ইরানে ইসরায়েলি বিমান হামলা বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ চেয়ে যখন ইউরোপীয় কূটনীতিকরা জোর আহ্বান জানাচ্ছেন, ঠিক সেই সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়ে দিলেন—তিনি ইসরায়েলকে হামলা বন্ধ করতে বলবেন না।
ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের মধ্যে ইরানের উত্তরাঞ্চলে ৫ দশমিক ১ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। ইরানের ফারস নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে জর্ডানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম রয়া নিউজ।
ইরানে অব্যাহত ইসরায়েলি হামলার প্রতিবাদে ইরাক, তুরস্ক, লেবানন, ইয়েমেনসহ বিভিন্ন দেশে বিক্ষোভ হয়েছে। এসব বিক্ষোভে হাজার হাজার মানুষ অংশ নেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলবিরোধী স্লোগানে রাজপথ মুখর করেন তাঁরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে এসব দৃশ্য দেখা গেছে।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলো ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের খবর কীভাবে প্রকাশ করবে, সে বিষয়ে দেশটি একটি নতুন নির্দেশনা জারি করেছে। গত বুধবার ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর সেন্সরশিপ বিভাগের প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কোবি ম্যান্ডেলব্লিট এক বিজ্ঞপ্তিতে কিছু নিয়মনীতি ঘোষণা করেন।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ, যা সব সময়ই আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) তত্ত্বাবধানে রয়েছে। ইসরায়েলের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, কোনো গণবিধ্বংসী অস্ত্রচুক্তিতে অংশ না নেওয়া একটি শাসকগোষ্ঠীর (ইসরায়েল) পক্ষ থেকে এসব নিরাপদ পরমাণু স্থাপনায় হামলা চালানো গুরুতর অপরাধ এবং আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা সর্বশেষ দফার হামলায় ইসরায়েলি সামরিক স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এসব স্থাপনার মধ্যে নেভাতিম ও হাতজেরিম ঘাঁটিও রয়েছে।
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে দেওয়া বক্তৃতায় রাশিয়ার দূত ভাসিলি নেবেনজিয়া বলেছেন, ইসরায়েল কূটনৈতিক প্রচেষ্টার প্রতি ‘স্পষ্ট অবজ্ঞা’ দেখিয়েছে। শুধু তাই নয়, ইসরায়েল জাতিসংঘ সনদের প্রতি কোনো সম্মান না দেখিয়ে সার্বভৌম রাষ্ট্র ইরানের ওপর একতরফাভাবে হামলা চালিয়েছে।
ইসরায়েলের হাইফাসহ বিভিন্ন শহরে আঘাত হেনেছে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র। এক বিবৃতিতে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, অল্প কিছুক্ষণ আগে ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত হওয়ার পর দেশজুড়ে বিভিন্ন এলাকায় সাইরেন বেজে উঠেছে।
ইসরায়েলি দৈনিক হারেৎজ-এর কলাম লেখক ও বিশ্লেষক গিডিওন লেভি বলেছেন, ইরান-ইসরায়েল সংঘাত নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে ট্রাম্প কয়েক সপ্তাহ অপেক্ষা করতে পারেন—এই ইঙ্গিতে নেতানিয়াহু ও তাঁর জোট গভীর হতাশায় পড়ছেন। কারণ নেতানিয়াহু চান, ট্রাম্প যেন যত দ্রুত সম্ভব এই যুদ্ধে যুক্ত হন।
ফিলিস্তিনপন্থী কর্মীরা মধ্য ইংল্যান্ডের একটি রয়্যাল এয়ার ফোর্স ঘাঁটিতে প্রবেশ করে যুক্তরাজ্যের গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধের প্রতি সরকারের সমর্থনের প্রতিবাদে দুটি সামরিক বিমানের ক্ষতি করার দাবি করেছেন।প্রচার গোষ্ঠী প্যালেস্টাইন অ্যাকশন জানিয়েছে যে তাদের দুজন সদস্য অক্সফোর্ডশায়ারের আরএএফ ব্রাউজ নর্টন সামরিক ঘাঁটিতে প্রবেশ করে ভয়েজার বিমানের ইঞ্জিনগুলিতে পেইন্ট স্প্রে করে এবং লোহার রড দিয়ে সেগুলিতে হামলা চালায়।
শুক্রবার (২০ জুন) এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া পোস্টে পেজেশকিয়ান লিখেছেন, ‘আমরা সব সময় শান্তি ও স্থিতিশীলতা চেয়েছি। চলমান চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের অবসানের একমাত্র পথ হলো শত্রুর আগ্রাসন নিঃশর্তভাবে বন্ধ করা এবং জায়নিস্ট সন্ত্রাসীদের দুঃসাহসিক তৎপরতা চিরতরে বন্ধের সুনির্দিষ্ট নিশ্চয়তা।’