| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

নাজিরপুরে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের মাঠপর্যায়ে দুর্নীতির মহোৎসব

reporter
  • আপডেট টাইম: অক্টোবর ১৫, ২০২৫ ইং | ১৪:৫০:১০:অপরাহ্ন  |  ১৩৯৪৭৪৪ বার পঠিত
নাজিরপুরে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের মাঠপর্যায়ে দুর্নীতির মহোৎসব
ছবির ক্যাপশন: পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের মাঠপর্যায়ে দুর্নীতির মহোৎসব

 পিরোজপুর প্রতিনিধি: পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলা পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্পে ভূতুরে ঋণ ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, ‘ব্যাংকের মাঠ-সহকারীরা সদস্যদের নামে ভুয়া ঋণ দেখিয়ে সরকারি অর্থ লুটপাট করেছেন।’

বর্তমানে এ প্রকল্পের আওতায় উপজেলায় মোট ২০০টি সমিতি রয়েছে, যেখানে সদস্য সংখ্যা প্রায় ৮ হাজার ৫৮২ জন। এসব সমিতির মাধ্যমে নাজিরপুরে প্রায় ১২ কোটি টাকার সরকারি ঋণ বিতরণ করা হয়েছে।

বুধবার (১৫ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের সামনে কয়েকজনের উপস্থিতি দেখে সাংবাদিকেরা সেখানে গেলে ভুক্তভোগীরা নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির কথা বলেন।

ভুক্তভোগীদের দেওয়া তথ্যে জানা যায়, ‘এই উপজেলার পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের গ্রাহকদের পাস বই মাঠ সহকারীরা নিজেদের কাছে সংরক্ষিত রাখে। মাঠ সহকারীরা গ্রাহকের থেকে ঋণ ও সঞ্চয়ের টাকা উত্তোলনের সময় সাদা একটা কাগজে লিখে দিয়ে আসে, তা যদি গ্রাহকেরা হারিয়ে ফেলে ঋণ ও সঞ্চয়ের টাকার অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায় না।’

পাকুরিয়া গ্রামের হাফিজ এসেছেন অফিসের বর্তমান ম্যানেজারের ফোনে। অফিসে এসে জানেন তাঁর পরিশোধিত টাকার মাত্র ৪ হাজার টাকার ডকুমেন্ট আছে। হাফিজ বলেন, ‘কয়েকবার তিনি ঋণ নিয়েছেন কিন্তু শেষ বারে ৪০ হাজার টাকা ঋণ নেন এবং ৪ হাজার টাকা করে ৬টি কিস্তি দেন। অফিসে এসে দেখেন মাত্র ৪ হাজার টাকা জমা হয়েছে। বইও নেই তাঁর কাছে। তাঁর এলাকার মাঠকর্মী গৌতম মন্ডল তিনি অনেক আগেই শাস্তি স্বরুপ জেলা অফিসে বদলি হয়েছেন কিন্তু সেখানেও যোগদান করেননি। গ্রাহকের ১৯ লক্ষ টাকা আত্মসতের অভিযোগ তার বিরুদ্ধে।’

ষাটোর্ধ্ব অঞ্জলী ব্যানার্জী কেঁদে কেঁদে বলেন, ‘শামচুকে আমি বলেছি আমার কিস্তির টাকা নেও না কেনো। কিন্তু ওর মনে যে এয়া ছিলো জানি না। অফিস আমার কাছে তিন হাজার টাকার মত পেত। দুই দিন আগে এক স্যারে বলে আমার নামে কিস্তি আছে ২০ হাজার টাকার। আমার বইও তারা নিয়ে আসছে।’

২০ হাজার টাকা ঋণ বোঝা মাথায় নিয়ে আসা মুক্তা ব্যানার্জী নামের এক গৃহবধূ বলেন, ‘ আমার কোনো ঋণ ছিলো না। আমার বই পরিশোধ করা। ঋণ নিতে হলে আমার স্বামী ও একজন পরিচিতের স্বাক্ষর দরকার তা আমরা দি নাই। আমাকে ছাড়া আমার স্বামী কিভাবে টাকা উত্তলোন করেছে?’

২০ হাজার টাকা ঋণ নেওয়া পুষ্পা দাশ কয়েকটি কিস্তি দিলেও অফিস এখনো তার কাছে ২০ হাজার টাকাই পাবে।

১৬০০ টাকা সঞ্চয় দেওয়া দিপালী দাশ কয়েকদিন আগে জানতে পারে ২০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছেন তিনি। মাঠকর্মী সামছুল হক ঋণ দেওয়ার কথা বলে ১৬শত টাকা সঞ্চয় নিয়ে ৫-৭দিন অফিসে এনে ঘুড়িয়েছে। ঋণ টাকা তো দূরের কথা সঞ্চয়ই ফেরত দেননি তিনি।

রীনা বেপারী জানান,  ‘সঞ্চয় দিয়ে সামছুর পিছনে ঘুরছি দুই মাস। অফিসে এনে স্বাক্ষর রেখে দিয়ে সঞ্চয়ের টাকা বাড়িতে যেয়ে ফেরত দিয়ে আসে কিন্ত গত পরশু স্যার গেছে আমার নামে ১০ হাজার টাকার ঋণ আছে।’

মাঠ-সহকারীদের অনিয়মের বিষয়ে আরো গ্রাহকরা বলেন, ‘মাঠকর্মীরা আমাদের সঙ্গে সব সময় খারাপ আচরণ করে। তারা স্থানীয় ও দীর্ঘদিন উপজেলায় চাকরি করাতে কেউ প্রতিবাদ করে না। তারা সব সময় পাশ বই বিহীন কিস্তি ও সঞ্চয়ের টাকা উত্তোলন করেন।’  

রাজীব মন্ডল নামের এক ব্যক্তি বলেন, ‘তার ঋণ পরিশোধ হওয়া বইতে উত্তোলন হওয়া শর্তেও আবার নতুন করে কিস্তি নিতে বাড়ি যাচ্ছেন মাঠকর্মী।’ 

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে মাঠ-সহকারী সামছুল হক ও গৌতম মন্ডল এর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

সামছুল হক শাস্তি স্বরুপ বদলি হয়ে বরিশাল অফিসে আছেন। তার জায়গায় আছেন পংকজ কুমার রায়, তিনি জানান, ‘মাঠে জানতে পারছি সামছুল হক এর সমিতিতে নানা সমস্যা আছে, অনেক সদস্যদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া, অনেক সময় সদস্যের নাম দিয়ে ঋণ নেওয়ার অভিযোগ।’

পাশ বইয়ের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে পংকজ কুমার জানান, ‘একশর মত বই তার কাছে আছে বাকিগুলো জানেনা। অডিট করার জন্য বই কাছে রাখছি।’

 কিন্তু এক মাস অডিট শেষ হলেও এখনো বই জমা দিচ্ছেন না কেনো জানতে চাইলে অফিস থেকে বের হয়ে যান।

সামছুল হকের স্ত্রী একই অফিসে ক্যাশ-সহকারি পদে চাকরিতে রয়েছেন। তিনি জানান, ‘তার চাকরির সময়ে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি।’

নাজিরপুর উপজেলা শাখা ব্যবস্থাপক মো. মহিউদ্দিন বলেন, ‘আমার কাছে কোন গ্রাহক লিখিত অভিযোগ দিলে তা আমি তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করব। কয়েকজন অফিসে এসেছে তাঁদের কাছ থেকে আজ লিখিত অভিযোগ নিয়ে তা তদন্ত শুরু করবো। এই লোনগুলোর সময়ে আমি এখানে কর্মরত ছিলাম না।’

রিপোর্টার্স২৪/প্রীতিলতা

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪