| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

মানিকগঞ্জে প্রধান শিক্ষিকা দেলোয়ারার বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ

reporter
  • আপডেট টাইম: সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৫ ইং | ১৫:৩৫:২০:অপরাহ্ন  |  ১৫৬৩১৭৮ বার পঠিত
মানিকগঞ্জে প্রধান শিক্ষিকা দেলোয়ারার বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ
ছবির ক্যাপশন: বান্দুটিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি : মানিকগঞ্জ পৌরসভার বান্দুটিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা দেলোয়ারা ফেরদৌসীর বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে চলতি মাসে জেলা প্রশাসক ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেন স্কুল এক শিক্ষিকা। বরাবর একটি অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। 

এদিকে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকার সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির সহকারী শিক্ষকদের অন্তদ্ব›েদ্ব শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যহত হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার আটিগ্রাম সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পৌরসভার বান্দুটিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চলতি দায়িত্ব পেয়ে প্রধান শিক্ষিকা হয়ে যোগদান করেন দেলোয়ারা ফেরদৌসী। সদর উপজেলার বর্তমান প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. মোয়াজ্জেম হোসেনকে ম্যানেজ করে নিজের বাড়ির পাশের বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষিকা হয়ে যোগদান করেই অনিয়ম এবং দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন তিনি।  

স্কুলটির একাধিক শিক্ষিকা জানান, দেলোয়ারা ফেরদৌসী এলাকায় প্রভাবশালী পরিবারের মেয়ে এবং তাঁর আপন চাচা সাবেক জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা হওয়ায় দিনের পর দিন অনিয়ম ও দুর্নীতি করে গেলেও কেউ মুখ খুলতে সাহস করেনি। অনেক সময়ে শিক্ষকদের কেউ প্রতিবাদ করতে চাইলে তাদের চাকরি হারানোর ভয় দেখানো হয়। 

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়ে যোগদান করার পর থেকেই পাশেই প্রধান শিক্ষিকার বাসা হওয়ায় সরকারী বিধিমালা না মেনে বিদ্যালয় চলাকালীন সময়ে দেলোয়ারা ফেরদৌসি একাদিকবার বাসায় যেতেন। সরকারী বিধি অনুযায়ী একজন প্রধান শিক্ষকের প্রতিদিন কমপক্ষে দুটি করে ক্লাস নেওয়ার কথা থাকলেও বিধি উপেক্ষা করে তিনি সারাদিনে একটি ক্লাস নিচ্ছেন। বিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ক্রয় করার সময়ে কোন সহকারী শিক্ষককে তাঁর সাথে না রেখে একক ভাবে করছেন। এতে অনেকবার আর্থিক অস্বচ্ছলতার প্রমানসহ ধরিয়ে দিলে তিনি শিক্ষকদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। বিদ্যালয় ছুটির আগে অথবা পরে হোম ভিজিট করার কথা থাকলেও তিনি বিদ্যালয় চলাকালিন সময়ে হোম ভিজিটে বের হন। টিফিন পিরিয়ডে প্রধান শিক্ষিকা দেলোয়ারা ফেরদৌসির মত অনেক শিক্ষার্থী বাসায় গিয়ে পড়ে আর না আসলেও সেই বিষয়ে তাঁর কোন প্রদক্ষেপ নেই। চাকরির বিধিমালয় সাময়িক ছুটি বলতে কোন ছুটি না থাকলেও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দেলোয়ারা ফেরদৌসি বিভিন্ন সময়ে নানা অজুহাতে বিদ্যালয় থেকে ছুটি নেন। 

আরও জানা গেছে, বিদ্যালয় সংক্রান্ত কোন বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহনের ক্ষেত্রে সকল শিক্ষক ও শিক্ষিকার উপস্থিতিতে স্টাফ মিটিং করে আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা থাকলেও তিনি আলোচনা না করে তাঁর মত করে সিদ্ধান্ত নিয়ে তা বাস্তবায়ন করেন। এর ফলে বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা তথ্য জানা থেকে বঞ্চিত হন। এছাড়া নানা কারণে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাঁর সহকর্মী এবং শিক্ষার্থীদের অসম্মানজনক ও অশালীন ভাষায় কথা বলে থাকেন। যা বিদ্যালয়ের পরিবেশ নষ্ট হয়। বরাবরের মত গত বছরের পবিত্র ঈদ-ই মিলাদুন্নবী অনুষ্ঠান উপলক্ষে সরকারী অনুদান হিসেবে ২ হাজার টাকা ছিল। কিন্তু প্রধান শিক্ষিকা অর্ধেক টাকা খরচ করে বাকি টাকার কোন হিসেবে দেননি। এ ভাবে প্রতিটি কাজের সরকারী বাজেট আসলে তিনি তাঁর মত খরচ করে বাকিটাকা লোপাট করে থাকেন। অভিযোগে আরো বলা হয়েছে যে, প্রতিটি অভিযোগের ক্ষেত্রে প্রমান দেওয়া হয়েছে; এ বিষয়ে তদন্তে আসলে সত্যতা মিলবে।

এদিকে অভিযোগের সত্যতা জানতে স¤প্রতি বিদ্যালয়ের গিয়ে দেখা যায়, তিনি দুপরের খাবার খেতে বাসায় গেছেন প্রায় ঘন্টাখানেক আগে। এরপর তাঁর মুঠোফোন নাম্বারে ফোন দিলে তিনি দ্রুত তাঁর স্বামীকে নিয়ে বিদ্যালয়ে আসেন। 

এরপর তিনি তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি বিদ্যালয়ের জন্য দিনরাত কাজ করে যাচ্ছি। এই কাজ করতে গিয়ে আমি সহকর্মীদের শত্রæ হয়েছি। এরপরও আমার বিরুদ্ধে কোন রিপোর্ট হলে আমি চাকরি ছেড়ে দিব। তবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা ১৪টি অভিযোগের কোনটির সঠিক জবাব তিনি দিতে পারেননি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন সহকারী শিক্ষিকা এই প্রতিবেদককে বলেন, অভিযোগের ঘটনা পুরোপুরি সত্য। বড় আপা (প্রধান শিক্ষিকা) তাঁর মনে যা চায় তিনি তাই করেন। আমাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। বড় আপার সিদ্ধান্তের বাইরে কথা বলা যায় না। বিদ্যালয়ে তাঁর অনিয়ম দৃশ্যমান হলেও তাঁর বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস কারো নেই। তাঁর বিরুদ্ধে কোন শিক্ষক প্রতিবাদ করলে তিনি সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে দিয়ে মিথ্যা অভিযোগে হয়রানী করবে বলে হুমকি দেয়। 

বান্দুটিয়া এলাকার বাসিন্দা লাবলু হোসেন বলেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দেলোয়ারা আমাকে একটি সাদা কাগজে সই দিতে বললে আমার সন্দেহ হলে আমি দেইনি। পরে শুনেছি বড় আপা একটি সাদা কাগজে এলাকার অনেকের সই নিয়েছেন। তাঁরপর কি হয়েছে আমি জানি না।

সদর উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোয়াজ্জেম হোসেন তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার আবেদনের প্রেক্ষিতেই তিনি আটিগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে বদলী হয়ে চলতি দায়িত্বে বান্দুটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষিকা হয়ে এসেছেন। এখানে আমার কোন হাত নেই।

তিনি আরও বলেন, অভিযোগের প্রেক্ষিতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আমাকে বিষয়টি তদন্তের জন্য বলেছেন।

এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার গকুল চন্দ্র দেবনাথ বলেন, এবিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। আগামীকাল বুধবার ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা দেলোয়ারা ফেরদৌসিসহ অনান্য শিক্ষকদের অফিসে ডাকা হয়েছে। তাদের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক ড. মানোয়ার হোসেন বলেন, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি জানতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) নূরুল হাই মোহাম্মদ আনাছকে তদন্ত করতে নির্দেশ দিয়েছি।


রিপোর্টার্স২৪/সাইফ

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪