স্টাফ রিপোর্টার: অবশেষে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অসীম ক্ষমতাধর কর্মকর্তা অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন ও অর্থ) নুজহাত ইয়াসমিনকে তার বদলীকৃত কর্মস্থল বাংলাদেশ পর্যটন বোর্ডে যোগদানের জন্য অবমুক্ত করা হয়েছে।
জানা যায়, অসীম ক্ষমতাধর এ কর্মকর্তাকে ১১ই মার্চ ২০২৫ তারিখের সর্বপ্রথম বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান পদে বদলি করা হয়। কিন্তু পূর্বের বিভিন্ন কর্মস্থলে নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে তাকে সেখানে কেউ নিতে চাইনি। পরবর্তীতে তাকে বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হিসেবে বদলি করা হলেও তিনি সেখানে যোগদান করেননি। সর্বশেষ ২৭ আগস্ট ২০২৫ তারিখ তাকে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে বদলি করা হয় ।
উল্লেখ্য, মিজ নুজহাত ইয়াসমিন (৫৮২৫) অত্যন্ত দাপুটে কমর্কর্তা হিসেবে মন্ত্রণালয়ে পরিচিত ছিলেন। একাধিকবার বদলি হওয়ার পরও অদৃশ্য খুঁটির জোরে তিনি থেকে গেছেন মন্ত্রণালয়ে। বিদায়ী সচিব সিদ্দিক জোবায়েরের বিশেষ আস্থাভাজন ছিলেন তিনি। একধিকবার বদলি হওয়া সত্বেও প্রতিবারই তিনি থেকে গেছেন বড়কর্তাদের ম্যানেজ করে। ক্ষমতাধর এই কর্মকর্তা একসময় এফডিসির এমডি থাকাকালে নানা বিতর্কে জড়ান।
উল্লেখ্য, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে এখনও অনেকে রয়েছেন যারা দীর্ঘদিন ধরে এই মন্ত্রণালয়ে ঘাটি গেড়ে বসে আছেন। তাদেরই একজন সাইফুর রহমান খান। ২৪ ব্যাচের এই কর্মকর্তার ভাই ছিলেন গোপালগঞ্জের এসপি। সে কানেকশনেই তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মত গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে পোস্টিং পান। ফ্যাসিবাদী সরকারের সুবিধাভোগী এবং দলকানা হিসেবে যেখানে তার ব্যাচের অনেকেই প্রমোশন পাননি, সেখানে ভীষণ চতুর এ কর্মকর্তা যুগ্মসচিব হিসেবে প্রমোশন বাগিয়ে নিয়েছেন। তিন বছরেরও বেশী সময় ধরে তিনি এ মন্ত্রণালয়ে রয়েছেন। ৩০ ব্যাচের আরেকজন কমর্কতা এ এস এম কাসেম। যিনি সম্প্রতি উপসচিব হিসেবে প্রমোশন পেয়েছেন। তাকে নিয়েও রয়েছে ব্যাপক গুঞ্জন। একসময় তিনি রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের নিজ উপজেলা মিঠামইনের এসিল্যান্ড ছিলেন। সেই সুবাদে তৎকালিন রাষ্ট্রপতি হামিদ তাকে বঙ্গভবনে নিয়ে আসেন। এরপর একসময় বঙ্গভবনের আশীর্বাদে তার পোস্টিং হয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে। এ কর্মকর্তাকে বদলি করা হলেও তিনি থেকে যান অদৃশ্য হাতের ছোঁয়ায়। উপরন্তু পেয়েছেন উপসচিব হিসেবে পদোন্নতির পুরস্কার।
যুগ্ম সচিব ড. মোর্শেদা আক্তারও রয়েছেন এ মন্ত্রণালযে তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে। কিন্তু এসব ব্যাপারে দেখার কেউ আছে বলে মনে হয় না বলে মন্তব্য করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
রিপোর্টার্স২৪/সোহাগ