মান্দা প্রতিনিধি : দলীয় আদর্শ ও শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ডা. ইকরামুল বারী টিপুর সঙ্গে সব ধরনের রাজনৈতিক সম্পর্ক ছিন্নের ঘোষণা দিয়েছে মান্দা উপজেলা বিএনপি। বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার প্রসাদপুর বাজারের মনসুর মৃধার আমবাগানে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন উপজেলা বিএনপির নেতারা।
লিখিত বক্তব্যে উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসেন খান বলেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি ঐক্যবদ্ধভাবে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু ডা. ইকরামুল বারী টিপু সাম্প্রতিক সময়ে দলীয় নেতৃত্বকে পাশ কাটিয়ে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছেন।
তিনি বলেন, গত ২১ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় এশিয়ান টিভির এক অনুষ্ঠানে ডা. ইকরামুল বারী টিপু মামলা-সংক্রান্ত মিথ্যা তথ্য ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিয়েছেন।
সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেছেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে তাঁর বিরুদ্ধে সাতটি নাশকতার মামলা হয়েছিল—যা সম্পূর্ণ মিথ্যা। বরং অতীতে মুনসুর মৃধা হত্যা মামলার ১ নম্বর আসামি ছিলেন ডা. টিপু। এ মামলার কারণে তিনি দল থেকে বহিষ্কার হন। পরে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাদের সহায়তায় মামলাটি প্রত্যাহারের আবেদন করেন বলেও অভিযোগ করা হয়। তাছাড়া ৫ আগস্টের পর বিল মান্দা এলাকায় ১৮ একর জমি দখলে তিনি জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ আছে। এ ঘটনায় স্থানীয়রা মানববন্ধন ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বলেও জানানো হয়।
বেলাল হোসেন আরও অভিযোগ করেন, ডা. টিপু উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাদের অবহিত না করে সভা-সমাবেশ করছেন এবং গণমাধ্যমে মিথ্যা তথ্য দিচ্ছেন।
নেতারা বলেন, ২০০৬ সালের নির্বাচনের আগে ডা. টিপু সংস্কারপন্থী হয়ে বিকল্পধারায় যোগ দেন এবং নির্বাচনে প্রার্থী হন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে তিনি বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীর বিরোধিতা করে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ইমাজ উদ্দিন প্রামানিককে প্রকাশ্যে সমর্থন দিয়ে কলসি মার্কার পক্ষে ভোট করেন—যা দলের সঙ্গে বেইমানি করা ছাড়া আর কিছু নয়।
সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা দেওয়া হয়, “ডা. ইকরামুল বারী টিপুর আদর্শবিরোধী কর্মকাণ্ড, মিথ্যাচার ও শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ভার মান্দা উপজেলা বিএনপি কোনোভাবেই বহন করবে না। তাই তাঁর সঙ্গে সব রাজনৈতিক সম্পর্ক ছিন্নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে মান্দা উপজেলা বিএনপি পরিবার।”
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, মান্দা উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক এম. এ. মতিন, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি এ. কে. এম. নাজমুল হক নাজু, সহসভাপতি তোফাজ্জল হোসেন টুকু, আলহাজ্ব মন্টু মৃধা ও রফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম চৌধুরী বাবুল, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসেন খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক শামসুল ইসলাম বাদল, অ্যাডভোকেট কুমার বিশ্বজিৎ সরকার, দপ্তর সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ এবং সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান জামিলা আক্তার ফেন্সি প্রমুখ।
এছাড়াও উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক নুরুল ইসলাম, যুগ্ম আহ্বায়ক ডি. এম. আবদুল মালেক, সাদেকুল ইসলাম, জুয়েল রানা, শরিফুল ইসলাম বেলাল, অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান ও সিদ্দিক হোসেন, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব পলাশ কুমারসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন