| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

দেশে বছরে ৩৪ শতাংশ খাদ্য নষ্ট হয়: বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিবেদন

reporter
  • আপডেট টাইম: সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৫ ইং | ০৫:২৩:৩৭:পূর্বাহ্ন  |  ১৫১১৫৪৬ বার পঠিত
দেশে বছরে ৩৪ শতাংশ খাদ্য নষ্ট হয়: বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিবেদন

রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক :

অব্যবস্থাপনা, অসচেতনতা ও পরিবহনজনিত কারণে প্রতিবছর বাংলাদেশে উৎপাদিত খাদ্য পণ্যর মধ্যে গড়ে ৩৪ শতাংশ নষ্ট বা অপচয় হয় বলে উঠে এসেছে বিশ্ব ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে।

বিশ্ব ব্যাংক বলছে, নষ্ট বা অপচয় হওয়া এই খাদ্যপণ্যের আর্থিক মূল্য মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৪ শতাংশ।

অথচ দেশের মোট জনসংখ্যার ৩১ শতাংশ খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে এবং ৬৬ শতাংশ মানুষ পুষ্টিমান সমৃদ্ধ খাবার পায় না বলে প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়।

সোমবার ঢাকায় এক জাতীয় সম্মেলনে বিশ্ব ব্যাংকের গবেষণা প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করা হয়। রাজধানীর একটি হোটেলে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি), ঢাকায় অবস্থিত রয়েল ডেনিশ দূতাবাস, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা, বিশ্ব ব্যাংক এবং বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি যৌথভাবে এ সম্মেলনের আয়োজন করে।

‘শূন্য খাদ্য অপচয়ের পথে: বাংলাদেশে একটি টেকসই খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলা’ শীর্ষক এ সম্মেলনে উপস্থাপিত প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, উৎপাদিত খাদ্যর ২৭ শতাংশই খাবার টেবিলে আসে না। সংরক্ষণে ঘাটতি, হিমাগারের স্বল্পতা ও পরিবহনজনিত সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার অভাবে কৃষকরা উৎপাদিত পণ্যর ন্যয্য মূল্য পাচ্ছেন না।

এ কারণে বড় ধরনের অর্থনৈতিক, পরিবেশগত এবং সামাজিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয় বাংলাদেশকে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মোট আবাদ হওয়া জমির মধ্যে ২৭ শতাংশ বা ৩৪ হাজার বর্গকিলোমিটারে উৎপাদিত খাদ্য শেষ পর্যন্ত অপচয় হচ্ছে প্রতি বছরে।

এ গবেষণা বলছে, বেশিরভাগ খাদ্য অপচয় হয় উৎপাদন, পরিবহন, পরিচালনা, সংরক্ষণ এবং প্রক্রিয়াজাতকরণের সময়ে।

অন্যদিকে কয়েকটি ফসলের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করে দেখানো হয়েছে, প্রতিবছর ২৩ শতাংশ চাল, ২৭ শতাংশ মসুর ডাল, ৩৬ শতাংশ মাছ এবং ২৯ শতাংশ আম নষ্ট বা অপচয় হয়।

এছাড়া ধানের ২৩-২৮ শতাংশ, ফসল কাটার পরে গমের সাড়ে ১৭ শতাংশ, উদ্যানজাত ফসলের মধ্যে কলার ২০ শতাংশ, আলুর ২২ শতাংশ, গাজরের ২৭ শতাংশ, টমেটোর ১০ শতাংশ অপচয় হচ্ছে।

ব্যক্তি পর্যায়ে খাবার গ্রহণের সময়ে বাংলাদেশে একজন বছরে গড়ে ৮২ কেজি খাবার নষ্ট করে। খাবার নষ্ট করার এ হার যুক্তরাষ্ট্র, নেদারল্যান্ডস ও জাপানের চেয়ে বেশি।

সিপিডির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আক্তার সম্মেলনে বাংলাদেশে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে খাদ্য অপচয় কমানোর ওপর জোর দেন।

তিনি বলেন, “আকর্ষণীয় প্রবৃদ্ধির পরও বাংলাদেশ এখনো অপুষ্টিতে ভুগছে। বিশেষ করে নারীরা এই অপুষ্টির শিকার। মাছের মধ্যে এক তৃতীয়াংশই অপচয় হচ্ছে। অন্যদিকে খাদ্য বণ্টন এখনো অসম। তাই খাদ্যের অপচয় কমানো বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।”

উপদেষ্টা বলেন, জেলেরা মাছ ধরার পর কখনো কখনো দুই তৃতীয়াংশই ফেলে দেয়; হয় নষ্ট হয়ে যাওয়ায় অথবা অন্য জাতের মাছ উঠে পড়েছে বলে। ফেলে দেওয়া বেশিরভাগ মাছই মরে যায়। তাতে পরিবেশ দূষণ হয়।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ ইয়াসিন বলেন, “মাটির উর্বরতা, অর্থ, পানি এবং শ্রম হারাচ্ছে বাংলাদেশ। এ কারণে দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষের জন্য কম খাদ্য উৎপাদিত হচ্ছে। ফলে এই জনগোষ্ঠী খাদ্য ঝুঁকিতে পড়ছে।’

বিশ্বব্যাপী খাদ্য অপচয়ের মাত্রা তুলে ধরে ডেনমার্ক দূতাবাসের শার্জ ডি অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ডার্স কার্লসেন বলেন, “উৎপাদিত মোট খাদ্যের এক-তৃতীয়াংশ নষ্ট বা অপচয় হয়। এই খাদ্য উৎপাদনের জন্য চীনের মত দেশের চেয়েও বড় আয়তনের জমি ব্যবহার করা হয়, যা শেষ পর্যন্ত কেউ খেতে পারে না।”

খাদ্য অপচয়ের বৈশ্বিক ও স্থানীয় প্রভাব ব্যাখ্যা করে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা এর উপ-প্রতিনিধি দিয়া সানো বলেন, “বিশ্বে উৎপাদিত খাদ্য বৈশ্বিক জনসংখ্যার দেড়গুণের বেশি মানুষকে খাওয়ানোর জন্য যথেষ্ট, তবুও অসম বণ্টন, দুর্বল অবকাঠামো এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, খাদ্য অপচয়ের কারণে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা ও অপুষ্টি রয়ে গেছে। উদ্বৃত্ত থাকা সত্ত্বেও খাদ্য অপচয়ের কারণে সবচেয়ে অভাবী মানুষের কাছে পর্যাপ্ত খাদ্য পৌঁছায় না।”

বাংলাদেশে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির উপ-প্রধান জেসি উড বাংলাদেশে খাদ্য অপচয়ের মাত্রা তুলে ধরেন বলেন, “গবেষণাযর তথ্য অনুযায়ী ফসল তোলার পর ৮-১৫ শতাংশ চাল এবং ২০-৪০ শতাংশ ফল ও সবজি নষ্ট হয়, যার আর্থিক মূল্য ২ দশমিক ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।”

তিনি বলেন, “বাংলাদেশ সবজি, মাছ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের উৎপাদনে একটি শক্তিশালী দেশ হওয়া সত্ত্বেও, অপর্যাপ্ত সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং কোল্ড চেইনের অভাবে সেই পণ্যগুলোই আমদানি করতে হয়। এটি কৃষক এবং অর্থনীতি উভয়ের জন্যই একটি সুযোগের অপচয়।”

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম, সে কথা তুলে ধরে সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন, “যদি আমরা খাদ্য অপচয় বাড়াই, তাহলে আমরা দুর্লভ পরিবেশগত সম্পদ নিঃশেষ করছি। তাই আমাদের জন্য খাদ্য অপচয় কমানো অপরিহার্য।”



এস

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪