| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

গ্যাস উৎপাদনে ধস ঠেকানো যাচ্ছে না

reporter
  • আপডেট টাইম: সেপ্টেম্বর ০৬, ২০২৫ ইং | ০৪:০৩:৩৪:পূর্বাহ্ন  |  ১৫৫০৩৯৯ বার পঠিত
গ্যাস উৎপাদনে ধস ঠেকানো যাচ্ছে না
ছবির ক্যাপশন: গ্যাস উৎপাদনে ধস ঠেকানো যাচ্ছে না!

রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক : গ্যাসের উৎপাদন বাড়ানো তো দূরের কথা, কোনোভাবেই ধস ঠেকানো যাচ্ছে না। মজুদ কমে আসায় প্রতিদিনই কমে আসছে উৎপাদন। চাইলেও দুই বছরের আগে আমদানি বাড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। ধস ঠেকানো না গেলে ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টির আশঙ্কা করা হচ্ছে। সুখবর হচ্ছে, দ্বীপ জেলা ভোলাতে গ্যাসের মজুদ বাড়ছে, কিন্তু পাইপলাইনের অভাবে সেই গ্যাস ব্যবহার করা যাচ্ছে না।

পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন বাড়ানোর জোরালো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ডিসেম্বরের মধ্যে অনেকগুলো প্রকল্পের কাজ শেষ হবে। এর মাধ্যমে ধস ঠেকিয়ে বাড়ানো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।

সূত্রটি জানিয়েছে, রশিদপুর-৩, কৈলাশটিলা-১, বিয়ানীবাজার-২ ও হবিগঞ্জ-৫ নম্বর কূপের ওয়ার্কওভার করা হচ্ছে। প্রতিটি কূপে ৫ থেকে ১৫ মিলিয়ন পর্যন্ত গ্যাস উৎপাদন আশা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে সিলেট ১০এক্স, সিলেট-১১, শ্রীকাইল-৫ নম্বর কূপ খননের কাজও ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হবে। ওইসব উন্নয়ন কূপে প্রতিটিতে ১০ থেকে ১৫ মিলিয়ন পর্যন্ত গ্যাস পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। অর্থাৎ উন্নয়ন কূপ থেকে ৩০ হতে ৪৫ মিলিয়ন এবং ৪টি পুরাতন কূপ ওয়ার্কওভারের মাধ্যমে ২০ থেকে ৪০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

অন্যদিকে প্রতিদিনই কমছে গ্যাসের উৎপাদন, এক মাসের ব্যবধানে দৈনিক গ্যাসের উৎপাদন কমেছে ১৬ মিলিয়ন ঘনফুট। সবচেয়ে বড় গ্যাস ফিল্ড বিবিয়ানা নিয়েই শঙ্কা বেশি, সেখানে প্রতিদিনই কমে আসছে উৎপাদন। এক সময় ফিল্ডটি থেকে ১৪০০ মিলিয়নের মতো গ্যাস পাওয়া গেলেও ১ সেপ্টেম্বর পাওয়া গেছে মাত্র ৮৯৭ মিলিয়ন ঘনফুট।

২০২৪ সালের ১ আাগস্ট রাষ্ট্রীয় কোম্পানির মালিকানাধীন ১৬টি গ্যাস ফিল্ডের ৭৩টি কূপ দিয়ে ৮০১ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করা হয়। এক বছরের ব্যবধানে ২০২৫ সালের ১ আগস্ট গ্যাস পাওয়া গেছে ৬৯৬ মিলিয়ন ঘনফুট। ২০২৪ সালের ১ আগস্ট বহুজাতিক কোম্পানির মালিকানাধীন ৪টি ফিল্ডে মোট উৎপাদন ছিল ১২২৭ মিলিয়ন ঘনফুট, এক বছর পর উৎপাদন ১০৭৯ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমেছে। এক বছরে দেশের সামগ্রিক গ্যাস উৎপাদন কমেছে ২৫২ মিলিয়ন ঘনফুট।

বহুজাতিক কোম্পানি শেভরন বাংলাদেশ তাদের বিবিয়ানা ফিল্ডে প্রায় এক টিসিএফ (ট্রিলিয়ন ঘনফুট) মজুদ নিয়ে ৮৯৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করেছে। একই দিনে (১ সেপ্টেম্বর) অনেক বেশি মজুদ এবং সমান সংখ্যাক কূপ (২৬টি) দিয়ে তিতাস গ্যাসক্ষেত্র মাত্র ৩১৭ মিলিয়ন উৎপাদন করেছে। পেট্রোবাংলার ২০২৪ সালের ৩০ জুনের রিপোর্ট অনুযায়ী তিতাস গ্যাসক্ষেত্রে অবশিষ্ট মজুদ রয়েছে ১.৯১ টিসিএফ, একই দিনে বিবিয়ানায় মজুদ ছিল ১.৬১ টিসিএফ। এরপর আরও এক বছর চলে গেছে, দৈনিক প্রায় ১ বিসিএফ করে গ্যাস উত্তোলন ধরা হলে ৩৬৫ দিনের উত্তোলন শেষে অবশিষ্ট মজুদ রয়েছে ১ টিএসএফ এর সামান্য বেশি।

দেশীয় অন্যান্য গ্যাসফিল্ডের মজুদও অনেক কমে গেছে। পেট্রোবাংলার হিসাব অনুযায়ী (৩০ জুন ২০২৪) হবিগঞ্জ গ্যাস ফিল্ডে ২৮.৩৪ বিসিএফ, বেগমগঞ্জে ২৬.৪২ বিসিএফ, মৌলভীবাজারে ২৪.৮১ বিসিএফ, সুন্দলপুরে ২০.৪৬ মিলিয়ন,বিয়ানীবাজারে ৪৪.৯৮ বিসিএফ,সালদানদীর মজুদ ১বিসিএফ এর নিচে নেমে গেছে।

মজুদ কমে আসায় দেশীয় উৎপাদন কমে যাওয়ার বিষয়টি অনেকটাই অবধারিত বিবেচনা করা হয়। সামাল দেওয়ার জন্য প্রয়োজন ছিল তেল-গ্যাস অনুসন্ধান জোরদার করা। সেখানে গুরুত্ব দিতে ব্যর্থ হয়েছে বিগত সরকারগুলো। সে কারণে দেশীয় উৎপাদনে প্রতিদিনই কমে যাচ্ছে। নতুন নতুন কূপ খনন এবং পুরাতন কূপের ওয়ার্কওভার করেও ধস ঠেকানো যাচ্ছে না।

আওয়ামী লীগ সরকার অনুসন্ধানে জোন না দিয়ে আমদানির দিকে নজর দিয়েছিল। আমদানির সক্ষমতা ১১‘শ মিলিয়ন থেকে বাড়াতে অনেক প্রকল্প হাতে নিয়েছিল। এরমধ্যে ছিল মহেশখালীতে তৃতীয় ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন, পায়রাতে ভাসমান টার্মিনাল স্থাপন, সাতক্ষীরার ভোমরা-খুলনা পাইপলাইন এবং বেনাপোল-খুলনা পাইপলাইনের মাধ্যমে ভারত থেকে গ্যাস আমদানি, পাশাপাশি ভোলা-বরিশাল-খুলনা পাইপলাইন নির্মাণ প্রকল্প।

এরমধ্যে সামিট গ্রুপের সঙ্গে মহেশখালীতে ভাড়াভিত্তিক ভাসমান এলএনজি স্থাপনে চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল এবং পায়রাতে ভাসমান টার্মিনালের জন্য মার্কিন প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট এনার্জির সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত ধাপে ছিল, পাইপলাইন নির্মাণ প্রকল্পগুলোর প্রক্রিয়া শুরু করেছিল।সবগুলো প্রকল্প ছিল বিশেষ বিধান আইনের আওতায়। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতাসীন হয়ে বিশেষ বিধান আইন এবং ওই আইনের আওতাধীন এসব প্রকল্প বন্ধ করে দিয়েছে। বাতিল হওয়া ওইসব প্রকল্পের বিষয়ে খুব একটা অগ্রগতি দৃশ্যমান নয়।

বাড়ন্ত চাহিদার বিপরীতে দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন বৃদ্ধি থাকা তো দূরের কথা, বর্তমান উৎপাদন অব্যাহত রাখাই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সবচেয়ে শঙ্কার হচ্ছে দেশের বড় গ্যাসক্ষেত্র বিবিয়ানার মজুদ ফুরিয়ে আসছে। খোদ পেট্রোবাংলার অনেকেই মনে করেন, বিবিয়ানা গ্যাস ফিল্ডে হঠাৎ করেই বড় ধরনের ধস দেখা দিতে পারে। ২০২৬ সালের শেষ দিকে বিবিয়ানার উৎপাদন ৫০০ মিলিয়নের নিচে নেমে আসতে পারে। শঙ্কা সত্যি হলে দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন দেড় হাজার মিলিয়নে নেমে যাবে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ সালেক সূফী বার্তা২৪.কমকে বলেছেন, বিবিয়ানা গ্যাস ফিল্ডের উৎপাদন কমছে, গ্যাস চাপ কমে যাওয়ায় কূপগুলোতে কমপ্রেসর ব্যবহার করা হচ্ছে। যে কোন সময় বড় ধরনের ধস নামতে পারে। সে জন্য বিকল্প প্রস্তুতি রাখা দরকার।

ওই ঘাটতি সামাল দেওয়ার জন্য যেভাবে প্রস্তুতি থাকা দরকার সেখানে অনেক ঘাটতি দৃশ্যমান। আমদানি বাড়িয়ে দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। দু’টি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে তাতে কোনো অবস্থাতেই ১১০০ মিলিয়নের বেশি আমদানি সম্ভব নয়। আমদানি বাড়াতে হলে নতুন এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন করতে হবে। ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনে কমপক্ষে ২৪ মাস, আর ল্যান্ডবেজড এলএলজি টার্মিনাল করা হয় তাহলে ৮০ মাসের ধাক্কা। শুধু টার্মিনাল হলেই সরবরাহ ইচ্ছেমতো বাড়ানোর সুযোগ নেই। বাড়াতে হবে পাইপলাইনের সক্ষমতাও।

দেশীয় উৎপাদন বাড়াতে কিছু উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে, চলমান ৫০ কূপের পাশাপাশি আরও ১০০ কূপ প্রকল্প হাতে নিয়েছে। ১০০ কূপ খনন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। এরমধ্যে অনুসন্ধান ও উন্নয়ন কূপ ৬৯টি আর ৩১টি পুরাতন কূপের ওয়ার্কওভার। ১০০ কূপ খনন প্রকল্প ২০২৬ সালে শুরু করে ২০২৮ সালের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা ছিল। সেখান থেকে বাছাই করে ১৯টি কূপ দ্রুত খনন করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান রেজানুর রহমান।

তিনি বার্তা২৪.কমকে বলেছেন, আমরা দেশীয় গ্যাসের উত্তোলন ও অনুসন্ধান জোরদার করেছি। নতুন করে আরও দু’টি রিগ কেনা হচ্ছে। আশা করছি দেশীয় উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হবে। পাশাপাশি দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের দরপত্র চূড়ান্তের পথে। ল্যান্ডবেজড এলএনজি টার্মিনালের বিষয়ে কাজ চলছে।

পেট্রোবাংলার হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১ জুলাই অবশিষ্ট গ্যাসের মজুদ ছিল ৮.৬৭ ট্রিলিয়ন ঘনফুট। প্রতিবছর প্রায় ৬৫৭ বিলিয়ন ঘনফুট (দৈনিক ১৮০০ মিলিয়ন) গ্যাস উত্তোলন করা হচ্ছে।

     


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪