| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

জাল জামিননামায় আসামির মুক্তি! কারারক্ষীসহ দুইজন রিমান্ডে

reporter
  • আপডেট টাইম: অক্টোবর ১২, ২০২৫ ইং | ১৪:২৫:৩৭:অপরাহ্ন  |  ১৪১৭৮০৩ বার পঠিত
জাল জামিননামায় আসামির মুক্তি! কারারক্ষীসহ দুইজন রিমান্ডে
ছবির ক্যাপশন: প্রতিকী ছবি

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি : দিনাজপুর জেলা কারাগার থেকে আদালতের স্বাক্ষর জাল করে সাজাপ্রাপ্ত এক আসামিকে মুক্ত করার ঘটনা ঘটেছে। জানা গেছে, ভুয়া জামিননামা ব্যবহার করে আরিফুল ইসলাম (৩২) নামে ওই আসামি জেল থেকে বের হয়ে আত্মগোপনে চলে যান। এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে কারারক্ষী নাজিমুল ইসলামসহ দুজনকে রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।

গত শুক্রবার দিনাজপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের নাজির বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় কারারক্ষী নাজিমুল ইসলাম (ব্যাচ নং–৩০১) ও আরিফুল ইসলামকে এজাহারনামীয় আসামি করা হয়। এছাড়া আরও ১০ থেকে ১২ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

রোববার আদালত মূল আসামি আরিফুল ইসলামের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে শুক্রবার থেকে কারারক্ষী নাজিমুল ইসলামও পাঁচ দিনের রিমান্ডে রয়েছেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, “পলাতক আরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে ৬ অক্টোবর ওয়ারেন্ট ইস্যু হয়। পরে ৯ অক্টোবর পার্বতীপুর থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। আদালতে হাজিরের পর পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।”

সূত্র জানায়, গত ৩০ সেপ্টেম্বর দিনাজপুর জেলা কারাগারে এই ঘটনাটি ঘটে। পার্বতীপুর পৌর এলাকার অ্যামেরিকান ক্যাম্পের বাসিন্দা আরিফুল ইসলামকে তিন মাস আগে মাদক বিক্রির দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত ছয় মাসের কারাদণ্ড দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাদ্দাম হোসেন।

কারাগারে থাকা অবস্থায় আরিফুল আইনজীবী নিয়োগ করলেও জামিন না হওয়ায় বিকল্প পথে বের হওয়ার চেষ্টা শুরু করেন। একপর্যায়ে কারারক্ষী নাজিমুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করে ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে জাল জামিননামা তৈরির চুক্তি করেন। এরপর ৩০ সেপ্টেম্বর সেই ভুয়া কাগজের মাধ্যমে কারাগার থেকে মুক্তি পান আরিফুল ইসলাম।

পরে আদালতে বিষয়টি যাচাই করতে গিয়ে আইনজীবী জানতে পারেন, জামিনের কোনো আদেশই আদালত থেকে হয়নি। তখনই পুরো ঘটনাটি ফাঁস হয়ে যায়।

এ ঘটনার পর দিনাজপুর জেলা কারাগারের কর্মকর্তা, পুলিশ প্রশাসনসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। তদন্তে বেরিয়ে আসে—কারারক্ষী নাজিমুল ইসলামই ভুয়া নথি ব্যবহার করে আরিফুলের মুক্তিতে সহায়তা করেছিলেন।

এ ঘটনায় কারারক্ষী নাজিমুল ইসলামকে একইদিন রাতে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। বর্তমানে তিনি পুলিশের বিশেষ শাখার হেফাজতে আছেন এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। 

দিনাজপুরের জেল সুপার মতিয়ার রহমান বলেন, ‘অভিযুক্ত কারারক্ষীর বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগে মামলা হয়েছে। তদন্তে দোষ প্রমাণিত হলে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

অপরদিকে, পার্বতীপুর মডেল থানা পুলিশের অভিযানে গত ৯ অক্টোবর গ্রেপ্তার হন আরিফুল ইসলাম। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জাল জামিননামার বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে জানায় পুলিশ।

রিপোর্টার্স২৪/এসএন

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪