রাজবাড়ী প্রতিনিধি : রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ মোড়ের বাসিন্দা মো. সুমন শেখ প্রায় এক বছর আগে আক্রামুজ্জামান নামে এক সিল কন্ট্রাক্টরকে সাড়ে আট হাজার টাকা দিয়েছিলেন। কিন্তু কাজ না হওয়ায় সেই টাকা ফেরত চাইতে তিনি (বিআরটিএ) কার্যালয়ে আসেন। আর তাতেই চটে যান আক্রামুজ্জামান। চরথাপ্পর মেরে আহত করেন সুমন শেখকে। বর্তমানে এভাবেই চলছে রাজবাড়ী (বিআরটিএ) কার্যালয়। দালালদের দৌরাত্ম্যে এখন অতিষ্ট সেবাগ্রহীতারা।
রাজবাড়ী শহরের বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) কার্যালয় এখন যেন কোনো সরকারি অফিস নয়, বরং দালাল ও ঘুষখোরদের রাজত্ব। দালাল ছাড়া কোনো কাজ হয় না। টাকা না দিলে ফাইল নড়ে না, টাকা দিলেও কাজ হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।
স্থানীয় এক সেবাগ্রাহক বিল্লাল হোসেন বলেন, আমার ভারী লাইসেন্স হালকা করতে আক্রামুজ্জামান ৮ হাজার টাকা চায়। আমি ৬ হাজার দিই, কিন্তু দুই বছরেও কাজ হয়নি। এখন ফোন ধরেও না।
অভিযোগ আছে, দালালের বাইরে কেউ লাইসেন্স করতে গেলে পরীক্ষায় ইচ্ছাকৃতভাবে ফেল করানো হয়।
একজন আবেদনকারী জানান, তিনবার ফেল করানোর পর এক দালালকে ১৯ হাজার টাকা দিয়েছি। এখন দেড় বছর ঘুরছি—না কাজ হয়, না টাকা ফেরত দেয়।
দালাল চক্রের বিরুদ্ধে গত ৭ মে অভিযান চালিয়েছিল দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ফরিদপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. মোস্তাফিজের নেতৃত্বে অভিযানে সিল কন্ট্রাক্টর আক্রামুজ্জামানসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে ৭২ হাজার ৪২০ টাকা উদ্ধার করা হয়। দুদকের নির্দেশে মামলা হলেও জামিনে বেরিয়ে এসে তারা আবার আগের মতোই সক্রিয় হয়ে গেছে।
অভিযোগ আছে, সরকারি চাকরি না করেও আক্রামুজ্জামান এখন কোটি টাকার মালিক। রাজবাড়ী শহরের ২ নম্বর বেড়াডাঙ্গায় দুইতলা বাড়ি, জাপানি প্রাইভেটকার এবং সজ্জনকান্দায় ১ কোটি ২৬ লাখ টাকায় কেনা ভবন—সবই নাকি এই সিল কন্ট্রাক্টরের।
রাজবাড়ী বিআরটিএর সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিন) মো. নাসির উদ্দিন বলেন, আক্রামুজ্জামান বিআরটিএর কেউ নন। তিনি একজন বহিরাগত। সেবাগ্রহীতাকে মারধরের বিষয়ে এডিএম স্যার আমাকে জানিয়েছেন। আমি বর্তমানে বাইরে আছি, পরে বিস্তারিত জানাব।
এদিকে প্রতিদিন শত শত মানুষ রাজবাড়ী বিআরটিএ অফিসে যান সেবা নিতে, কিন্তু ফিরে আসেন ক্ষোভ ও নিরাশা নিয়ে। অফিসের ভেতরে দালালদের দৌরাত্ম্য, বাইরে তাদের আধিপত্য—সবই প্রকাশ্য। তবুও যেন প্রশাসনের চোখে ধুলো পড়ে আছে।
সেবাগ্রহীতাদের দাবি, যতদিন না এই দালাল সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে, রাজবাড়ী বিআরটিএ অফিস থেকে সেবা নয়, কেবল হয়রানিই পাবেন সাধারণ মানুষ।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন