বান্দরবান প্রতিনিধি: বর্ণাঢ্য আয়োজনে ও ধর্মীয় উৎসাহ-উদ্দীপনায় বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলায় অনুষ্ঠিত হলো ৫৬তম ‘দানোত্তম কঠিন চীবর দানোৎসব’। মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) সকাল থেকে কেন্দ্রীয় জেতবন বৌদ্ধ বিহারে ভক্ত-অনুরাগীদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে বিহার প্রাঙ্গণ।
সকালেই ভক্তরা ‘ছোয়াইং’ (ধর্মীয় গুরুদের জন্য রান্না করা বিশেষ আহার) বহন করে বিহারে আসেন। পরে ধর্মীয় আলোচনায় বৌদ্ধ ভিক্ষুগণ শান্তি, করুণা ও মানবকল্যাণের বাণী তুলে ধরেন। আলোচনা শেষে ভিক্ষু সংঘের উদ্দেশে দান ও আহার পরিবেশন করা হয়। ভক্তরাও অংশ নেন সমবেত ভোজে।
দুপুরে শুরু হয় দ্বিতীয় পর্ব। দায়ক-দায়কারা নিজেদের হাতে তৈরি চীবর নিয়ে বিহারে সমবেত হন। ধর্মদেশনার মাধ্যমে জীবনে নৈতিকতা, সংযম ও মানবিকতার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। পরে ধর্মীয় আচার ও বৌদ্ধ সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে ভিক্ষুদের হাতে ত্রি-চীবর দান করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য কে এস মং। তিনি রোয়াংছড়ি পৌঁছালে স্থানীয়দের উষ্ণ অভ্যর্থনা পান এবং চীবর দানে অংশ নেন।
এছাড়া জেলা-উপজেলার বিভিন্ন বৌদ্ধ বিহারের ভিক্ষু সংঘ, বিহার ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য এবং বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
কঠিন চীবর দানোৎসব বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। আষাঢ়ী পূর্ণিমা থেকে শুরু হওয়া তিন মাসব্যাপী বর্ষা-ব্রত শেষে এই উৎসব পালিত হয়। এ সময় চাকমা, মারমা, তঞ্চঙ্গ্যা, ত্রিপুরাসহ পাহাড়ি জনগোষ্ঠী একত্রে মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ত্রি-চীবর তৈরি করে দান করেন, যা আত্মশুদ্ধি ও শান্তির প্রতীক হিসেবে বিবেচিত।
বান্দরবান সদর, লামা, রুমা, থানচি ও আলীকদমসহ বিভিন্ন উপজেলা বিহারেও সমান ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে পালিত হচ্ছে অনুরূপ অনুষ্ঠান।