| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

শীর্ষ পদেও নারীরা, বহুমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস ডাকসু নির্বাচনে

reporter
  • আপডেট টাইম: অগাস্ট ২২, ২০২৫ ইং | ০৬:১১:১৯:পূর্বাহ্ন  |  ১৩৯৪৩৯১ বার পঠিত
শীর্ষ পদেও নারীরা, বহুমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস ডাকসু নির্বাচনে
ছবির ক্যাপশন: ফাইল ছবি

রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক :

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন দেশজুড়ে আবারো আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। ছয় বছর আগে ২০১৯ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের অভিজ্ঞতা থেকে এবার ধারণা করা হচ্ছে, নারী ও অনাবাসিক ভোটাররাই নির্বাচনের ফলাফলে নির্ধারকের ভূমিকা পালন করবেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষক, ছাত্রনেতা এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই বিষয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে।

এ দিকে আসন্ন ডাকসু নির্বাচনে ভোটের হিসাব নিকাশে এগিয়েও নারী প্রার্থীরা। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট শিক্ষার্থীর একটি বড় অংশই নারী। ডাকসুর নির্বাচন কমিশনের দেয়া তথ্য অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট ভোটারের প্রায় ৪৭.৭৫ শতাংশ শিক্ষার্থী। এদের মধ্যে অনেকেই আবাসিক হলে থাকেন, আবার অনেকে অনাবাসিক। অতীতে ডাকসু নির্বাচনে নারী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ কিছুটা কম থাকলেও, পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে তাদের রাজনৈতিক সচেতনতা এবং সক্রিয়তা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে জুলাই অভ্যুত্থানে তার সাক্ষী হয়েছে জাতি। নারী শিক্ষার্থীরা এখন তাদের অধিকার, নিরাপত্তা, এবং শিক্ষা সম্পর্কিত বিষয়গুলো নিয়ে আরো সোচ্চার। ধারণা করা হচ্ছে শিক্ষার্থীদের আবাসিক হলগুলোতে নিরাপত্তা, স্যানিটেশন, ক্যান্টিন-সুবিধা এবং অন্যান্য মৌলিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি নারী ভোটারদের আকৃষ্ট করতে পারে।

অতীত ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, এ পর্যন্ত মাত্র দুইজন নারী ভিপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯৬০-৬১ সালে বেগম জাহানারা আক্তার এবং ১৯৬৬-৬৭ সালে মাহফুজা খানম। দীর্ঘ ৫৮ বছর পর ডাকসু নির্বাচনে কোনো নারী ভিপি নির্বাচিত হবেন কি না, তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস।

এরই মধ্যে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন তাদের প্যানেল ঘোষণা করেছে। স্বতন্ত্র প্যানেলও রয়েছে। অতীতে এত বেশিসংখ্যক নারী প্রার্থী দেখা যায়নি, যা এবারের নির্বাচনকে একটি ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে।


শীর্ষ পদে নারীরা

এবারের নির্বাচনে সহসভাপতি (ভিপি), সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস)- এই তিনটি শীর্ষ পদে মোট পাঁচজন নারী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এদের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত নাম হলো উমামা ফাতেমা, যিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক মুখপাত্র। কোটা সংস্কার আন্দোলনে নারী শিক্ষার্থীদের সংগঠিত করায় তার ভূমিকা বিশেষভাবে প্রশংসিত। জনপ্রিয়তা থাকা সত্ত্বেও তিনি দলীয় প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে স্বতন্ত্র প্যানেল থেকে ভিপি পদে লড়ছেন।

আরেকজন ভিপি প্রার্থী হলেন শেখ তাসনিম আফরোজ ইমি, যিনি বাম জোটের প্রতিরোধ পর্ষদ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে ‘ফ্যাসিস্ট হাসিনাকে ডাকসুর আজীবন সদস্য দেখতে চাওয়ার’ মন্তব্য করে তিনি সমালোচিতও হয়েছেন।

এ ছাড়া গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের প্যানেল থেকে সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে লড়ছেন আশরেফা খাতুন, যিনি বর্তমানে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।


অন্যান্য পদেও নারীদের অংশগ্রহণ

শীর্ষ পদ ছাড়াও বিভিন্ন সম্পাদকীয় ও কার্যকরী সদস্য পদে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নারী প্রার্থী রয়েছেন। ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্যানেলে সদস্য ও সম্পাদকীয় পদ মিলিয়ে চারজন নারী রয়েছেন। তাদের মধ্যে উম্মে সালমা কমনরুম, রিডিংরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক এবং ফাতিমা তাসনীম জুমা মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক পদে লড়ছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রীসংস্থার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সাবিকুন্নাহার তামান্না ও আফসানা আক্তার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন সদস্য পদে। বাম ছাত্র সংগঠনগুলোর প্যানেলে মোট ১১ জন নারী আছেন, যারা বিভিন্ন সম্পাদকীয় পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন : ১) নূজিয়া হাসিন (রাশা)-কমনরুম, রিডিংরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক; ২) ফারিয়া মতিন (ইলা)-সাহিত্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক; ৩) মালিহা তাবাসসুম-ক্রীড়া সম্পাদক; ৪) শেখ তাসনুভা সৃষ্টি-স্বাস্থ্য ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক পদে লড়ছেন। এ ছাড়াও কার্যকরী সদস্য পদে প্রার্থী হয়েছেন মিশকাতুল মাশিয়াত তানিশা, আতিকা আনজুম অর্থী, ইসরাত জাহান ইমু, আনিয়া ফাহমিন, রাহনুমা আহমেদ নিরেট, হেমা চাকমা, নোশিন হুমায়রা।

গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের প্যানেলেও নারীদের শক্তিশালী উপস্থিতি দেখা যায়। এই প্যানেলে আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক পদে আনিকা তাহসিনা এবং কমনরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক পদে মিতু আক্তার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সদস্য পদে তাপসী রাবেয়া, রওনক জাহান ও মাহফুজা নওয়ার নওরীন লড়বেন।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদসহ প্রতিরোধ পর্ষদ প্যানেল উভয়েই জুলাই অভ্যুত্থানে আহত সানজিদা আহমেদ তন্বীর প্রতি সম্মান জানিয়ে গবেষণা ও প্রকাশনা সম্পাদক পদটি খালি রেখেছে, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রশংসিত হয়েছে। ছাত্রদলের প্যানেলে দু’জন নারী স্থান পেয়েছেন। চেমন ফারিয়া ইসলাম মেঘলা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন কমনরুম, পাঠকক্ষ ও ক্যাফেটেরিয়া বিষয়ক সম্পাদক পদে, সদস্য পদে মেহেরুন্নেসা কেয়া। সব মিলিয়ে, এবারের ডাকসু নির্বাচনে কমপক্ষে ২৫ জন নারী প্রার্থী বিভিন্ন পদে লড়তে যাচ্ছেন, যা ডাকসুর ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।


অনাবাসিক শিক্ষার্থী

অন্য দিকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট শিক্ষার্থীর অর্ধেকেরও বেশি অনাবাসিক ভোটার। এরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে থাকার সুযোগ পাননি। আবার অনেকের বাসা ঢাকাতেই। অনেকের পারিবারিক সক্ষমতা থাকায় ক্যাম্পাসের বাইরে বিভিন্ন এলাকায় বসবাস করেন। এই ভোটারদের অধিকাংশই যাতায়াত, নিরাপত্তা, এবং আর্থিক চাপসহ নানা ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হন। অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো যাতায়াতব্যবস্থা। ক্যাম্পাস থেকে দূরে বসবাস করায় তাদের প্রতিদিন কষ্টকর পথ পাড়ি দিতে হয়। পর্যাপ্ত বাস-সুবিধা এবং নিরাপদ যাতায়াতের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি তাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ছাড়াও ক্যাম্পাসে তাদের জন্য পর্যাপ্ত কমন রুম, লাইব্রেরি সুবিধা এবং বিনোদনমূলক কার্যক্রমের ব্যবস্থা ইত্যাদি তাদের দীর্ঘ দিনের দাবি। যারা এই ধরনের সুযোগ-সুবিধার বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দেবে তারা অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের সমর্থন পাবে।


নির্বাচনী ইশতেহার এবং কৌশল

বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন ইতোমধ্যে তাদের নির্বাচনী কৌশল নিয়ে কাজ শুরু করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, তাদের ইশতেহারে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য হলগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, আবাসনসঙ্কট সমাধানে নতুন হল নির্মাণ এবং যৌন হয়রানি প্রতিরোধে কার্যকর সেল গঠনের মতো বিষয়গুলো প্রাধান্য পাবে। অপর দিকে অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত বাস সার্ভিস, লাইব্রেরি ও কমনরুমের সুবিধা বৃদ্ধি এবং টিউশন ফি কমানোর মতো প্রতিশ্রুতিগুলো ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, এবারের নির্বাচন শুধু আদর্শের লড়াই হবে না, বরং হবে প্রতিনিধিত্বের লড়াই। যে প্যানেল নারী ও অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের কাছে নিজেদের সবচেয়ে বিশ্বাসযোগ্য প্রতিনিধি হিসেবে তুলে ধরতে পারবে, তারাই শেষ পর্যন্ত জয়ী হবে। এই দু’টি গোষ্ঠীর ভোট প্যানেলগুলোর মধ্যে পার্থক্য তৈরি করবে এবং কে জয়ী হবে তা নির্ধারণ করে দেবে।

পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে অনুষ্ঠিতব্য এবারের ডাকসু নির্বাচন হবে একটি বহুমুখী লড়াই, যেখানে একক কোনো গোষ্ঠী সুবিধা করতে পারবেন না বলেই ধারণা করা হচ্ছে। এ নির্বাচনে যারা নিজস্ব আদর্শের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের বাস্তবসম্মত সমস্যাগুলো তুলে ধরতে পারবেন তারাই ডাকসুর নেতৃত্বে আসতে পারবেন। তবে এ নির্বাচনে নারী ও অনাবাসিক ভোটারদের মনোভাব এবং তাদের ভোটের গতিপথই আগামী দিনের ডাকসু নেতাদের ভাগ্য নির্ধারণ করবে।


উমামা-সাদি প্যানেল

দীর্ঘ বিরতির পর আগামী ৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন। এই নির্বাচনকে সামনে রেখে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক মুখপাত্র উমামা ফাতেমাকে ভিপি করে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নিয়ে গঠিত হয়েছে ‘স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য’ প্যানেল।

গতকাল বৃহস্পতিবার অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে ঘোষিত প্যানেলে সহসভাপতি (ভিপি) পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন উমামা ফাতেমা এবং সাধারণ সম্পাদক পদে আছেন আল সাদী ভূঁইয়া। এ ছাড়া সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছেন জাহেদ আহমদ, মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক পদে নূমান আহমাদ চৌধুরী, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক মমিনুল ইসলাম (বিধান), আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নাফিজ বাশার আলিফ, কমনরুম, রিডিংরুম ও ক্যাফেটোরিয়া সম্পাদক সুমী চাকমা এবং সাহিত্য ও সাংস্কৃতিকবিষয়ক সম্পাদক পদে অনিদ হাসান। গবেষণা ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন সিয়াম ফেরদৌস ইমন, ক্রীড়া সম্পাদক মো: সাদিকুজ্জামান সরকার, ছাত্র পরিবহন সম্পাদক মো: রাফিজ খান, সমাজসেবা সম্পাদক তানভীর সামাদ, ক্যারিয়ার উন্নয়ন সম্পাদক রুপাইয়া শ্রেষ্ঠা তঞ্চঙ্গ্যা, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক ইসরাত জাহান নিঝুম এবং মানবাধিকার ও আইনবিষয়ক সম্পাদক পদে রয়েছেন নুসরাত জাহান নিসু।

এ ছাড়া সদস্য পদে রয়েছেন নওরীন সুলতানা তমা, আবিদ আবদুল্লাহ, ববি বিশ্বাস, মো: শাকিল, মো: হাসান জুবায়ের (তুফান), আবদুল্লাহ আল মুবিন (রিফাত), অর্ক বড়ুয়া, আবির হাসান, নেওয়াজ শরীফ আরমান, মো: মুকতারুল ইসলাম (রিদয়), হাসিবুর রহমান, রাফিউল হক রাফি, মো: সজীব হোসেন ও সাদেকুর রহমান সানি।

প্যানেলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অ্যাকাডেমিক পরিবেশ অক্ষুণ্ন রেখে শিক্ষার্থীদের সময়োপযোগী অধিকার আদায়ে কাজ করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য।



এস

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪