্প গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে।পরিকল্পনার অন্যতম একটি প্রস্তাব হলো গাজাকে বৈদ্যুতিক গাড়ি উৎপাদনের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা। এটি বাস্তবায়িত হলে গাজা, এল-আরিশ এবং সদরোটকে সস্তা চীনা উৎপাদনের প্রতিযোগী হিসেবে গড়ে তোলার সম্ভাবনা তৈরি হবে।এই নথিতে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ব্যবহার করে সম্ভাব্য একটি আধুনিক শহরের ছবিও যুক্ত করা হয়েছে।


* ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫-এ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফররত ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন   নেতানিয়াহুকে সঙ্গে নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেন, যুক্তরাষ্ট্র গাজার ‘নিয়ন্ত্রণ নেবে’ এবং এর ওপর তার ‘মালিকানা’ প্রতিষ্ঠা করবে। সব প্যালেস্টিনীয়দের  অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার পর এই ভূখণ্ডের ওপর তিনি তাঁর দেশের ‘দীর্ঘমেয়াদি’ মালিকানা প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখেন।ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা গাজা উপত্যকার দখল নেব এবং সেখান থেকে সব বিপজ্জনক অবিস্ফোরিত বোমা ও অন্যান্য অস্ত্রশস্ত্র ধ্বংস করার দায়দায়িত্ব নেব।’ তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এই উপত্যকার বিধ্বস্ত বাড়িগুলি ‘সমান’ করবে, সেখানে ‘অর্থনৈতিক উন্নয়ন কাজ চালাবে, প্রচুর চাকরির ব্যবস্থা করবে এবং বিশ্ববাসীর জন্য বাড়ি তৈরি করবে।গাজাকে ‘মৃত্যু ও ধ্বংসের প্রতীক’ বলে উল্লেখ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। গাজার বাসিন্দাদের অন্য কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই বলেই তাঁরা সেখানে ফিরতে চান, এমনটা দাবি করেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, ‘মানবিক হৃদয়’ ও ‘ধনসম্পদ’ নিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোতে গাজায় বসবাসকারী ১৮ লাখ প্যালেস্তিনীয়র চলে যাওয়া উচিত।’ ট্রাম্প বলেন, ‘আমি একটি দীর্ঘমেয়াদি মালিকানা দেখতে পাচ্ছি। যা মধ্যপ্রাচ্যের এ অংশে দারুণ স্থিতিশীলতা বয়ে আনবে। আমি বেশ কয়েক মাস ধরে খুব নিবিড়ভাবে এই নিয়ে গবেষণা করেছি।’ তবে তিনি শুধু গাজা-র মালিকানাস্বত্ব দখলে নেওয়ার কথা বলেই থেমে জাননি, গ্রিনল্যান্ড ও পানামার ভূখণ্ডের প্রতি তার প্রবল আগ্রহের কথাও বিশ্ববাসীকে জানিয়ে রেখেছেন কোনো আন্তর্জাতিক নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করেই।


* ৯ মে, ২০২৫ -জাতিসংঘের এক বিশেষ কমিটি এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে,বিশ্ব হয়তো “আরেকটি নাকবা”-র সাক্ষী হতে চলেছে—অর্থাৎ ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক উৎখাত।জাতিসংঘের ওই কমিটি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে “জাতিগত নির্মূল অভিযান” চালানোর অভিযোগ তোলে এবং জানায়, দখলকৃত এলাকায় বসবাসরত ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েল “অকল্পনীয় দুর্ভোগ” চাপিয়ে দিচ্ছে। এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ইসরায়েল একটি পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে, যার লক্ষ্য হলো গাজার উত্তরাঞ্চল থেকে শত-সহস্র ক্ষুধার্ত প্যালেস্তিনীয়দের জোরপূর্বক সরিয়ে এনে ছয়টি ঘনবসতিপূর্ণ শিবিরে সীমাবদ্ধ রাখা।প্যালেস্তিনীয়দের কাছে এমন কোনো জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি মানেই “নাকবা” বা বিপর্যয়ের স্মৃতি—১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সময় ঘটে যাওয়া ব্যাপক গণচ্যুতির রক্তাক্ত অধ্যায়।“ইসরায়েল তার দখলকৃত অঞ্চলে বসবাসকারী জনগণের উপর অকল্পনীয় দুর্ভোগ চাপিয়ে যাচ্ছে, এবং সেইসঙ্গে বৃহত্তর ঔপনিবেশিক লক্ষ্য পূরণের অংশ হিসেবে ভূমি দখলের মাত্রাও দ্রুত বাড়িয়ে চলেছে,”—বলেছে ইসরায়েলি কার্যকলাপের ফলে ফিলিস্তিনিদের অধিকার কীভাবে প্রভাবিত হচ্ছে, তা তদন্তের দায়িত্বে থাকা জাতিসংঘ কমিটি।  


জামাতা কুশনার, শশুর ট্রাম্প এবং ধর্ম ভাই নেতানিয়াহু হটাৎই কথাগুলি বলেননি। একটা জাতিকে বাস্তুচ্যুত করে সেখানে সর্বাধুনিক শহর গড়ে তোলার এই পরিকল্পনা বহুদিনের। প্রাথমিকভাবে এই পরিকল্পনাটা ছিল ইসরায়েলের।নেতানিয়াহুর গাজার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কেন্দ্রে ছিল এই অঞ্চলের ঐতিহাসিক বাণিজ্যিক গুরুত্বর  ভাবনা । এটি পূর্ব-পশ্চিম বাণিজ্য পথের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল, যা বাগদাদ-মিশর এবং ইয়েমেন-ইউরোপ বাণিজ্য রুটের সংযোগস্থলে অবস্থিত।নেতানিয়াহুর গাজা পুনর্গঠন পরিকল্পনায় ইসরায়েলের কর্তৃত্বের কথা থাকলেও প্যালেস্টিনীয়দের সম্পূর্ণ উৎখাত করার কথা বলা হয়নি। বরং বলা হয়েছিল, গাজা পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক পুনর্নির্মাণ-এর দ্বিতীয় ধাপে ইসরায়েল ধীরে ধীরে তার নিরাপত্তা দায়িত্ব কমিয়ে আনবে, এবং আরব জোট "গাজা পুনর্বাসন কর্তৃপক্ষ" নামে একটি সংস্থা গঠন করবে। এই সংস্থা গাজার পুনর্গঠন এবং অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব নেবে।পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে "মার্শাল প্ল্যান" বাস্তবায়ন ও একটি ডি-র‍্যাডিক্যালাইজেশন প্রোগ্রাম পরিচালনা করা হবে।কিন্তু ইসরায়েল ৭ অক্টোবর, ২০২৩-এ হামাস-নেতৃত্বাধীন হামলার পর উপকূলীয় এলাকা গাজায় সামরিক অভিযান শুরু করার পরপরই এক অন্য পরিকল্পনা তৈরির কাজ শুরু হয় আন্তর্জাতিক রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী সংস্থা ট্রাম্প অর্গানাইজেশনে।রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের পারিবারিক কোম্পানি এই ট্রাম্প অর্গানাইজেশন। রাষ্ট্রপতি ট্রাম্পের মেয়ে ইভানকা ট্রাম্পের স্বামী জারেড কুশনার গাজা পুনর্গঠনের নতুন পরিকল্পনার রচয়িতা। বিভিন্ন সময়ে জামাতা কুশনারকে অসাধারণ সম্পদ এবং বিশ্বস্ত উপদেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেছেন ট্রাম্প। বিশেষ মধ্যপ্রাচ্য দূত হিসেবে "আব্রাহাম চুক্তি" বাস্তবায়নের মাধ্যমে ইসরায়েল এবং বেশ কয়েকটি আরব দেশের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন কুশনার। তবে ইসরায়েলের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করাতেই সীমাবদ্ধ ছিল না জারেডের ভূমিকা। এর পেছনে ব্যবসায়িক স্বার্থও জড়িত ছিল। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, তিনি মধ্যপ্রাচ্যের অনেক শাসকের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে তোলেন এবং আজও বজায় রেখেছেন।এই সম্পর্কই তাকে সম্পত্তি উন্নয়নের ধারণা দিতে অনুপ্রাণিত করে—বিশেষত গাজায় হোটেল নির্মাণের পরিকল্পনা। এরপর তিনি গাজার বিকল্প হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে "রিভিয়েরা" নামটি পরিচিত করানোর চেষ্টা করেন।এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য, ২০২১ সালে জারেড একটি ব্যক্তিগত সংস্থা "অ্যাফিনিটি পার্টনার্স" গঠন করেন, যাতে বিশাল অঙ্কের তহবিল সংগ্রহ করা যায়। ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট না থাকলেও গাজায় সম্পত্তি নির্মাণের আকাঙ্ক্ষা তখন আর কেবল কথার কথা ছিল না।২০২৫ সালে ট্রাম্প আবার ক্ষমতায় ফিরে আসবেন, এই বিশ্বাস থেকেই ২০২৪ সালে জারেড ইসরায়েলকে গাজার প্যালেস্টিনীয়দের সরিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে গাজাকে একটি বিশাল ব্যবসায়িক কেন্দ্রে পরিণত করার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করার কথা বলেছিলেন।তবে জারেডের পরিকল্পনা শুধু গাজাবাসীদের সরিয়ে দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তিনি এমনকি কোথায় তাদের স্থানান্তরিত করা হবে, সেটিও পরিকল্পনা করেছেন। তিনি দক্ষিণ ইসরায়েলের নেগেভ মরুভূমিতে তাদের স্থানান্তরের পরামর্শ দেন, কারণ তার মতে, সেখানে প্যালেস্টিনীয়রা শান্তিতে ও স্বাচ্ছন্দ্যে বসবাস করতে পারবে।পূর্ব পরিকল্পনা মতোই ২০২৫ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয়বার রাষ্ট্রপতি পদে আসীন হবার পরেই  গাজাবাসীদের স্থানান্তরের এই পরিকল্পনাটি আরও জোরেশোরে প্রচারিত হতে শুরু করেছে।


এখন, ইসরাইল অধিকৃত পশ্চিম তীর ধ্বংস করতে ব্যস্ত। আমেরিকার রাজনৈতিক ও গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের প্রবল সমর্থনপুষ্ট নেতানিয়াহু এবং তার দুর্নীতিগ্রস্ত সঙ্গীরা এটিকে ধুলো এবং স্মৃতিতে পরিণত করার জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।১৯৪৮ সাল থেকেই এটি ছিল চূড়ান্ত লক্ষ্য। আর আমেরিকার একের পর এক ডেমোক্র্যাট এবং রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ইসরাইলকে অস্ত্র সরবরাহ এবং কূটনৈতিক সুরক্ষা দিয়ে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে সাহায্য করেছে—গাজা ও পশ্চিম তীর থেকে প্যালেস্টিনীয়দের চিরতরে বিতাড়িত করার জন্য।প্রায় ৮ দশক ধরে দেখে আসা গাজা এবং পশ্চিম তীর থেকে প্যালেস্টিনীয়দের জাতিগতভাবে উৎখাত করার স্বপ্নে নবতম সংযোজন সেখানে সাগরতীরবর্তী বিলাসবহুল রিসোর্ট তৈরি করা।একটি জাতিকে নির্মূলের এই স্বপ্ন ভাগ করে নিয়েছিলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সদ্য প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিমি কার্টার, সদ্য প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি জো বাইডেন, তার প্রতারণাপূর্ণ পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন এবং কাপুরুষ ডেমোক্র্যাটিক পার্টির "প্রভাবশালী ব্যক্তিরা," যারা এক ভুয়া "দুই-রাষ্ট্র সমাধানে" আগ্রহ দেখানোর ভান করতেন অথচ ইসরাইলকে বিপুল অস্ত্র সরবরাহ করতেন এবং জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব বারবার প্রত্যাখ্যান করতেন। বাইডেন ও ব্লিঙ্কেন, নেতানিয়াহুর পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন বাধ্য পুতুলের মতো। যখন ইসরাইল নিরস্ত্র প্যালেস্টিনীয়দের ওপর হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে গাজাকে বসবাসের অযোগ্য ধ্বংসস্তূপে পরিণত করছিল।কথা ও কাজে, ব্লিঙ্কেন ও বাইডেন ট্রাম্পের বিকৃত পরিকল্পনার মঞ্চ প্রস্তুত করেছেন। একমাত্র পার্থক্য হলো, বর্তমান ইসরাইল-উপাসক হোয়াইট হাউসের বাসিন্দা কিছুটা পরিশীলিত ভাষার আড়ালে লুকানো বিষয়গুলো সরাসরি প্রকাশ করে ফেলেছেন।ইসরাইল-আমেরিকা জোট যা করেছে এবং করতে চায় তা জাতিগত নিধনের আওতায় পড়ে—এটি শুধু বক্তৃতার হাতিয়ার নয়, এটি আন্তর্জাতিক আইনের প্রতিষ্ঠিত সত্য।ট্রাম্পের জাতিগত নিধনমুখী বক্তব্য প্রকাশ করে দিয়েছে যে তথাকথিত যুদ্ধবিরতি চুক্তির দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপ, যা গাজার পুনর্গঠনের শর্ত নির্ধারণ করে, সম্পূর্ণ ভণ্ডামি।ট্রাম্প ও ইসরাইলের বর্ণবাদী দক্ষিণপন্থী মন্ত্রিসভা নিশ্চিত করবে যে গাজা কখনো পুনর্গঠিত হবে না। তারা একসঙ্গে কাজ করে এমন একটা পরিস্থিতি রাখবে যে প্যালেস্টিনীয়রা প্রতিকূল পরিবেশ, দারিদ্র্য, রোগব্যাধি ও দুর্দশার মাঝে অব্যাহতভাবে দুর্বল থেকে যাবে।কোনো বাড়ি নেই, কাজ নেই, স্কুল নেই, হাসপাতাল নেই, গ্রন্থাগার নেই, খেলার মাঠ নেই--এই ভয়ঙ্কর বাস্তবতায়, অনেক প্যালেস্টিনীয় নাগরিক একমাত্র বিকল্প ভাবতে শুরু করবে যে গাজা এবং পশ্চিম তীর ছেড়ে নতুন জীবনের সন্ধান করা, যেখানে বাস্তবসম্মত সম্ভাবনা ও প্রতিশ্রুতি থাকবে।এটাই ট্রাম্প, কুশনার, নেতানিয়াহুর বর্তমান পরিকল্পনার ভয়ঙ্কর দিক—প্যালেস্টিনীয়দের বাধ্য করা, গাজায় থেকে গিয়ে হতাশা ও নিরাশার শিকার হও, অথবা অনিচ্ছাসত্ত্বেও অন্য কোথাও আশ্রয় খুঁজতে যাও, যেমন আগেও অনেকে করেছে।ট্রাম্প, কুশনার, নেতানিয়াহুরা জানে, সময় এবং অবিরাম দখলদারিত্ব তাদের পক্ষেই রয়েছে।কেননা প্যালেস্টাইনের আত্মরক্ষার লড়াইকে সন্ত্রাসবাদী হামলা আখ্যা দিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় তাদের নিন্দা ও পরিত্যাগ করেছে এবং হিংস্র নেকড়ে-শাবকদের হাতে ছেড়ে দিয়েছে।


আশিস গুপ্ত,

ভারতের সিনিয়র সাংবাদিক ও সভাপতি সাউথ এশিয়ান ক্লাইমেট চেইঞ্জ জার্নালিস্ট ফোরাম (সাকজেএফ)

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪