| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

রাঙ্গামাটিতে শেষ হলো ৪৯তম দানোত্তম কঠিন চীবর দানোৎসব

reporter
  • আপডেট টাইম: অক্টোবর ৩১, ২০২৫ ইং | ১২:৫৭:২৮:অপরাহ্ন  |  ১৩০৩৫৭৬ বার পঠিত
রাঙ্গামাটিতে শেষ হলো ৪৯তম দানোত্তম কঠিন চীবর দানোৎসব
ছবির ক্যাপশন: রাঙ্গামাটিতে শেষ হলো ৪৯তম দানোত্তম কঠিন চীবর দানোৎসব

রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি: বনভান্তের উদ্দেশে চীবর ও কল্পতরু দানের মধ্য দিয়ে রাঙ্গামাটির রাজবন বিহারে শেষ হয়েছে পার্বত্যঞ্চলের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দানোত্তম কঠিন চীবর দানোৎসব। বৃহস্পতিবার বিকেলে বেইনঘর উদ্বোধনের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই দুই দিনব্যাপী উৎসব আজ শুক্রবার ( ৩১ অক্টোবর) দুপুরে চীবর দান অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শেষ হয়।

   চীবর দান অনুষ্ঠানে বনভান্তের মানবপ্রতিকৃতির উদ্দেশে কঠিন চীবর উৎসর্গ করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সহসভাপতি ও সাবেক সাংসদ ঊষাতন তালুকদার। এ সময় রাজবন বিহারের আবাসিক প্রধান শ্রীমৎ প্রজ্ঞালঙ্কার মহাস্থবিরের হাতে চীবর তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন রাউজান পাহাড়তলী মহামুনি বৌদ্ধ বিহারের প্রধান উপসংঘরাজ ধর্মপ্রিয় মহাথের, রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিব উল্লাহ, বিএনপির কেন্দ্রীয় ধর্মবিষয়ক সহসম্পাদক দীপেন দেওয়ানসহ অসংখ্য দায়ক-দায়িকা ও ভক্তরা।

এর আগে সকালে বুদ্ধ পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। সকাল ১০টায় সকল প্রাণীর মঙ্গল কামনায় ধর্মদেশনা দেন রাজবন বিহারের আবাসিক প্রধান শ্রীমৎ প্রজ্ঞালঙ্কার মহাস্থবির। দুপুরে বনভান্তের স্মৃতির উদ্দেশে চীবর দান অনুষ্ঠিত হয়। চীবরদান উপলক্ষ্যে এদিন তিন পার্বত্য জেলা থেকে হাজারো পুণ্যার্থী কল্পতরু নিয়ে রাজবন বিহার প্রাঙ্গণে সমবেত হন। 

উপাসক–উপাসিকা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অমিয় খীসা জানান, ‘এ বছর প্রায় ২০০ বেইন ও দেড় শতাধিক চরকার সাহায্যে ৬ শতাধিক দায়ক-দায়িকা চীবর বুননের কাজে অংশ নেন।’ 

রাজবন বিহারের আবাসিক প্রধান প্রজ্ঞালঙ্কার মহাস্থবির ধর্মদেশনায় বলেন, ‘মানব জীবনের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত অন্যের উপকারে আসা, ভালোবাসা ও মৈত্রীর বন্ধনে আবদ্ধ থাকা। এই চেতনার মধ্য দিয়েই দুঃখ ও গ্লানির অবসান সম্ভব।’

প্রসঙ্গত, বৌদ্ধ শাস্ত্র অনুযায়ী আড়াই হাজার বছর আগে গৌতম বুদ্ধের উপাসিকা বিশাখা এই চীবর তৈরির প্রথা প্রবর্তন করেন। আষাঢ়ী পূর্ণিমা থেকে কার্তিকী পূর্ণিমা পর্যন্ত তিন মাস বর্ষাবাস শেষে ভিক্ষুদের চীবর দান করার এই ঐতিহ্য এখনো বজায় রয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে ১৯৭৪ সালে সর্বোচ্চ ধর্মগুরু সাধনানন্দ মহাস্থবির (বনভান্তে) লংগদু উপজেলার তিনটিলা বনবিহারে এই দান প্রথার প্রবর্তন করেন। রাঙ্গামাটির রাজবন বিহারে প্রথম কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭৬ সালে।

রিপোর্টার্স২৪/ প্রীতিলতা

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪