| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

আমরা কেন প্লাস্টিক ব্যবহার বন্ধ করতে পারব না : রিজওয়ানা

reporter
  • আপডেট টাইম: মে ১৩, ২০২৫ ইং | ০০:০০:০০:পূর্বাহ্ন  |  ১৯১৬৬২৬ বার পঠিত
আমরা কেন প্লাস্টিক ব্যবহার বন্ধ করতে পারব না : রিজওয়ানা
ছবির ক্যাপশন: আমরা কেন প্লাস্টিক ব্যবহার বন্ধ করতে পারব না : রিজওয়ানা

স্টাফ রিপোর্টার:

সিঙ্গেল ইউজ (একবার ব্যবহৃত) প্লাস্টিক নিয়ন্ত্রণে অভ্যাস বদলের প্রতি গুরুত্বারোপ করে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দ রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, ‘বিশ্বের অন্যান্য দেশ পারলে আমরা কেন প্লাস্টিকের ব্যবহার বন্ধ করতে পারব না।’


তিনি বলেন, ‘এ ক্ষেত্রে বিকল্প নিয়ে অনেকেই কথা বলছেন। পলিথিনসহ সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক হিসেবে যেসব সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে, তার বিকল্প সরবরাহে সরকার চেষ্টা করছে।’


মঙ্গলবার (১৩ মে) রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে ‘প্লাস্টিকবর্জ্য ব্যবস্থাপনায় উদ্ভাবন ও সেরা চর্চার প্রসার’ শীর্ষক ওই কর্মশালার আয়োজন করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মেরিন সায়েন্স ইনস্টিটিউট, আরণ্যক ফাউন্ডেশন ও রেড অরেঞ্জ লিমিটেড।

 

পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বক্তৃতা করেন ইউএন আবাসিক সমন্বয়কারী গোয়েন লুইস, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম, বিশ্ব ব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর (ভারপ্রাপ্ত) গেইল মাটিন, ইউএনওপিএস বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার সুধীর মুরালিধরন, রেড অরেঞ্জ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অর্ণব চক্রবর্তী, আরণ্যক ফাউন্ডেশনের প্রোগ্রাম অফিসার এইচ. এ. এম. ফাইম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আলমগীর হোসেন, ব্র্যাকের ম্যানেজার রুকসার সুলতানা, বিপিসিএলের এমডি খাদেম মাহমুদ ইউসুফ, আরণ্যক ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক (অস্থায়ী) ড. মো. আব্দুল মোতালেব প্রমূখ। 


কর্মশালায় সৈয়দ রিজওয়ানা হাসান বলেন, সব ধরনের সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক আমাদের শারীরিক ক্ষতির পাশাপাশি পরিবেশগত ক্ষতি করছে। তাই এ বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে। আমাদের পূর্বপুরুষদের সময়ের কথা যদি চিন্তা করি, তারা কি এভাবে পলিথিন, প্লাস্টিকের মতো বিকল্প জিনিস ব্যবহার করতেন? এখন তো প্লাস্টিকের বদলে অনেক ধরনের জিনিস তৈরি হয়েছে, সেগুলো ব্যবহার করতে পারি।

 

তিনি আরো বলেন, সরকারি অনেক দপ্তরে এখন সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিকের ব্যবহার কমে আসছে। এটাও কিন্তু এক ধরনের সফলতা। সরকারি দপ্তরগুলোর বাইরেও অনেক জায়গায় এসব প্লাস্টিকের ব্যবহার বন্ধ হয়ে আসছে। সুপার শপগুলোতে পলিথিনের ব্যবহার বন্ধ করা সম্ভব হয়েছে।


উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান বলেন, বুড়িগঙ্গার নিচে কয়েক ফুট শুধু প্লাস্টিকের স্তর আছে। সরকার আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থার সাথে যৌথভাবে ঢাকার চারটি নদী নিয়ে একটি প্রকল্প চূড়ান্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রথমে বুড়িগঙ্গা নদী নিয়ে কাজ শুরু করা হবে। 


তিনি আরো বলেন, ঢাকার কয়েকটি খাল উদ্ধার করে পুরনো চেহারায় ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। এরমধ্যে একটি হচ্ছে, কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্যা খাল।


সেখানে গিয়ে দেখলাম প্লাস্টিকের কারণে খালের অস্তিত্ব নেই। এটাকে প্লাস্টিকের খাল বলা যায়। বুড়িগঙ্গা খননের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু এখানে কমপক্ষে পাঁচ ফুট প্লাস্টিকের স্তর। এগুলো তোলার যন্ত্র নেই। বিআইডব্লিউটএ একটি যন্ত্র আনার চেষ্টা করছে। নভেম্বরে হয়তো আসবে। কিন্তু এত প্লাস্টিক উঠিয়ে কোথায় রাখব?


রেড অরেঞ্জ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অর্ণব চক্রবতী বলেন, পরিষ্কার নদী, উপকূল ও কমিউনিটি যেন স্বপ্ন নয় বরং জাতীয় মানদণ্ড হয়, আমরা সেই লক্ষ্যে কাজ করছি। রেড অরেঞ্জ লিমিটেড ঢাকার কল্যাণপুর খালে ভাসমান ব্যারিয়ার স্থাপন করে ইতিমধ্যে ৬৫ মেট্রিক টনের বেশি বর্জ্য সংগ্রহ করেছে। আইওটি প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্লাস্টিক দূষণ ট্র্যাক করছে। পুরো বাংলাদেশে ‘প্লিজ’ প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৩ লাখ ৮৪ হাজার কেজি প্লাস্টিক বর্জ্য অপসারণ, ২৫০টি কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ২ হাজার ৩৬৬ জন বর্জ্য কর্মীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। যার মধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশই নারী। 


শহরাঞ্চলে জলাবদ্ধতা রোধে ভাসমান প্লাস্টিক ব্যারিয়ার, সুন্দরবনে বায়োডিগ্রেডেবল পণ্যের কেন্দ্র এবং রিয়েল-টাইম প্লাস্টিক ট্র্যাকিং অ্যাপের মতো উদ্ভাবনগুলো কর্মশালায় প্রদর্শিত হয়েছে। যা ইতিমধ্যেই উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইএমএস উপকূলীয় অঞ্চলে ‘সার্কুলার ইকোনমি’ মডেল চালু করে পরিত্যক্ত মাছ ধরার জাল সংগ্রহ ও ২০ হাজারটির বেশি পরিবেশবান্ধব পণ্য উৎপাদন করছে এবং অনেক মানুষকে ইকো-এন্টারপ্রাইজে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে।


ড. মো. আবদুল মোতালেব বলেন, আমরা যেসব কাজ করছি, সেগুলো পাইলট পর্যায়েই থামিয়ে রাখা যাবে না। নিরবচ্ছিন্ন সহায়তা থাকলে এমন কাজের মাধ্যমে পরিবর্তন আনা সম্ভব।


তিনি বলেন, আরণ্যক ফাউন্ডেশন সুন্দরবনে প্রথমবারের মতো প্লাস্টিক অডিট চালু করেছে এবং অপ্রাতিষ্ঠানিক বর্জ্য খাতকে ডিজিটাল করার জন্য মোবাইল অ্যাপ ও নারী-অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।


ড. ফাহমিদা খানম প্লাস্টিক সংকট মোকাবেলায় উদ্ভাবন ও অংশীদারির গুরুত্ব তোলেন। এ ধরনের কার্যক্রমের পরিধি আরো বাড়ানোর ওপর জোর দেন তিনি।


রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪